শনিবার, ৩০ মে ২০২০, ১:৫৩ এএম

অধীনস্থদের প্রতি হৃদ্যতা প্রকাশের মাস রমজান

প্রতিদিনের কাগজ ডেস্ক:
প্রকাশিত: ৭:৫১ পূর্বাহ্ন, ৩০ এপ্রিল ২০২০, বৃহস্পতিবার


অধীনস্থদের প্রতি হৃদ্যতা প্রকাশের মাস রমজান

ফাইল ছবি ।

মানবাধিকার রক্ষার জীবন ব্যবস্থার নাম ইসলাম

সাম্যের ধর্ম ইসলাম। মানবাধিকার রক্ষার জীবন ব্যবস্থার নাম ইসলাম। এখানে মনিব-চাকর, শ্রমিক ও মালিকে কোনো তফাত নেই।

নবীজি (সা.) বলেন, ‘আল্লাহ তোমাদের শ্রমিক ভাইদের তোমাদের অধীন করে দিয়েছেন। তোমাদের অধীনে যদি কোনো শ্রমিক ভাই থাকে; তোমরা তাকে তাই খাওয়াবে, যা তোমরা নিজে খাবে। তাদের তাই পরাবে, যা তোমরা নিজে পরবে। তার ওপর সাধ্যের বাইরে কাজ চাপিয়ে দিও না। তাকে দিয়ে কোনো কষ্টের কাজ করাতে চাইলে, সেই কাজে তুমিও তাকে সাহায্য করবে।’ এটা হবে খাঁটি মুমিন হিসেবে তোমার পরিচয়।

মাহে রমজান হল শ্রমিক ও নিজের অধীনস্থদের প্রতি হৃদ্যতা প্রকাশের মাস। সদয় হওয়ার মাস। খেটে খাওয়া পরিশ্রমী মানুষ সাওম পালন করেই কঠিন ও কষ্টের কাজগুলো সম্পাদন করেন। তাদের কষ্টের কথা আমাদের অনুভব করতে হবে।

নবীজি (সা.) বলেন, ‘মাহে রমজানে তোমরা তোমাদের অধীনস্থদের প্রতি সদয় হও। তাদের ওপর কাজের চাপ কমিয়ে দাও। মহান আল্লাহ তোমাদের ক্ষমা করে দেবেন। জাহান্নাম থেকে মুক্তি দেবেন।’ সাহাবায়ে কেরাম নবীজির কথাগুলো জীবনভর পুরোপুরি মেনে চলেছেন। অন্যদের এর ওপর আমলের উপদেশ দিয়েছেন।

নৈতিক অবক্ষয়ের কারণে আমাদের সমাজ-চিত্র নবীজির বাণীর পুরো উল্টো চিত্র ধারণ করেছে। দেখা যাচ্ছে- অধিকাংশ মালিকপক্ষ ঘাম ঝরানো শ্রমিকের প্রতি সামান্যতম সহানুভূতিও দেখাচ্ছেন না। বরং পুরো মাস ঈদের আয়োজনে লাভবান হওয়ার আশায় শ্রমিকের প্রতি রুদ্রমূর্তি হয়ে কাজ আদায় করে নিচ্ছেন।

অনেক মালিককে এমন কঠোর হতে দেখা গেছে যে, শ্রমিকের সিয়াম সাধনা করা সম্ভব হয়নি। ইবাদত-বন্দেগিতে সময় দেয়ার কারণে অনেককে হেনস্তা হতে হয়েছে। অথচ এ ধরনের মালিকপক্ষের প্রতি আল্লাহ ও তার রাসূলের পক্ষ থেকে অভিশাপ রয়েছে।

খলিফা ইমাম আলি (রা.) বলেন, নবীজির সর্বশেষ বাণী ছিল দুটি কথা- একটি হল, ‘(১) নামাজ-নামাজ। (২) অপরটি হল, তোমরা তোমাদের অধীনস্থদের ব্যাপারে আল্লাহকে ভয় কর।’ যারা মাহে রমজানে শ্রমিকের প্রতি কঠিন আচরণ করে, নির্দয় ব্যবহার করে, তাদের প্রতি আল্লাহও কঠিন হয়ে যাবেন।

রহমতের পরিবর্তে অভিশাপ পাবেন। মাগফিরাতের পরিবর্তে পাপের বোঝা ভারি করবেন। নাজাতের পরিবর্তে পাকড়াও হবেন। তাদের জন্য নরকে কঠিন শাস্তি নিশ্চিত রয়েছে।

আমরা ভুলেই যাই, অধীনস্থ শ্রমিক ও গৃহপরিচারিকারাও আল্লাহর বান্দা। নবীজি (সা.) বলতেন- ‘মাহে রমজানে তোমরা দাস-দাসিদের কাজকর্ম শিথিল করে দাও। ইবাদত-বন্দেগি যথাযথ করতে দাও।’ কোনো শ্রমিকের অসুস্থতার খবর শুনলে নবীজি ছুটে যেতেন। সাধ্যমতো সাহায্য-সহযোগিতা করতেন। অথচ মালিকপক্ষ পুঁজিবাদের পূজারি হয়ে অর্থকে নিজের কাছে ধরে রাখছে।

ঘাম শুকানোর আগে শ্রমিকের প্রাপ্য বুঝিয়ে দেয়ার কথা থাকলেও মাসকে-মাস তাদের বেতন-ভাতা ধরে রাখছেন। এদিকে অভাব-অনটনে বহু শ্রমিকের বহু পরিবার অনাহারে দিন কাটাচ্ছে। দয়া করে অধীনস্থদের প্রতি সদয় ও উদার হন। তবেই আপনার সিয়াম ইবাদত রোজা নামাজ আল্লাহর দরবারে কবুল হওয়ার উসিলা হবে।

লেখক : হাফেজ, মাওলানা, মুফতি; লেখক ও
গবেষক ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ

মন্তব্য করুন

খবর অনুসন্ধান

সর্বশেষ নিউজ

আরো পড়ুন