মঙ্গলবার, ২৬ মে ২০২০, ৪:৫১ পিএম

বাংলাদেশ, কার অপরাধে কাজলকে বেঁধেছো? -সাবিনা শারমিন

:
প্রকাশিত: ৬:১১ অপরাহ্ন, ৬ মে ২০২০, বুধবার


৫৪ দিন পর নিজ কার্যালয় হাতিরপুল থেকে ফটো সাংবাদিক কাজল নিখোঁজ থাকার পর নিজ দেশে অনুপ্রবেশের নির্মম অথচ হাস্যকর রসিকতার ঘটনা পড়তে গিয়ে ৩ মে রাতের দেখা সিনেমা ‘আংরেজী মিডিয়াম’ সিনেমাটির কথা সামনে এসে গেলো। বেচারা বোকাচো* চম্পক ( ইরফান খান) এর মেয়ের ইংল্যান্ডে পড়ার সুযোগ পাওয়ার অনুষ্ঠানে কথা বলতে গিয়ে অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি অধ্যক্ষ মহোদয়ের স্বামীর দুর্নীতির কথা ফাঁস করে দেয়। কারণ সে মিথ্যা বলতে পারে না। ফলে বলদা চম্পকের মেয়ের লন্ডনের অ্যাডমিশন ক্যান্সেল হয়ে যায়। এই চম্পক আর কাজলের সঙ্গে আমি কোনো পার্থক্য দেখি না। বলদ এ কারণেই বলছি, কাজলের সত্যি বলার পরিণতি আসলে কে ভোগ করবে? কাজলের পরিবার? আর কে বা কারা? গুটিকয়েক স্বেচ্ছাসেবী এবং হাতে গোনা কয়েকজন সাংবাদিক ছাড়া? সদ্য প্রয়াত ইরফান খান বেঁচে থাকলে হয়তো হাতে পায়ে ধরে কান্নাকাটি করে ধর্মের ভাই পাতিয়ে বলতাম, ভাই সাহেব একটি সিনেমার প্লট পাওয়া গেছে, একটি চরিত্রের সন্ধান পাওয়া গেছে যে চরিত্রটি আপনি ছাড়া কাউকে দিয়ে সম্ভব নয়। জানি এটি নির্মম রসিকতা হয়ে গেলো। কিন্তু কিছু করার নেই।
কাজলের হাতে শেকল দেখে এছাড়া আর কিইবা বলার আছে। কাজলের খোঁজ মেলায় আমার বাকপ্রতিবন্ধী ভাই সজলের নিখোঁজ হওয়ার কথা মনে পড়ে গেলো বলে ৩ মে একটি স্ট্যাটাস দিয়েছিলাম। আজ কাজলের নিজভূমে অনুপ্রবেশ বিষয়টি তখনো ধরতে পারিনি। এখন সজলের নিখোঁজের স্ট্যাটাসে এই বলে লজ্জা পাচ্ছি যে, কথা বলা মানুষের কথার জন্য যে দেশে জেল খাটতে হয়, সেই দেশে কথা বলতে না পারা লোকের সন্ধান চাওয়া। উন্নত দেশে পোষা পশুপাখিদের শরীরে মাইক্রোচিপ বসানো থাকে। হারিয়ে গেলে সেটি ফলো করে খুঁজে পাওয়া যায়। ভেবেছিলাম কাজল বোধহয় এখন পরিবারের সঙ্গে ঈদের আনন্দে ভাত খাচ্ছে। কিন্তু না। কাজলের ছেলে পলকের আপলোড করা ভিডিওতে দেখলাম সাংবাদিক কাজল জেলে কারাবন্দি।
২০১৩ সালে সরকার যখন চার ব্লগারকে অ্যারেস্ট করেছিলো, তার কয়েকদিন আগে জঙ্গি আক্রমণে ওই ৪ জনের একজন আসিফ ঘাড়ে মোট তেরোটি কোপ খেয়েছিলো। বাংলাদেশ সরকার সদ্য হাসপাতালফেরত আসিফকে তার বোনের বাসা থেকে সম্মান দেখিয়ে নিয়ে যায়। কিন্তু হাস্যকর কথা হচ্ছে পরের দিন বাংলাদেশের সব পত্রিকায় এমনভাবে তাদের ৪ জনের ছবি আসে যেন তারা ছিনতাই করতে গিয়ে ধরা পড়েছে। সাধারণত ছিনতাই করলে ছিনতাইয়ের কবল থেকে রক্ষা পাওয়া জিনিসপত্র, ছুরি কাঁচির পেছনে হ্যান্ডকাপ পরা মাথানিচু করা অপরাধীর ছবি থাকে। ‘ফ্রিডম অফ স্পিচ’ অধিকার চাওয়া ব্লগারদেরও ঠিক ছিনতাইকারীদের মতো করে মাথা নিচু করে ছবি তুলে অস্ত্র হিসেবে সামনে ল্যাপটপ দিয়ে দিয়েছিলো। মনে হচ্ছিলো যেন এই সেই ল্যাপটপ যে অস্ত্র দিয়েই তারা চারজন বাংলাদেশকে হত্যা করেছিলো। কী হাস্যকর। কী নির্মম। আচ্ছা, আমরা নাদানরা একটু বুঝতে চাই নিজের দেশে নিজে ফিরে আসা কীভাবে অপরাধ হয়? সাংবাদিক কাজল কি ত্বকী, সাগর-রুনির হত্যাকারী? সাংবাদিক কাজল কি তনুর ধর্ষক আর খুনি? তিনি কি নুসরাতদের মতো কাউকে পুড়িয়ে হত্যা করেছেন? তিনি কি তার স্ত্রীকে লাইভে এসে ঘোষণা দিয়ে হত্যা করেছেন? যদি এর উত্তর ‘না’ হয় তাহলে তার হাতে শেকল কেন? চলুন একটা গান গাই, দাম দিয়ে কিনেছি বাংলা কারও দানে পাওয়া নয় দাম দিছি প্রাণ লাখো কোটি জানা আছে জগৎময়। আরও কয়েকটি নাদান প্রশ্ন করতে চাই, ইচ্ছা হলে নাদান উত্তরই না হয় পাবো। তাও শুধু প্রশ্ন করতে চাই। ১. হাতিরপুলে নিজ কার্যালয় থেকে বের হওয়ার পর তিনি নিখোঁজ হন। তিনি বেনাপোল গেলেন কীভাবে? ২. কাজলের অপহরণের মামলা কি নেওয়া হয়েছিলো? ৩. বিজিবির লোকেরা তাকে কোথায় পেলেন? ৪. কাজলের বিরুদ্ধে মামলা কীসের? আরেকটি শেষ বলদীয় প্রশ্ন : বাংলাদেশ তুমি কার অপরাধে কাজলকে বেঁধেছো? ফেসবুক থেকে

মন্তব্য করুন

খবর অনুসন্ধান

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০
১১১২১৩১৪১৫১৬১৭
১৮১৯২০২১২২২৩২৪
২৫২৬২৭২৮২৯৩০৩১

সর্বশেষ নিউজ

আরো পড়ুন

Shares