শনিবার, ৩০ মে ২০২০, ১:৪০ এএম

মহামারি ও পঙ্গপাল নিয়ে আল কুরআনের দৃষ্টিকোণ

প্রতিদিনের কাগজ ডেস্ক:
প্রকাশিত: ১০:৩৮ পূর্বাহ্ন, ১০ মে ২০২০, রোববার


মহামারি ও পঙ্গপাল নিয়ে আল কুরআনের দৃষ্টিকোণ

ছবি : সংগৃহীত ।

সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়া করোনা ভাইরাস নিয়ে ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে যাঁরা ব্যাখ্যা করছেন তাঁরা বলছেন, করোনা মহামারি স্রষ্টার নির্দেশনা অমান্য করার শাস্তি ও সতর্কতা, মানুষ যাতে স্রষ্টার নির্দেশিত পথে জীবন যাপন করে। এ ক্ষেত্রে ইসলাম ধর্মের অনুসারীদের মতে, মহামারি আল্লাহর শাস্তি ও সতর্কবার্তা। এ বিষয়ে পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘মানুষের কৃতকর্মের ফলে স্থলে ও সমুদ্রে বিপর্যয় ছড়িয়ে পড়ে; যার ফলে তাদের কৃতকর্মের কোনো কোনো কর্মের শাস্তি তাদের তিনি আস্বাদন করান, যাতে তারা ফিরে আসে।’ (সুরা রুম, আয়াত : ৪১)

পবিত্র কুরআনের দুটি সুরায় মহামারির কথা এসেছে। প্রথমটি সুরা বাকারার ২৪৩ নম্বর আয়াতে। এখানে উল্লেখ রয়েছে, বনি ইসরাঈলের একটি দলের মাঝে মহামারি দেখা দিয়েছিল। আল্লাহর নির্দেশ ছিল মৃত্যুভয়ে পলায়ন না করার। কিন্তু তারা পালিয়ে নিজেদের দেশ ছেড়ে অন্যত্র চলে গিয়েছিল। দুই পাহাড়ের মাঝে একটি উপত্যকায় তারা সমবেতভাবে পালিয়ে এসেছিল। আল্লাহ তাদের সবাইকে একসঙ্গে মৃত্যু দেন। কুরআনের ভাষায়, ‘তুমি কি তাদের দেখোনি, মৃত্যুভয়ে তাদের হাজার হাজার মানুষ আপন ঘরবাড়ি পরিত্যাগ করেছিল? অতঃপর আল্লাহ তাদের বলেছিলেন, তোমাদের মৃত্যু হোক। পরে তাদের জীবিত করলেন। নিশ্চয়ই, আল্লাহ মানুষের প্রতি অনুগ্রহশীল; কিন্তু বেশির ভাগ লোক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে না।’

অন্যদিকে সুরা আরাফে আছে, মিসরের কিবতিদের আল্লাহ মহামারি দিয়েছিলেন। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘অতঃপর আমি তাদের প্লাবন, পঙ্গপাল, উকুন, ব্যাঙ ও রক্ত দ্বারা ক্লিষ্ট করি। এগুলো স্পষ্ট নিদর্শন; কিন্তু তারা দাম্ভিকই রয়ে গেল, আর তারা ছিল এক অপরাধী সম্প্রদায়।’ (সুরা আরাফ, আয়াত : ১৩৩)

ব্যাপক হারে মানুষ আল্লাহ তাআলার অবাধ্য হলে আল্লাহ পাক পৃথিবীতে গজব নাজিল করেন; যাতে মানুষ তাদের ভুল বুঝতে পেরে তাওবার মাধ্যমে আবার ফিরে আসতে পারে। এই গজব বা মহামারি আসলে তখন করণীয় কী? ইসলামে এ সম্পর্কে সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা রয়েছে। যে কোন মহামারি থেকে বাঁচতে প্রথম ও প্রধান করণীয় হচ্ছে- নিজেদের কৃতকর্ম থেকে তাওবা করা এবং বেশি বেশি ইস্তেগফার করা।

এই মুহূর্তে আমাদের সবার উচিত, মহান আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাওয়া এবং অশ্লীলতা থেকে বিরত থাকা। সর্বদা পবিত্র ও পরিচ্ছন্ন থাকা। কারণ, কিয়ামতের নিদর্শনগুলোর একটি হলো মহামারি। রাসুল (সা.) ইরশাদ করেন, কিয়ামতের আগের ছয়টি নিদর্শন গণনা করে রাখো। আমার মৃত্যু, অতঃপর বায়তুল মুকাদ্দাস বিজয়, অতঃপর তোমাদের মধ্যে ঘটবে মহামারি, বকরির পালের মহামারির মতো, সম্পদের প্রাচুর্য, এমনকি এক ব্যক্তিকে একশ’ দিনার দেয়ার পরও সে অসন্তুষ্ট থাকবে। অতঃপর এমন এক ফিতনা আসবে, যা আরবের প্রতিটি ঘরে প্রবেশ করবে। অতঃপর যুদ্ধবিরতির চুক্তি, যা তোমাদের ও বনি আসফার বা রোমকদের মধ্যে সম্পাদিত হবে। অতঃপর তারা বিশ্বাসঘাতকতা করবে এবং ৮০টি পতাকা উড়িয়ে তোমাদের বিপক্ষে আসবে; প্রতিটি পতাকার নিচে থাকবে ১২ হাজার সৈন্য। (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৩১৭৬)

উক্ত হাদিসের ভাষ্য আমাদের বর্তমান পরিস্থিতির সঙ্গে অনেকাংশেই মিলে যায়; বিশ্বব্যাপী মানুষের মধ্যে প্রাচুর্য বেড়েই চলছে। নতুন নতুন রোগ আত্মপ্রকাশ করছে। এগুলো বন্ধ করার সাধ্য কারো নেই। তবে এই পরিস্থিতিতে আমরা রাসুল (সা.)-এর দেখানো পথ অনুসরণ করতে পারি।

মন্তব্য করুন

খবর অনুসন্ধান

সর্বশেষ নিউজ

আরো পড়ুন