শুক্রবার, ৫ জুন ২০২০, ২:২৩ এএম

মেয়ের বেহায়াপনায় কৃষক বাবার করুন মৃত্যু

প্রতিদিনের কাগজ ডেস্ক:
প্রকাশিত: ১০:২৩ অপরাহ্ন, ৩০ এপ্রিল ২০২০, বৃহস্পতিবার


মেয়ের নির্লজ্জ বেহায়া কাজে কৃষক বাবার করুন মৃত্যু

প্রতিকী ছবি ।

এইচএসসি পরীক্ষার পর পরেই নিজের ভবিষ্যৎ সাবলীল ও স্বচ্ছ করার নেশায় শিক্ষার্থীরা চিন্তায় দিশেহারা হয়ে অবিচল ছুটে চলে দেশের এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্তে। লক্ষ্য একটাই,সেটা হলো বিশ্ববিদ্যালয়। অনেকের-ই ধারনা যে, বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে না পারলে শিক্ষা জীবনটা-ই বৃথা । এজন্যই শিক্ষা জীবনের এই সময় কে জীবন গড়ার অন্যতম কাল বলা হয় ।

এই নেশার বশবত হয়েই কৃষক পিতা তার বড় আদরের একমাত্র মেয়ে তানিয়াকে প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে এসে শহরের সবচেয়ে খ্যাতনামা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি করে দিয়ে চোখের জল মুছতে মুছতে গাড়িতে ওঠে গ্রামে চলে আসলো।

শুরু হলো তানিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের হল জীবন। মনের আনন্দে সকাল বেলা নাস্তা করেই প্রতিদিন ক্লাস করতে লাগলো তানিয়া । এভাবেই দুইটি বছর কেটে গেলো। পরিবারের সবাই তানিয়ার কর্মে গর্বিত।

হঠাৎ একদিন হল সুপার তানিয়ার বাবাকে ফোন দিয়ে বললো, আপনি কি তানিয়ার বাবা? উত্তরে আসলো হ্যাঁ আমি তানিয়ার আব্বা। তখন হল সুপার বললো, মেয়েকে কেমন শিক্ষা দিয়েছেন আপনি?

তানিয়ার বাবা হতবাক হয়ে বললো, স্যার আমিতো কিছুই বুঝলাম না। আপনি এসব কি বলছেন?

হল সুপার বললো, আপনার মেয়ের রুম থেকে কয়েকটা সিগারেটসহ প্যাকেট উদ্ধার করা হয়েছে। অর্থাৎ আপনার মেয়ে নেশায় আসক্ত। আমি বিশ্বাস করি না, বললেন তানিয়া পিতা। হল সুপার বললো আপনি নিজ চোখে এস দেখে যান। আর আমরা আপনার মেয়েকে হলে রাখবো না।

সরেজমিন এসে তানিয়ার বাবা মেয়ের অপকর্মের সত্যতা পেয়ে বোবা হয়ে যায়। স্বচ্ছ বোনা দুই চোখ জলে ভরপুর। নিস্তবদ্ধ হয়ে থেমে গেলো যেন পুরো জীবনটা। বাবা হয়ে লোক সমাজে কি জবাব দেবে। এমন চিন্তা-ভাবনায় জীবনের আশা গুলোকে কবর দিয়ে গ্রামে ফিরে আসতে লাগলো মেয়েকে সাথে নিয়ে।

গাড়ি থেকে নেমে গ্রামের রাস্তায় মেয়েকে নিয়ে হাটতে হাটতে হঠাৎ মা-রে বলে চিৎকার করে মাটিতে লুঠে পড়ে। মুখ দিয়ে সাদা ফেনা বেরোতে বেরোতে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়লেন গ্রামের স্বপ্ন রোপন করা মধ্যবিত্ত পরিবারের এক বাবা।

সর্বোপরি, মেয়ের অপকর্মের ফল ভোগ করতে হলো পরিবারকে। তাই কিছু করার আগে নি:স্বার্থ বাবা মায়ের মুখের দিকে তাকিয়ে একটু চিন্তা করবেন। নতুবা তানিয়ার মতো অনুসূচনা করার সময়টুকুও পাবেন না ।

ইমানুর রহমান, নিজস্ব প্রতিবেদক, প্রতিদিনের কাগজ
ই-মেইল : imanurqnb@gmail.com

মন্তব্য করুন

সর্বশেষ নিউজ

আরো পড়ুন