রোববার, ৩১ মে ২০২০, ৪:০৩ পিএম

করোনাকালে বিনামূল্যে পৌঁছাবে গর্ভবতী মায়ের খাবার

নিজস্ব প্রতিবেদক:
প্রকাশিত: ১১:২০ পূর্বাহ্ন, ৩০ এপ্রিল ২০২০, বৃহস্পতিবার


করোনাকালে বিনামূল্যে পৌঁছাবে গর্ভবতী মায়ের খাবার

ছবি : সংগৃহীত ।

একজন নারী যখন গর্ভবতী হন, সেই সময় তার নিজের এবং গর্ভের সন্তানের সঠিক পুষ্টির জন্য প্রয়োজন ভালো খাবার। কিন্তু মহামারি করোনাভাইরাসের কারণে দেশের সংকটময় মুহূর্তে স্থবির হয়ে গেছে অনেক পরিবারের আয়ের উৎস। গর্ভবতী মায়েদের জন্য যা অবর্ণনীয় এক কষ্টের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

দেশের এই সংকটকালীন পরিস্থিতিতে খাবারের কষ্টে থাকা গর্ভবতী মায়েদের জন্য বিনামূল্যে খাবার পৌঁছে দেয়ার মহতী এক উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন সাবেক নারী ক্রিকেটার এবং প্রতিদিনের কাগজের ক্রীড়া প্রতিবেদক আরিফা জাহান বীথি। প্রতিদিন তিনি ত্রাণ সাহায্য নিয়ে অসহায় মানুষদের বাড়িতে যাচ্ছেন।

এরইমধ্যে গর্ভবতী মায়েদের জন্য আরিফা জাহান বীথি চালু করলেন নতুন এক পদ্ধতি। রংপুরে একটিমাত্র ফোনকলেই বিনামূল্যে পৌঁছে যাবে গর্ভবতী মায়েদের ঘরে খাবার। আর গোপন থাকবে সেই গর্ভবতী মায়ের পরিচয়। +৮৮০১৩১৯৯৯৮৫৯৭ নম্বরে একজন গর্ভবতী মা প্রয়োজনে কল দিয়ে নিজের অবস্থানের কথা জানালেই তার হাতে পৌঁছে যাবে খাবার।

নিজ জেলা রংপুরে বীথি গড়েছেন নারীদের জন্য দেশের প্রথম ক্রিকেট একাডেমি। ওমেন্স ড্রিমার ক্রিকেট একাডেমি নামের সেই নারী ক্রিকেটার গড়ার কারখানায় পরিচালনাও তিনি নিজেই করে চলেছেন। প্রতিনিয়ত প্রায় ২৫০ জনের মতো মেয়েদের বিনামূল্যে তিনি অনুশীলন করান। ইনজুরির কারণে দুর্ভাগ্যজনকভাবে তার ক্রিকেট ক্যারিয়ার খুব বেশি দীর্ঘ হয়নি। রংপুর বিভাগীয় দলের পাশাপাশি ঢাকা প্রিমিয়ার লীগ ও প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট খেলেছেন বীথি। তাছাড়া ওরিয়েন্ট স্পোর্টিং ক্লাব, কলাবাগান ও রায়েরবাজার দলে একজন উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান হিসেবে তিনি খেলেছেন।

গর্ভবতী মায়েদের জন্য বিনামূল্যে খাবার পৌঁছে দেয়ার চিন্তা কীভাবে এলো- বিষয়টি জানতে চাইলে আরিফা জাহান বীথি বলেন, আমি একাই নিজ উদ্যোগে সবাইকে সহায়তা করছি। আমি অসহায়, মধ্যবিত্ত ২৮০টিরও বেশি পরিবারকে খাবার দিয়েছি। বিভিন্ন জায়গা থেকে কল আসলে সেই জায়গায় গিয়ে খাবার দিয়ে আসতাম। প্রাই কিছু জায়গা থেকে গর্ভবতী নারীর কল পেতাম। এরকম কল পেয়ে ভীষণ রকম একটা কষ্ট অনুভব হলো। যে সময় তাদের ভালো খাবারের প্রয়োজন, সেই সময় কি না খাবারের কষ্ট করছে। তাই মাথায় আসলো, গর্ভবর্তী মায়েদের নিয়ে কাজ করবো। কারণ এই সময় তাদের ভালো খাবারের প্রয়োজন। এই সময় যেন কোনো গর্ভবতী মা খাবারের কষ্ট না পায়, তাই এই উদ্যোগ নেয়া। আমি নিজেই গিয়ে হাতে হাতে খাবার দিয়ে আসবো। আমার দুই বোন সঙ্গে কাজ করবে।

তিনি বলেন, ইতোমধ্যে আমি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে এ নিয়ে একটি স্ট্যাটাস দিয়েছি। সবাইকে অনুরোধ করেছি শেয়ার করে বিষয়টি সবাইকে জানানোর জন্য। ব্যাপক সাড়া পাচ্ছি। অনেক মানুষ শেয়ার এবং কমেন্ট করে আমাকে সমর্থন জুগিয়ে যাচ্ছেন। সকলের প্রতি আমার অশেষ কৃতজ্ঞতা।

সাংবাদিকতার পাশাপাশি ক্রিকেট একাডেমি নিয়ে বর্তমানে কীভাবে কাজ করে যাচ্ছেন- এমন প্রশ্নের জবাবে বীথি বলেন, বেলা ৩টা থেকে বিকাল সাড়ে ৫টা পর্যন্ত একাডেমি চালু থাকে। তাই সাংবাদিকতা ও একাডেমি পরিচালনা এই দুটি কাজ একসঙ্গে করতে খুব বেশি কষ্ট হয় না।

ক্রিকেটার থেকে কীভাবে ক্রীড়া সাংবাদিক বনে গেলেন, কালচিত্রকে সেই ঘটনাও জানালেন রংপুরের পরিচিত মুখ বীথি। তিনি বলেন, খেলাধুলাভিত্তিক বিষয় নিয়ে ফেসবুকে লেখালেখি করতাম। আমার লেখা দেখে প্রতিদিনের কাগজের ব্যবস্হাপনা সম্পাদক আমাকে ক্রীড়া সাংবাদিক হিসেবে কাজ করার প্রস্তাব দেন। কাজ করবো কি না এমনটা জানতে চাওয়ার পর আমি রাজি হয়ে গেলাম। আর উনার সার্বিক সহযোগিতা ও দিকনির্দেশনায় সাংবাদিকতায় কাজ শুরু করলাম। এখন নিজে থেকেই অনেক ভালো লাগে। লেখনীর মাধ্যমে ক্রিকেটের পাশে ধারানো সম্ভব হচ্ছে।

চাইলে আপনিও ১ জন গর্ভবতী মায়ের দায়িত্ব নিতে পারেন।
” ক্ষুদ্রের সমষ্টিতেই বৃহতের সৃষ্টি “

বিকাশঃ +8801319998597
নগদঃ +8801867578230

মন্তব্য করুন

সর্বশেষ নিউজ

আরো পড়ুন