শনিবার, ৩০ মে ২০২০, ১:২৮ এএম

রমজানের যে বিশেষ ৪ আমলে আল্লাহ বান্দাকে ক্ষমা করবেন

মোহাম্মদ মাকছুদ উল্লাহ, অতিথি লেখক:
প্রকাশিত: ৯:০১ পূর্বাহ্ন, ৮ মে ২০২০, শুক্রবার


রমজানের যে বিশেষ ৪ আমলে আল্লাহ বান্দাকে ক্ষমা করবেন

ছবি : সংগৃহীত ।

রমজান মাসকে বলা হয় ইবাদতের মৌসুম। রমজান মাসের ইবাদতের নেকি অন্য যে কোনো সময়ের চেয়ে অনেক বেশি। তাই আল্লাহর ওলিরা রমজান মাসকে সম্পূর্ণভাবে ইবাদতের জন্য নির্দিষ্ট করে নেন।

পারিবারিক ও সাংসারিক যাবতীয় কাজ তারা আগে থেকে সমাধান করে রাখেন যেন রমজান মাসে সেদিকে ব্যস্ত থাকতে না হয়। আসলে এটাই ছিল রাসুলুল্লাহ (সা.) এর কর্মধারা।

হজরত আনাস ইবনে মালেক (রা.) একটি হাদিস বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, রজব মাস আরম্ভ হলেই রাসুলুল্লাহ (সা.) দোয়া করতেন, ‘আল্লাহুম্মা বারিক লানা ফি রাজাবা ওয়া শাবান, ওয়া বাল্লিগনা রামাদান।’ এর মানে হচ্ছে- হে আল্লাহ আমাদের রজব ও শাবান মাসে বরকত দান করুন এবং আমাদের রমজান মাস পর্যন্ত হায়াত দিন। (মুসনাদে আহমাদ, হাদিস: ২৩৪৭, মুসনাদে বাজ্জার, হাদিস: ৬৪৯৬, আল মুজামুল আওসাত, হাদীস: ৩৯৩৯, শুআবুল ঈমান, হাদিস: ৩৫৩৪) অতঃপর রমজান মাস শুরু হলে রাসুলুল্লাহ (সা.) কোমর বেধে ইবাদত-বন্দেগিতে আত্মনিয়োগ করতেন।

রাসুলে করিম (সা.) রমজান মাসে বিশেষ করে চারটি আমলে ওপর বিশেষভাবে গুরুত্ব আরোপ করতেন। হজরত সালমান (রা.) বর্ণিত দীর্ঘ এক হাদিসের শেষভাগে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, তোমরা এ মাসে চারটি আমল বেশি বেশি করো। চারটি আমলের দুটি এমন, যা দ্বারা তোমরা তোমাদের রবকে সন্তুষ্ট করবে। আর দু’টি আমল এমন, যা ছাড়া তোমাদের কোনো উপায় নেই।

যে দু’টি আমল দ্বারা তোমরা তোমাদের রবকে সন্তুষ্ট করবে তা হলো (ক) কালিমা শাহাদাৎ বেশি বেশি পাঠ করা (খ) বেশি বেশি ইস্তেগফার করা (আল্লাহর কাছে নিজের গুনাহের জন্য ক্ষমাপ্রার্থনা করা) আর যে দু’টি আমল করা ছাড়া তোমাদের কোনো উপায় নেই তা হলো (ক) তোমরা আল্লাহর কাছে জান্নাতের জন্য প্রার্থনা করবে (খ) আল্লাহর কাছে জাহান্নাম থেকে পরিত্রাণ চেয়ে প্রার্থনা করবে। (সহিহ ইবনে খুজাইমা, হাদিস: ১৮৮৭, আদ-দাওয়াতুল কাবির, হাদিস: ৫৩২, ফাজাইলুল আওকাত, হাদীস: ৩৭)

রাসুলুল্লাহ (সা.) আলোচ্য হাদিসে রমজান মাসে বেশি বেশি করে যে চারটি আমল করতে উম্মতকে আদেশ করেছেন সেগুলো হলো: ১. কালিমা শাহাদাৎ পাঠ করা ২. ইস্তেগফার করা ৩. জান্নাত প্রার্থনা করা ৪. এবং জাহান্নাম থেকে মুক্তি চাওয়া। কালিমায়ে শাহাদৎ পাঠ করার মাধ্যমে মহান আল্লাহর একত্ববাদকে সুদৃঢ়ভাবে ধারণ করতে হবে এবং মোহাম্মাদুর রাসুল (সা.) এর রিসালাতকে জীবনের একমাত্র চলার পথ হিসেবে গ্রহণ করতে হবে। অর্থাৎ মহান আল্লাহর সমস্ত গুণাবলীতে একক সত্ত্বা হিসেবে মেনে নিতে হবে, আল্লাহর কোনো গুণে কোনো ব্যক্তি, সমষ্টি বা ইজমকে সমকক্ষ জ্ঞান করা যাবে না।

আর হজরত মোহাম্মদ (সা.) এর আদর্শ অনুযায়ী জীবনের ছোট-বড় প্রত্যেকটি কাজ সমাধান করতে হবে। আর এই যে সুনির্ধারিত জীবন ধারা এতে মানবিক দুর্বলতার পথ ধরে ঘটে যাওয়া ত্রুটি-বিচ্যুতির জন্যে মহান আল্লাহর দরবারে কাকুতি-মিনতি করে ক্ষমা প্রার্থনা করতে হবে।

তাহলে আল্লাহ রাব্বুল আলামিন বান্দার ওপর সন্তুষ্ট হবেন। মহান আল্লাহর সন্তুষ্টিই পার্থিব জীবনে বান্দার সাফল্যের সর্বাপেক্ষা বড় মাধ্যম। অতঃপর পারলৌকিক জীবনের ব্যর্থতার পরিণতি জা‎হান্নাম থেকে মুক্তির জন্য এবং সাফল্যের ঠিকানা জান্নাত পাওয়ার জন্য মহান আল্লাহর দরবারে অনুগত ভৃত্যের ন্যায় আবেদন-নিবেদন করতে হবে। তাহলেই রমজানের সাধনা সফল হয়ে উঠবে।

বস্তুত পার্থিব জীবনটা একেবারেই ক্ষণস্থায়ী, যে কোনো উপায়ে তা পেরিয়ে যাবেই। কিন্তু পরকালীন জীবনটা শেষ হওয়ার নয়। ইহলৌকিক জীবনে ভুল-ভ্রান্তি হবেই। তাই বলে ব্যর্থতাকে মেনে নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ নয়। পরম করুণাময় আল্লাহ ক্ষমা করতেই চান আর সেটা পাওয়ার উপযুক্ত সময় এই রমজান মাস। এরশাদ হয়েছে, ‘তারা কি জানে না যে, আল্লাহ যার জন্য ইচ্ছা রিজিক বৃদ্ধি করেন অথবা পরিমিত করে দেন। নিশ্চয়ই এতে বিশ্বাসী সম্প্রদায়ের জন্য নিদর্শন রয়েছে।’

বলো, হে আমার বান্দা! তোমরা যারা নিজেদের ওপর জুলুম করেছ, তারা আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়ো না। নিশ্চয়ই আল্লাহ সমস্ত গুনাহ ক্ষমা করবেন। তিনি পরম ক্ষমাশীল অতিশয় দয়ালু। (সুরা আয্-যুমার: ৫২-৫৩) মহান আল্লাহর প্রিয়ভাজন হয়ে উঠতে রাসুলুল্লাহ (সা.) নির্দেশিত বিশেষ চারটি আমল এই রমজান মাসে আমরা সবাই যেন অনেক অনেক বেশি করতে পারি আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের দরবারে সে তৌফিক কামনা করছি।

লেখক: পেশ ইমাম, রাজশাহী কলেজ কেন্দ্রীয় মসজিদ।

মন্তব্য করুন

খবর অনুসন্ধান

সর্বশেষ নিউজ

আরো পড়ুন