শুক্রবার, ২৯ মে ২০২০, ৫:৩৩ পিএম

ঠাকুরগাঁওয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে গিয়ে হামলার শিকার সাংবাদিক

স্টাফ রিপোর্টার:
প্রকাশিত: ১১:৫৩ অপরাহ্ন, ৭ এপ্রিল ২০২০, মঙ্গলবার


ঠাকুরগাঁওয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে গিয়ে হামলার শিকার সাংবাদিক

ছবি : সংগৃহীত ।

ঠাকুরগাঁও : ঠাকুরগাঁওয়ে চিকিৎসা নিতে গিয়ে চিকিৎসকদের হামলার শিকার হয়ে আহত হয়েছেন দুই সাংবাদিক। গতকাল সোমবার দুপুরে ঠাকুরগাঁও আধুনিক সদর হাসপাতালে এই ঘটনা ঘটে।

আহত সাংবাদিকরা হলেন দৈনিক বাংলাদেশের আলো পত্রিকার মোকসেদুল ইসলাম ও অনলাইন আদর্শ টিভির প্রতিনিধি আসিফ কামাল। আহত দুইজন সাংবাদিক আপন ভাই । তারা সদর উপজেলা আউলিয়াপুর সরকার পাড়া গ্রামের মোহা: হাবিবর রহমানের ছেলে।

আহত সাংবাদিক মোকসেদুল ইসলাম জানান, দুপুরে কাশি ও শ্বাসকষ্ট জনিত রোগের চিকিৎসা নিতে তিনি ঠাকুরগাঁও আধুনিক সদর হাসপাতালের বহির্বিভাগে টিকিট কেটে জরুরী বিভাগে যান। সেখানে কর্তব্যরত সহকারি চিকিৎসকরা তাকে ডা: তোজাম্মেল হকের কাছে যেতে বলেন। এরপর তিনি ডা: তোজাম্মেল হকের কক্ষে যান।

সেখানে ডা: তোজাম্মেল হককে না পেয়ে হাসপাতালে খোঁজাখুজি করেন তারা। কোথাও তাকে না পাওয়া গেলে কক্ষের ভিতরে একজনকে জিজ্ঞাসা করেন ডা: তোজাম্মেল হককে কোথায় পাওয়া যাবে, তিনি কি অফিসে আছেন কি না ?

এমন প্রশ্ন করার পর কক্ষে থাকা ডা: তোজাম্মেল হকের কর্মচারি উত্তেজিত হয়ে তাকে ধাক্কাধাক্কি করেন। এসময় হাসপাতালে ডা: তোজাম্মেল হক আসলে তিনি সহ সেখানে অবস্থানরত আরো বেশ কয়েকজন তাকে বেধরক মারপিট করে আহত করে এবং তার মোবাইল ফোন কেড়ে নেয়।

পরে চিকিৎসকদের একটি সিন্ডিকেট তাকে জোড়পূর্বক আটক করে রেখে পুলিশে খবর দেয়। পরে পুলিশ তাদের উদ্ধার করে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে এনডিসির কক্ষে নিয়ে আসেন ।

মোকসেদুল ইসলাম আরো জানান, দেশে করোনার প্রভাব পড়ার পর থেকে হাসপাতালে অনুপস্থিত রয়েছেন ডা: তোজাম্মেল হক। ডা: তোজাম্মেল হক এক সময় বগুড়ায় জামায়াত শিবিরের রাজনীতির সাথে যুক্ত ছিলেন। আওয়ামীলীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর তিনি মুখোশ পাল্টিয়ে ক্ষমতাসীন নেতাদের সাথে সুসম্পর্ক গড়ে তোলেন এবং নিজেকে একজন আওয়ামী সমর্থীথ চিকিৎসক বলে নিজেকে দাবি করেন-এমন একটি পোষ্ট কয়েকদিন থেকে ফেসবুকে দেখা যাচ্ছিল। হয়তো সে ক্ষোভের বহি:প্রকাশ ঘটালেন তিনি।

এ বিষয়ে ডা: তোজাম্মেল হকের কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, সাংবাদিক মোকসেদুল ইসলাম হাসপাতালে কয়েকজন চিকিৎসকের সাথে খারাপ ব্যাবহার করেন। চিকিৎসা নিতে আসা কয়েকজন রোগীর স্বজনরা তাকে মেরেছে। তিনি তাকে মারধর করেন নাই।

তিনি আরো বলেন, গত পনের দিন যাবত তিনি অফিস করেন না এমন একটি মিথ্যা তথ্য বিভিন্ন ভাবে প্রচার করা হচ্ছে। হয়রানি ও তার সুনাম নষ্ট করার জন্য তার বিরুদ্ধে এমন প্রচারণা করা হচ্ছে। বগুড়ায় গ্রামে থাকার সময় বিভিন্ন কোচিং সেন্টারে তিনি একসময় শিক্ষকতা করতেন। শিবিরের রাজনীতির সাথে যুক্ত থাকার কথাটি অসত্য বলে জানান তিনি ।

সাংবাদিক আটকের বিষয়ে নির্বাহী ম্যাজিট্রেট মাহমুদুর রহমান জানান, চিকিৎসকদের লিখিত কোন অভিযোগ না থাকায় আটক সাংবাদিকদের থানায় সোপর্দ করা হয়। সেখানে লিখিত মুচলেকা নিয়ে তাদের ছেড়ে দেয় পুলিশ।

ঠাকুরগাঁও সিভিল সার্জন ডা: মো: মাহফুজার রহমান সরকার জানান, সাংবাদিককে মারধরের বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না। কেউ তাকে এবিষয়ে অবগত করেন নাই। তবে কেন এমন অনাকাঙ্খিত ঘটনা ঘটেছে সে বিষয়ে তিনি খোঁজ নিবেন।

এদিকে হাসপাতালের একটি সুত্র জানায়, বর্তমানে ঠাকুরগাঁও আধুনিক সদর হাসপাতালে তার অনেক দাপট রয়েছে। কিছুদিন পূর্বে তাকে অন্য জেলায় বদলি করা হলেও কিছুদিনের মধ্যে তিনি ক্ষমতার দাপটে বদলি বাতিল করে আবারো ঠাকুরগাঁও হাসপাতালেই থেকে যান।

মন্তব্য করুন

খবর অনুসন্ধান

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০
১১১২১৩১৪১৫১৬১৭
১৮১৯২০২১২২২৩২৪
২৫২৬২৭২৮২৯৩০৩১

সর্বশেষ নিউজ

আরো পড়ুন