৩০, মার্চ, ২০২০, সোমবার

কে এই শ্রমিক লীগ নেত্রী সাদিয়া?

প্রতিদিনের কাগজ ডেস্ক:
প্রকাশিত: ৭:৪৮ অপরাহ্ন, ১২ মার্চ ২০২০, বৃহস্পতিবার


কে এই শ্রমিক লীগ নেত্রী সাদিয়া?

ছবি- সংগৃহীত

শ্রমিক লীগের বহিষ্কৃত নেত্রী সাদিয়া আক্তার মুক্তার (৩২) রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। ঢাকা ও নরসিংদীতে যুব মহিলা লীগ নেত্রী পাপিয়ার অপকর্মের নানা কাহিনি উদঘাটনের মধ্যেই বেরিয়ে এলো শ্রমিক লীগ নেত্রীর অপরাধ জগতের ঘটনা।

৩২ বছরের এই নারী এখন ‘টক অব দ্য খুলনা’। স্থানীয় আওয়ামী লীগকে পাত্তা না দিয়ে কেন্দ্র থেকে খুলনা মহানগর মহিলা শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদকের পদটি বাগিয়ে নেন তিনি। তবে নানা অভিযোগের কারণে গত ৩১ জুলাই তাকে বহিষ্কার করা হয়। পুলিশ তাকে স্বর্ণ চোরাই চক্রের হোতা বলে আখ্যায়িত করেছে।

সোমবার (৯ মার্চ) খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের একটি বিশেষ দল বিভিন্ন অপরাধে জড়িত থাকায় সাদিয়াকে গ্রেপ্তার করে। তার বাসা থেকে ১২ ভরি তিন আনা চোরাই সোনা এবং সোনা বিক্রির দুই লাখ ৮২ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়েছে।

গ্রেপ্তারে পর মঙ্গলবার (১০ মার্চ) তাকে ১০ দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করা হয়। বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) খুলনা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিরুল ইসলাম চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

অনুসন্ধানে জানা যায়, বাগেরহাট জেলার মোরেলগঞ্জের নিশানবাড়িয়া এলাকার মৃত আলতাফ সরদার ও মৃত মোসাম্মদ ফরিদা বেগমের দ্বিতীয় কন্যা সাদিয়া। বাবা নগরীর সোনাডাঙ্গা থানার পাশে মুদি দোকানের ব্যবসা করতেন। দেড় যুগ আগে ঢাকার জুরাইনের ছেলে শুকুর আলীর সঙ্গে সাদিয়ার বিয়ে হয়। এ সময় শুকুর প্লট ও জমির ব্যবসা করতেন। সাদিয়া রাজনীতিতে সম্পৃক্ত হওয়ার পর স্থানীয় আওয়ামী লীগের সঙ্গে বনিবনা হচ্ছিল না। তবে তিনি কয়েক বছর আগে কেন্দ্র থেকে খুলনা মহানগর মহিলা শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক পদটি বাগিয়ে নেন।

পরে খুলনা মহানগর আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে নগর আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক, কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ নেতার সঙ্গে সাদিয়াকে দেখা যায়। তবে নানাবিধ অভিযোগের কারণে গত বছরের ৩১ জুলাই তাকে পদ থেকে বহিষ্কার করে যুগ্ম সম্পাদক জাহানারা বেগমকে ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদকের পদ দেওয়া হয়।

আরও জানা যায়, নগরীর সোনাডাঙ্গা এলাকার মজিদ সরণিতে অবস্থিত ‘গুহা ইন খুলনা’ রেস্টুরেন্টের ব্যবসা রয়েছে সাদিয়া-শুকুর দম্পতির। এটি খুলনার একমাত্র মাটির নিচে থাকা রেস্তোরাঁ।

মার্চের শুরুতেই সাদিয়া দম্পতি সর্বশেষ এ রেস্তোরাঁয় এসেছিলেন। তবে রেস্টুরেন্টের কর্মচারীদের ভাষায়, ম্যাডাম (সাদিয়া) গ্রেপ্তারের কিছু দিন আগে থেকে মালিকপক্ষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ নেই রেস্তোরাঁ ব্যবস্থাপক জিহাদ আল মামুনের। তিনি বলেন, শুকুরের ভাই লিটনের মাধ্যমে তারা এ রেস্তোরাঁ পরিচালনা করছেন।

ঘটনাস্থলে গিয়ে জানা যায়, কিছুদিন আগে র‌্যাব কর্মকর্তারাও রেস্তোরাঁ মালিক সম্পর্কে খোঁজখবর নিতে এসেছিলেন। এ দিকে নগরীর হরিণটানা থানার রাসেল সড়কে এ দম্পতির বহুতল ভবন রয়েছে। বাড়ির সামনে একটি এবং গ্যারেজে চারটি মোটরসাইকেল দেখা যায়। যার অধিকাংশের রেজিস্ট্রেশন নেই। ভবনের নিচতলার একটি ফ্ল্যাটে সাদিয়ার বড় ভাই মানিক সরদার এবং অপরটিতে ভাড়াটিয়া রয়েছেন। বাড়িটি সিসি ক্যামেরার আওতায়।

সাদিয়ার বড় ভাই মানিক বলেন, আমার বোন ষড়যন্ত্রের শিকার। সে কোনো ধরনের চোরাই স্বর্ণের সিন্ডিকেটের সঙ্গে জড়িত নয়। তবে রাজনীতি করায় তার অনেক শক্র হয়েছে।

এছাড়া শুকুর জমির ব্যবসা করার কারণেও শত্রু বেড়েছে। খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের পেছনে শুকুরের চার কাঠা জমি আছে, যা নিয়ে পার্শ্ববর্তী লোকজনের সঙ্গে ঝামেলা আছে।

তবে তিনি স্বীকার করেন যে, শুকুর কয়েকদিন ধরে আত্মগোপনে রয়েছেন। ঘটনার বিষয়ে সাদিয়ার স্বামী শুকুর আলীর ব্যবহৃত সেলফোনে একাধিকবার ফোন এবং খুদে বার্তা দিলেও তিনি কোনো উত্তর দেননি।

জাতীয় শ্রমিক লীগ মহানগরের সাধারণ সম্পাদক রণজিত কুমার ঘোষ বলেন, সাদিয়া কেন্দ্র থেকে পদ নিয়ে এসেছিলেন। আমরা অনেকেই এর বিরোধিতা করেছিলাম। নানাবিধ অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে গত বছরের ৩১ জুলাই তাকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হয়।

খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের ডিসি (দক্ষিণ) মো. এহসান শাহ বলেন, সাদিয়া সোনা চোরাই সিন্ডিকেটের মূল হোতা। তার বিরুদ্ধে খিলগাঁও থানায় স্বর্ণালংকার চুরির মামলা আছে। পুলিশ চক্রটির সব সদস্যকে পাকড়াওয়ের চেষ্টা চালাচ্ছে। তার স্বামী শুকুর পলাতক।

মন্তব্য করুন

খবর অনুসন্ধান

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২১৩১৪১৫
১৬১৭১৮১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
৩০৩১  

সর্বশেষ নিউজ

আরো পড়ুন

Shares