মঙ্গলবার, ২৬ মে ২০২০, ৬:৫৩ পিএম

রিলিফ, টিআর, কাবিখা ও কর্মসৃজন কর্মসূচীর সকল তালিকা জনসমক্ষে প্রকাশ করা এখন সময়ের দাবী

:
প্রকাশিত: ১:০৫ অপরাহ্ন, ১৩ এপ্রিল ২০২০, সোমবার


আমাদের মসজিদ কর্তৃপক্ষের একজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি আমাকে জানালেন একজন জনপ্রতিনিধি মসজিদ সংস্কারে শরিক হতে কিছু চাল বরাদ্দ দিতে চান। দুই টন চাল বরাদ্দ হবে কিন্তু মসজিদ পাবে ৬হাজার টাকা। আমি বললাম তা কি করে হয়? দুই টন চালের দাম কমকরে হলেও ৭০ হাজার টাকা! এর মধ্যে মাত্র ছ’হাজার? তিনি বললেন এটাই আজকাল সিস্টেম। আমি বারণ করায় তিনি কিছুটা বিরক্ত হয়ে বললেন যাই পাওয়া যায় তো পেলাম। আমার দৃঢ়তায় বিষয়টি আর এগুয়নি।
বছর দুয়েক আগের কথা আমার বাবা এক শীতের সন্ধ্যায় ফোন দিয়ে জানালেন আমাদের মসজিদ সংলগ্ন মাদ্রাসায় আবাসিক শিক্ষার্থীদের জন্য জরুরী কিছু কম্বল সংগ্রহ করার জন্য। বন্ধুবান্ধব শুভানুধ্যায়ী কয়েকজনের সহযোগিতায় তাৎক্ষনিক কিছু কম্বল সংগ্রহ করা হয়। হঠাৎ মনে পড়লো আমাদের ইউএনও মহোদয়ের কাছে কিছু কম্বল চাইলে পাওয়া যেতে পারে। যথারীতি মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে আবেদন করা হলো। সপ্তাহ পর তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী অফিসার নমিতা দে জানালেন ২৫ টি কম্বল বরাদ্দ হয়েছে এবং তা তিনি কোন এক রাতে গিয়ে নিজে হাতে বিতরণ করে আসবেন। উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ণ কর্মকর্তা মীর মোর্শেদ রানাকে নিয়ে তিনি ২৫টি (অপেক্ষাকৃত উন্নত মানের) কম্বল সেই রাতেই মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের মাঝে বিতরণ করে আসলেন। কিছুদিন পর আরও দুই টন চাল বরাদ্দদেন এবং তা মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের নিকট সরাসরি হস্তান্তর করেন। বরাদ্দে সমুদয় চাল হাতে পেয়ে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ অনেকটা বিস্মিত হয়েছেন! শুধু তাইনা এলাকার লোকজন বিষয়টি বিশ্বাস করতে পারছেন না। কারণ রিলিফের সমুদয় মালামাল পাওয়া যায় তা সবার ধারণার বাইরে। সবার ধারণা রিলিফ, টিয়ার, কাবিখা যাই বলেন সব এখন সিস্টেমে চলে। তা না হলে গরীব মানুষে ভাগ্য উন্নয়নে সরকার পদক্ষেপ গুলো সঠিক বাস্তবায়ণ হলে দেশে কোনো দরিদ্র লোক খুঁজে পাওয়া যেতো না। কারণ আপদকালী সুরক্ষায় সরকার সবধরণের পদক্ষেপ নিয়ে রেখেছে।
কথায় আছে না, “কাজীর গরু কাগজে আছে গোয়ালে নেই”। দরিদ্র মানুষের অভাব দূর করতে সরকার ১শ দিনের কর্মসৃজন কর্মসূচীর ব্যবস্থা করেছে। কোন ইউনিয়নের কোথায় কয়টি প্রকল্প? কতজন উপকার ভোগী কেউ কি জানেন? এসব কর্মসূচীর টাকা কে কত পায় তা কারো অজানা নয়। দুস্থমাতা, বয়স্কভাতা, পঙ্গুভাতা, মাতৃত্বকালীনভাতা, বিধবাভাতা সহ সরকারের সৃজনশীল কর্মসূচী সুবিধা নির্দিষ্ট অঙ্কের বিনিম ছাড়া পাওয়া যেতো না। ইদানিং অবশ্য তা প্রশাসনের সক্রিয় হস্তক্ষেপে অনেকটা কমে এসেছে। টিআর, কবিখা সকল প্রকল্পস্থলে আগে সাইনবোর্ড টানানো থাকতো। কয়েক বছর ধরে তা দেখা যায় না। কোনো তথ্য চাইতে গেলে সাধারণ জনগণ তো দূরের কথা গণমাধ্যম কর্মীদেরই বিড়ম্বনার সীমা থাকে না। সরকার তথ্য অধিকার আইন পাস করলেও তার দৃশ্যত কোন সুফল জনগণ পাচ্ছে না। আজ যে কজন চাল চোর ধরা পড়েছে তা অনেকটা অবাধ তথ্য প্রবাহের কারণে। ফেইসবুকে এসব বিষয় উঠে না আসলে বিচার তো দূরের কথা জনসমক্ষেও প্রকাশ পেতো না। সরকারী সিলযুক্ত পাঁচশ/হাজার বস্তা চাল ধরা পড়াতেই এতো হৈচৈ। সরাদেশের বরাদ্দকৃত বাকী বস্তাগুলো স্বচক্ষে ক’জন দেখেছেন? দেখার সুযোগ পাবেনা! কারণ প্রত্যেকটি অপকর্মের পিছনে রয়েছে এক শ্রেণির সুবিধাভোগী অসীম ক্ষমতাধরদের থাবা। তাইতো বার বার আমাদের ভাগ্যাকাশে নেমে আসে কালো মেঘের ছায়া। সরকার বস্তবমুখী পদক্ষেপ না নিলে সকল প্রচেষ্টাই তিমিরে থেকে যাবে।
পরিচিতি: জুলফিকার শাহীন, সাংবাদিক।

মন্তব্য করুন

খবর অনুসন্ধান

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০
১১১২১৩১৪১৫১৬১৭
১৮১৯২০২১২২২৩২৪
২৫২৬২৭২৮২৯৩০৩১

সর্বশেষ নিউজ

আরো পড়ুন

Shares