২৯, মার্চ, ২০২০, রোববার

‘করোনা মোকাবেলায় সরকার গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিয়েছে’

নিজস্ব প্রতিবেদক:
প্রকাশিত: ৩:৪৫ অপরাহ্ন, ১৯ মার্চ ২০২০, বৃহস্পতিবার


‘করোনা মোকাবেলায় সরকার গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিয়েছে’

ছবি- সংগৃহীত

বিশ্বব্যাপী ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে প্রাণঘাতী ভাইরাস করোনা। চীনের উহান থেকে ছড়িয়ে পড়া এই ভাইরাস ছড়িয়েছে ১৬৫টি দেশ ও অঞ্চলে। বাংলাদেশেও প্রাণঘাতী এই ভাইরাসের সংক্রমণ দেখা দিয়েছে। ইতোমধ্যে এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে বাংলাদেশে একজনের মৃত্যু হয়েছে। আক্রান্ত হয়েছে ১৬ জন। ভাইরাসটি বাংলাদেশে যেন ভয়াবহ আকার ধারণ না করে সেজন্য নানা পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে বলে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে। করোনা নিয়ে বৃহস্পতিবার নিজের ফেসবুক পেজে একটি পোস্ট দেন প্রধানমন্ত্রীর উপপ্রেস সচিব আশরাফুল আলম খোকন। সেখানে করোনা বিস্তার রোধে সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করেন তিনি।

আশরাফুল আলম খোকনের ফেসবুক পোস্টটি হুবহু পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো।

করোনাভাইরাস প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরোধ বেশি জরুরি। বিশ্বের উন্নত দেশগুলোও সেই চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনায় বাংলাদেশ সরকারও বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিয়েছে। আপনাদের জ্ঞাতার্থে এর উল্লেখযোগ্য কিছু তুলে ধরা হলো

১। জেলা উপজেলা পর্যায়ের হাসপাতালগুলোতে পৃথক বেড রাখা হয়েছে। করোনার লক্ষণ দেখা দিলে হটলাইন নাম্বারে যোগাযোগ করার জন্য নির্ধারিত নাম্বার দেয়া হয়েছে।

২। রাজধানীতে করোনা রোগীদের জন্য চারটি হাসপাতাল বরাদ্দ রাখা হয়েছে। মুগদা জেনারেল হাসপাতাল, কুয়েত মৈত্রী হাসপাতাল, মহানগর হাসপাতাল ও কুর্মিটোলা হাসপাতাল।

৩। করোনাভাইরাস শনাক্ত করার জন্য আগামী দুই দিনের মধ্যেই আসছে আরও দুই হাজার কিট। এছাড়া চীন সরকার কাছ থেকে আসছে আরও ১০ হাজার কিট, ১৫ হাজার সার্জিকেল মেডিকেল মাস্ক, ১০ হাজার মেডিকেল প্রটেকটিভ ড্রেস এবং ১ হাজার ইনফারেড থার্মোমিটার।

৪। বিদেশ থেকে যারা আসছেন তাদের তালিকা ঠিকানাসহ জেলা প্রশাসকদের কাছে পাঠিয়ে দেয়া হচ্ছে। স্থানীয় প্রশাসন আগত প্রবাসীদের হোম কোয়ারেন্টাইন রাখার ব্যবস্থা করছেন। যারা হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকার আইন ভঙ্গ করছেন তাদের জরিমানাও করা হচ্ছে। গতকালও টাঙ্গাইল মাদারীপুরসহ বিভিন্ন জায়গায় ৩৫ প্রবাসীকে জরিমানা করা হয়েছে।

৫। যাদের শরীরে করোনাভাইরাসের লক্ষণ দেখা যাচ্ছে তাদের আশকোনা হাজিক্যাম্পসহ নিরাপদ স্থানগুলোতে রাখার ব্যবস্থা করেছে।

৬। স্কুল কলেজগুলো বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। কোচিং সেন্টারগুলো বন্ধ করা হয়েছে। জনপ্রতিনিধিদের অফিসিয়ালি চিঠি দিয়ে সম্পৃক্ত করা হয়েছে।

৭। ইউরিপিয়ান দেশগুলোর সব ফ্লাইট বন্ধ করা হয়েছে।

৮। গাইডলাইন, জনসচেতনতামূলক ক্যাম্পেইন সরকারের পক্ষ থেকে মিডিয়াতে প্রচার করা হচ্ছে। জেলা, উপজেলা পর্যায়ে লিফলেট বিতরণ করা হচ্ছে।

৯। পতেঙ্গা ও কক্সবাজারসহ পর্যটন কেন্দ্রগুলো বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

১০। কোনো আবাসিক হোটেলে বিদেশি থাকলে সাথে সাথে স্থানীয় প্রশাসনকে অবহিত করার জন্য নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

১১। যাদের হাঁচি, কাশি, জ্বর তাদের জুমা’র নামাজে শামিল না হবার জন্য ইসলামিক ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

১২। চাল, ডালসহ নিত্যপণ্যের বাজার স্বাভাবিক রাখার লক্ষ্যে জেলা প্রশাসকরা ব্যবসায়ীদের সাথে মতবিনিময় সভা এবং কেউ যেন নিত্যপণ্যের বাড়তি দাম আদায় করতে না পারে সে লক্ষ্যে বাজার মনিটরিং এর ব্যবস্থা করা হয়েছে।

১৩। জেলা-উপজেলায় কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে। জেলা ও উপজেলা প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে তৎপর রাখা হয়েছে।

১৪। করোনাভাইরাস প্রতিরোধে হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকা ব্যক্তিদের মনিটরিং, জনসচেতনতা বৃদ্ধি, স্কুল ও কোচিং বন্ধ রাখা এবং বাজার ব্যবস্থা স্থিতিশীল রাখার নিমিত্ত প্রত্যেক উপজেলায় একটি করে টাস্কফোর্স টিম অভিযান পরিচালনা করছে।

সরকার পুরোপুরি তৎপর। এইরকম আরও অসংখ্য পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে।

লেখক: প্রধানমন্ত্রীর উপপ্রেস সচিব

মন্তব্য করুন

খবর অনুসন্ধান

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২১৩১৪১৫
১৬১৭১৮১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
৩০৩১  

সর্বশেষ নিউজ

আরো পড়ুন

Shares