সোমবার, ৬ জুলাই ২০২০, ৫:০৫ এএম

এনামুলের বিরুদ্ধে ভ্রুণ হত্যা-নারী নির্যাতন মামলা করব: লিজা

বিশেষ প্রতিবেদক:
প্রকাশিত: ১০:১৩ পূর্বাহ্ন, ২ জুন ২০২০, মঙ্গলবার


এনামুলের বিরুদ্ধে ভ্রুণ হত্যা-নারী নির্যাতন মামলা করব লিজা

ছবি : সংগৃহীত

রাজশাহী-৪ (বাগমারা) আসনের সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার এনামুল হকের বিরুদ্ধে ভ্রুণ হত্যা, নারী নির্যাতন ও বিয়ে করে প্রতারণার অভিযোগে মামলা দায়ের করবেন বলে জানিয়েছেন তার দ্বিতীয় স্ত্রী আয়েশা আক্তার লিজা। গতকাল সোমবার দিবাগত রাতে নিজের ফেসবুক পেজে শেয়ার করা ভিডিও বার্তায় তিনি এ তথ্য জানান।

ভিডিও বার্তায় লিজা বলেন, ‘আমি সংসারটা টিকিয়ে রাখার জন্য আটটা বছর অনেক চেষ্টা করেছি। কিন্তু সে বারবার আমার সঙ্গে প্রতারণা করেছে। আমি প্রতারিত হতে হতে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছি। আমি আইনের আশ্রয় নিতে চাই। আমি তার বিরুদ্ধে ভ্রুণ হত্যা, নারী নির্যাতন ও প্রতারণার মামলা করব।’

তিনি বলেন, ‘পুলিশ আমার মামলা নিচ্ছে না, অ্যাভয়েড করছে। আমি প্রধানমন্ত্রীর কাছে যাব, একজন নারী হিসেবে বিচার চাইব। আমার বিশ্বাস তিনি নিশ্চয় একজন নারী হয়ে নারীর সুবিচার পেতে সহযোগিতা করবেন।’

আধা ঘণ্টাব্যাপী ওই ভিডিও বার্তায় আয়েশা আক্তার তুলে ধরেন তাদের সম্পর্কের শুরু, বিয়ে, অ্যাবরশন ও মনোমালিন্যের আদ্যোপান্ত। তিনি বলেন, ‘দিনের পর দিন যখন আমি প্রতারিত হয়েছি, বছরের পর বছর আমি প্রতারিত হয়েছি। আমি ২০১৫ সালে প্রথম কনসিভ করলাম (ভ্রুণ হত্যা)। ওর বাচ্চাটা যখন আমার পেটে তখন আমি বললাম, আমি বাচ্চাটা নেব। ও আমাকে বলল, আমার নির্বাচনের প্রবলেম হবে এখন বাচ্চা নিও না। নির্বাচনের পর আমি তোমাকে বাচ্চা দেব।’

তিনি বলেন, ‘তার নির্বাচনে যাতে কোনো প্রবলেম না হয়, তার যেন ভালো হয় সেজন্য আমি আমার বাচ্চাটা নষ্ট করছি। আমি যদি খারাপ মেয়ে হতাম, তার কাছ থেকে কিছু চাইতাম। তাহলে তো আমার বাচ্চাটা নষ্ট করার দরকার ছিল না। আজকে সে আমাকে ছুড়ে ফেলতে পারছে। বাচ্চাটা থাকলে সে আমাকে ছুড়ে ফেলতে পারতো না।’

‘নির্বাচনে নমিনেশন পাওয়ার পর সে আমাকে বলল, আমার তো নমিনেশন কনফার্ম। চলো রেজিস্ট্রিটা করে ফেলি। তখন ১১ মে ২০১৮ সালে আবার রেজিস্ট্রি করে। আমরা সেখানে দ্বিতীয়বারের মতো বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হই’ বলেন লিজা।

তিনি আরও বলেন, ‘নির্বাচন তো হয়ে গেল। আমি এক বছর চুপ থাকলাম। কয়েক মাস থেকে আমি তাকে বলছি, নির্বাচন তো এক বছর আগে হয়ে গেল। এখন তুমি আমাকে স্বীকৃতি দিবা। এখন তো আমাদের একটা বাচ্চা নেওয়ার দরকার। আমার তো একটা লাইফের ব্যাপার আছে। আমি তোমার সঙ্গে ৮ বছর কাটালাম। পরবর্তীতে তো আর কারও সঙ্গে বিয়ে করা সম্ভব নয়।’

লিজা বলেন, ‘মাস খানেক আগে আমি তাকে বলি, এখন তুমি আমাকে মানুষের সামনে নিয়ে যাও। একটা বেবি দাও। এগুলো নিয়ে মনোমালিন্য শুরু হয়। তখন আমি অভিমান করে বলি, তুমি যদি আমাকে বাচ্চা দিতে না পার, তবে ডিভোর্স করে দাও। কী করব? এভাবে তো আমি জীবনটা কাটাতে পারি না।’

‘কথাটা আমি তাকে বলছিলাম ইমোশনালি। কিন্তু সে সত্যি সত্যি যে আমাকে ডিভোর্স দেবে তা বিশ্বাস করতে পারি নাই। তারপর আমাদের রিলেশন রানিং। চাঁদ রাতের দিন হঠাৎ সে আমাকে বলতেছে, তুমি তো আমাকে ডিভোর্স করে দিছো। আমি তো তোমার ডিভোর্স পেয়ে গেছি’, যোগ করেন এমপি এনামুলের দ্বিতীয় স্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘তখন আমি তাকে বললাম, তুমি কেমনে ডিভোর্স পাইলা। আমি তো কোথাও গিয়ে তোমাকে ডিভোর্স করি নাই। তখন ও আমাকে একটা কাগজ দিল হোয়াটসঅ্যাপ। ওই কাগজটা দেখে আমার ডিপ্রেসড হয়েছি। খাইতে পারি না, ঘুমাইতে পারি না।’

‘আমি টাকা পয়সার জন্য না, শুধুমাত্র তাকে ভালোবেসে এতটা দিন এতটা সময় তার সঙ্গে কাটিয়েছি। এখন সে আমাকে বলে তুমি প্রোস্টিটিউট, জঙ্গিবাদ। আমি নামাজ-কালাম পড়ি, সেজন্য জঙ্গিবাদ বলে’ বলেন লিজা।

প্রসঙ্গত, আয়েশা আক্তার লিজার বাড়ি রাজশাহী নগরীর তেরোখাদিয়া এলাকায়। তিনি একজন নারী উদ্যোক্তা। তার অভিযোগ, কয়েক বছর আগে এমপি এনামুল হক তাকে প্রেমের প্রস্তাব দেয় ও সম্পর্কে জড়ায়। দীর্ঘদিনের সম্পর্কের পর তারা ১১ মে ২০১৮ তারিখে রেজিস্ট্রি করেন। এর আগে তারা পারিবারিকভাবে বিয়েও করেছিলেন।

তবে এখন আর তাকে স্বীকৃতি দিচ্ছেন না এমপি এনামুল। বাধ্য হয়ে তিনি গেল কয়েকদিন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের অসহায়ত্ব তুলে ধরছেন। এরপর থেকে এমপি এনামুলের লোকজন তাকে হত্যা ও মামলা দিয়ে ফাঁসানোর হুমকি দিচ্ছেন।

তবে এতদিন লিজা এনামুলের বিরুদ্ধে অভিযোগ করলেও চুপ ছিলেন এমপি। সোমবার তিনিও মুখ খুলেছেন। গণমাধ্যমে এমপি এনামুল বিয়ের বিষয়টি স্বীকার করেছেন। তিনি বলেছেন, ‘এই মহিলাকে আমি ২০১৮ সালে বিয়ে করেছিলাম। ডিভোর্স করেছি গত মাসে। এখন কী বক্তব্য থাকতে পারে। এখন যেগুলো করছে, সেটা চাঁদাবাজির জন্য করছে।’

মন্তব্য করুন

সর্বশেষ নিউজ

আরো পড়ুন