শুক্রবার, ৫ জুন ২০২০, ৩:১৪ এএম

চলতি মাসের শেষে চরমে পৌছাবে করোনা সংক্রমণ, জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা

প্রতিদিনের কাগজ ডেস্ক:
প্রকাশিত: ১১:৪৩ অপরাহ্ন, ৯ মে ২০২০, শনিবার


চলতি মাসের শেষে চরমে পৌছাবে করোনা সংক্রমণ, জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা

ছবি : সংগৃহীত ।

চলতি মে মাসে তৃতীয় সপ্তাহের পর দেশে করোনা সংক্রমণ চরম পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে বলে ধারণা করছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। তারা বলছেন, পরবর্তী বেশ ক’দিন এই পরিস্থিতি স্থির থাকতে পারে। তবে জুন মাসের শেষ নাগাদ সংক্রমণের মাত্রা কমে আসবে।

করোনা ভাইরাসের গতিপ্রকৃতি ও দেশের মহামারির প্রবণতা বিশ্লেষণে সরকার গঠিত স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ দল এই পূর্বাভাস দিয়েছেন।

করোনা বিশেষজ্ঞ দলের অন্যতম সদস্য অধ্যাপক ড. শাহ মনির হোসেন বলেন, বাংলাদেশের মহামারি প্রবণতা বিশ্লেষণ করে আমাদের দল পূর্বাভাস দিয়েছে যে, চলতি মে মাসের তৃতীয় সপ্তাহটি কোভিড-১৯ সংক্রমণের চরম সময়কাল হতে পারে।

মহামারিবিদ্যা ও গাণিতিক পদ্ধতির সূত্রের ভিত্তিতে এ বিশ্লেষণ অনুযায়ী জুনের শেষের দিকে (কোভিড-১৯ সংক্রমণের হার) দ্রুত কমতে থাকবে বলে আশা করা যেতে পারে বলে তিনি জানান।

এই পূর্বাভাসের সঙ্গে একমত পোষণ করে ডাইরেক্টর জেনারেল অব হেলথ সার্ভিসের (ডিজিএইচএস) মহাপরিচালক অধ্যাপক আবুল কালাম আজাদ বলেন, জুনের শেষের দিক নাগাদ আমরা ভাইরাসের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ করার মধ্যে দিয়ে করোনাভাইরাসটি নিয়ন্ত্রণের আশা করছি। তবে, মহামারিটি থেকে পুরোপুরি মুক্তি পাওয়ার জন্য আমাদের আরও কিছুটা সময় অপেক্ষা করতে হবে।

ডিজিএইচএস প্রধান বলেন, সরকার কোভিড-১৯ শনাক্ত করার জন্য প্রতিদিন ১০ হাজার নমুনা পরীক্ষার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। এখন পর্যন্ত সারাদেশে ৩৩টি পিসিআর ল্যাবে একদিনে সর্বাধিক ৫,৮৬৭টি নমুনা পরীক্ষা করা হচ্ছে এবং পরীক্ষার সুবিধা বাড়ানোর জন্য সংখ্যা বৃদ্ধি করার কাজ চলছে।

আপাত দৃষ্টিতে সংক্রমণের হার স্বাভাবিক মনে হওয়ার পরে কোভিড-১৯ বেড়ে যেতে পারার কী কারণ হতে পারে? জানতে চাইলে অধ্যাপক আজাদ বলেন, এর জন্যে দায়ী হতে পারে, শিথিল শাটডাউন এবং সামাজিকভাবে দূরত্বসহ সতর্কতার আহ্বানকে জনগণের ব্যাপকভাবে উপেক্ষা করা।

তিনি সংক্রমণের হারের ঊর্ধ্বগতিকে ‘উদ্বেগজনক’ বলে স্বীকার করে বলেন, এই পরিস্থিতিতে রোগের সঠিক পরিমাপে পৌঁছানোর জন্য দ্রুত আরও একটি তাৎক্ষণিকভাবে অনুমানের দাবি করেন এবং হোসেন এই রোগের বিস্তার রোধে কঠোর সরকারি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশকে অবশ্যই তিনটি প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা অনুসরণ করতে হবে- মানুষকে অবশ্যই মাস্ক পরতে হবে, হাত ধুতে হবে এবং শারীরিক দূরত্ব কঠোরভাবে বজায় রাখতে হবে।

আইইডিসিআর উপদেষ্টা মোস্তাক হোসেন বলেছেন, যদিও পুরো বাংলাদেশই কোভিড-১৯ এর ঝুঁকিতে রয়েছে। তবে, দেশের অনেক জায়গায় সংক্রমণের হার এখনও খুব কম আছে এবং ভাইরাসের বিস্তার আটকাতে হলে আমাদের করোনাভাইরাস ক্লাস্টার শনাক্ত করতে হবে এবং সেগুলোকে বিচ্ছিন্ন করতে হবে।

তিনি বলেন, জনসংখ্যার ঘনত্বের করণে শহরগুলো এবং এর আশেপাশের অঞ্চলে শারীরিক দূরত্বকে নিশ্চিত করা খুবই কঠিন। যে কারণে এইসব অঞ্চলে প্রতিরোধ ব্যবস্থা খুবই নাজুক।

আইইডিসিআর উপদেষ্টা রাজধানী ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর এবং সাভারের জন্য কঠোর নিয়ন্ত্রণ প্রয়োগের পদক্ষেপের পরামর্শ দেন। কারণ এই অঞ্চলগুলোকে কোভিড-১৯ এর প্রভাবিত সবচেয়ে খারাপ এলাকা হিসাবে দেখা যাচ্ছে।

মন্তব্য করুন

সর্বশেষ নিউজ

আরো পড়ুন