শুক্রবার, ২৯ মে ২০২০, ৭:৪১ এএম

ভিন্ন পেশায় পরিবহন শ্রমিকরা

প্রতিদিনের কাগজ প্রতিবেদক:
প্রকাশিত: ৮:২৯ পূর্বাহ্ন, ১৭ মে ২০২০, রোববার


ভিন্ন পেশায় পরিবহন শ্রমিকরা

ফাইল ছবি ।

তৈরি পোশাক কারখানার চাকরি ছেড়ে চার বছর আগে পরিবহন চালকের সহকারীর কাজ শুরু করেছিলেন রাকিব হোসেন। দিনে ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা রোজগার হতো। গাড়ি বন্ধ হওয়ার পর কিছু দিন বসেছিলেন। অভাবের তাড়নায় এখন রিকশা চালাচ্ছেন। রাকিবের মতো পরিবহন শ্রমিকদের অনেকেই বেছে নিয়েছেন নতুন পেশা। অনেকে এখন ভ্রাম্যমাণ ব্যবসায়ী। মৌসুমি ফল বা সবজি বিক্রি করছেন। ঈদ উপলক্ষে ভ্যানগাড়িতে কাপড়চোপড় নিয়ে ফেরি করছেন অনেকে।

রাকিব বলেন, ‘কোনো শ্রমিকই এমন দুর্দিনের জন্য প্রস্তুত ছিল না। প্রতিটি বাসে চালকসহ তিন থেকে চারজন শ্রমিক থাকে। করোনার কারণে গাড়ি বন্ধ হওয়ার পর মালিক সবাইকে বিদায় করে দিয়েছেন।’

রাজধানীর জোয়ারসাহারা এলাকায় ভ্যানে সবজি বিক্রি করছেন পরিবহন শ্রমিক মো. নয়ন। তিনি জানান, ঘরে বসে থাকতে থাকতে জমানো টাকা শেষ। স্বজনদের কাছ থেকে কিছু ধারকর্জ করেছেন। কোনো উপায় না দেখে রমজানের শুরুতে ভ্যানগাড়ি ভাড়া করে সবজি বিক্রি করছেন। বাবা-মা, দুই সন্তানসহ তাঁর সংসারে ছয় সদস্য। নয়ন বলেন, দিন শেষে ভ্যান ভাড়া দেওয়ার পর কিছু টাকা থাকে। একটু কষ্ট হলেও পরিবার নিয়ে চলতে পারছেন।

নয়নের মতো সবজি ব্যবসায়ী এখন ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটের বাসচালক হিমেল মিয়া। তিনি বলেন, ‘আগে দিনে হাজার দেড়েক টাকা আয় হতো। এখন তার চেয়ে কম আয় হচ্ছে। মা-বাবা, দুটি সন্তাসহ ছয়জনের সংসার চালাতে কষ্ট হচ্ছে।’

ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটের হানিফ পরিবহনের চালক বাবুল মিয়া বলেন, ‘হাতে টাকা নেই, ব্যাংকেও নেই। পথে হেঁটে ত্রাণ পেলে বাসায় ফিরি। রাতেও জাহাঙ্গীর গেটের কাছে সড়কে বসে থাকি।’

সারা দেশে সিএনজি অটোরিকশা ও অটোটেম্পো শ্রমিক আছেন আট লাখ। বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক লীগের সভাপতি মোহাম্মদ হানিফ (খোকন) বলেন, ‘অটোরিকশা ও অটোটেম্পো চালকরা ঘরবন্দি। ছোট ব্যবসায় নামার পুঁজিও তাদের নেই। তাদের ঈদের আনন্দ তো আগেই মাটি হয়ে গেছে।’

মন্তব্য করুন

খবর অনুসন্ধান

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০
১১১২১৩১৪১৫১৬১৭
১৮১৯২০২১২২২৩২৪
২৫২৬২৭২৮২৯৩০৩১

সর্বশেষ নিউজ

আরো পড়ুন