শুক্রবার, ২৯ মে ২০২০, ৭:৩৭ এএম

বিদেশে সিন্ডিকেটের কারণে ভেন্টিলেটর পেতে দেরি

প্রতিদিনের কাগজ ডেস্ক:
প্রকাশিত: ৮:১২ পূর্বাহ্ন, ১৭ মে ২০২০, রোববার


বিদেশে সিন্ডিকেটের কারণে ভেন্টিলেটর পেতে দেরি!

ছবি : সংগৃহীত ।

জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া দিতে চায় স্বাস্থ্য সরঞ্জাম

নভেল করোনাভাইরাস চিকিৎসায় অত্যাবশ্যকীয় হয়ে উঠেছে ভেন্টিলেটর বা কৃত্রিমভাবে শ্বাস-প্রশ্বাস নেওয়ার যন্ত্র। করোনা সংক্রমণের পর অনেক রোগীর তীব্র শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে তাদের ভেন্টিলেটর প্রয়োজন হয়।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য মতে, দেশে সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতাল মিলে এখন এক হাজার ২৫০টি ভেন্টিলেটর আছে; যা প্রয়োজনের তুলনায় খুবই নগণ্য। এপ্রিলের শুরুতে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বিদেশ থেকে ভেন্টিলেটর আমদানির ঘোষণা দিলেও এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই।

ভেন্টিলেটর আমদানির খবর নিতে গিয়ে জানা গেল, সারা বিশ্বে প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের কবলে পড়েছে কৃত্রিমভাবে শ্বাস-প্রশ্বাস নেওয়ার যন্ত্রটি। বিশ্বের বড় বড় কম্পানি ও বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান যোগসাজশ করে ভেন্টিলেটর মজুদ করে ফেলেছে। এখন উচ্চমূল্য হাঁকানো হচ্ছে। সরকার বিভিন্ন দেশে চেষ্টা করেও ভেন্টিলেটর পাচ্ছে না। এমনকি বিশ্বব্যাংকের মতো বহুজাতিক সংস্থা বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ভেন্টিলেটর পাওয়ার চেষ্টা করেও পাচ্ছে না। কবে নাগাদ ভেন্টিলেটর আসবে, তা-ও অনিশ্চিত।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে পাওয়া তথ্য বলছে, বিশ্বব্যাংকের টাকায় সরকার বিদেশ থেকে ৩৭০টি ভেন্টিলেটর আমদানির উদ্যোগ গ্রহণ করে গত মাসে। যার মধ্যে প্রাথমিকভাবে ২০০টি ভেন্টিলেটর আমদানি করা হবে। ‘কভিড-১৯ ইমার্জেন্সি রেসপন্স অ্যান্ড পেন্ডেমিক প্রিপেয়ারনেস’ শিরোনামের একটি প্রকল্পের আওতায় বহুজাতিক সংস্থাটি বাংলাদেশকে সহজ শর্তে ১০ কোটি ডলার বা ৮৫০ কোটি টাকা ঋণ দিচ্ছে। এর সঙ্গে আরো ২৭৭ কোটি টাকা যোগ করে মোট এক হাজার ১২৭ কোটি টাকা ব্যয়ের এ প্রকল্পটি গত ২০ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অনুমোদন দেন। এই প্রকল্পের আওতায় চীন ও থাইল্যান্ড থেকে ব্যক্তিগত সুরক্ষা উপকরণ (পিপিই) ও মাস্ক চলে এলেও বহু কাঙ্ক্ষিত ভেন্টিলেটর মিলছে না।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সারা বিশ্বে ভেন্টিলেটর সংকটের কারণে বিশ্বব্যাংক নিজেই দায়িত্ব নেয় বাংলাদেশ, ভারতসহ কয়েকটি দেশের জন্য ভেন্টিলেটর সংগ্রহ করে দেওয়ার। কিন্তু যুক্তরাজ্যের একটি কম্পানির সঙ্গে যোগাযোগ করার পর সেই কম্পানি জানিয়েছে, আগস্টের আগে ভেন্টিলেটর দেওয়া সম্ভব নয়। অনেক বড় বড় প্রভাবশালী কম্পানি আগেই ভেন্টিলেটর সংকটের বিষয়টি টের পেয়ে কিনে মজুদ করে রেখেছে। যার ফলে বিশ্ববাজারে এখন কৃত্রিমভাবে শ্বাস-প্রশ্বাস নেওয়ার যন্ত্রটি মিলছে না। মিললেও কিনতে হচ্ছে চড়া দামে।

অন্যদিকে চীন বলেছে, তাদের ২০০ ভেন্টিলেটরের পুরো টাকা দিলেই ভেন্টিলেটর দেবে। কিন্তু বিশ্বব্যাংকের বর্তমান যে ক্রয়নীতিমালা রয়েছে, সেখানে পণ্য হাতে পাওয়ার আগে ১০ শতাংশ অগ্রিম টাকা দেওয়ার সুযোগ রয়েছে। তবে দুর্যোগের সময় অগ্রিম সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ পর্যন্তও দেওয়ার নিয়ম রয়েছে। কিন্তু পণ্য বুঝে পাওয়ার আগে পুরো টাকা ছাড়ের সুযোগ নেই। যার ফলে চীনও রাজি হয়নি। আবার বিশ্বব্যাংকও চীন থেকে ভেন্টিলেটর কিনতে রাজি হয়নি। চীনের কাছে ভেন্টিলেটর না পেয়ে ইউনিসেফের মাধ্যমে যুক্তরাজ্যের একটি কম্পানির সঙ্গে যোগাযোগ করে বিশ্বব্যাংক। কিন্তু সেখান থেকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, আগস্টের আগে সরবরাহ করা সম্ভব নয়। বিশ্বব্যাংকের কাছ থেকে এমন সংবাদ পাওয়ার পর সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ভেন্টিলেটরের জন্য এত দিন অপেক্ষা করা ঠিক হবে না। বিকল্প উপায় বের করতে হবে। সরকার এখন জার্মানি, আয়ারল্যান্ড ও ইংল্যান্ডের কয়েকটি বিক্রেতা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ করছে।

জানতে চাইলে প্রকল্প পরিচালক অধ্যাপক ইকবাল কবির বলেন, ‘আমরা কয়েকটি দেশের সঙ্গে যোগাযোগ করছি ভেন্টিলেটর আনার জন্য। প্রাথমিকভাবে ২০০টি ভেন্টিলেটর আমদানি করা হবে। আমাদের আগে কারা দিতে পারবে, আমরা তাদের কাছ থেকেই আনব।’ তিনি আরো বলেন, ‘বিশ্বব্যাংকের এই প্রকল্পের আওতায় আমরা এরই মধ্যে চীন ও থাইল্যান্ড থেকে পিপিই এবং মাস্ক এনে তা সারা দেশে বিতরণ করেছি। সমস্যা হয়ে গেছে ভেন্টিলেটরে। আশা করছি, সেটিও মিলবে। তবে কিছুটা সময় লাগবে।’

এদিকে কভিড-১৯ মোকাবেলায় বাংলাদেশকে এক কোটি ডলার ঋণ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়ার ইকোনমিক ডেভেলপমেন্ট কো-অপারেশন ফান্ড (ইডিসিএফ)। বাংলাদেশি মুদ্রায় যার পরিমাণ ৮৫ কোটি টাকা। এই টাকা দিয়ে স্বাস্থ্য সরঞ্জাম কিনতে পারবে সরকার। তবে সংস্থাটি প্রস্তাব দিয়েছে, ওই টাকা দিয়ে দক্ষিণ কোরিয়া থেকেই স্বাস্থ্য সরঞ্জাম কিনতে হবে। যদিও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বলছে, ইডিসিএফ কোনো বাধ্যবাধকতা দেয়নি। শুধু প্রস্তাব দিয়েছে। সরকার সেই দেশ থেকে স্বাস্থ্য সরঞ্জাম কিনব কি না সেটা সরকারের সিদ্ধান্ত।

অন্যদিকে বাংলাদেশ সরকারকে চিঠি দিয়েছে অনতম বন্ধুপ্রতিম দেশ জাপানও। করোনা মোকাবেলায় স্বাস্থ্য সরঞ্জামের একটি তালিকা পাঠানো হয়েছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে। যার মধ্য থেকে কী কী স্বাস্থ্য সরঞ্জাম লাগবে তা জানাতে বলা হয়েছে।

অধ্যাপক ইকবাল কবির জানান, ‘আমরা এরই মধ্যে জাপানকে জানিয়েছি, আমাদের কী কী লাগবে।’

মন্তব্য করুন

খবর অনুসন্ধান

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০
১১১২১৩১৪১৫১৬১৭
১৮১৯২০২১২২২৩২৪
২৫২৬২৭২৮২৯৩০৩১

সর্বশেষ নিউজ

আরো পড়ুন