১০, এপ্রিল, ২০২০, শুক্রবার

মাত্র ৩ ঘণ্টায় ধান শুকিয়ে পাওয়া যাবে চাল!

প্রতিদিনের কাগজ ডেস্ক:
প্রকাশিত: ১২:৫৯ অপরাহ্ন, ১ মার্চ ২০২০, রোববার


মাত্র ৩ ঘণ্টায় ধান শুকিয়ে পাওয়া যাবে চাল!

কৃষকদের বিএইউ-এনটিআর ড্রায়ারটি দেখাচ্ছেন গবেষকগণ

শিরোনাম পড়ে কি অবাক হয়েছেন? আসলে অবাক হওয়ারই কথা। প্রচলিত পদ্ধতিতে ধান শুকাতে যেখানে দুই থেকে তিনদিন লেগে যায়। সেখানে বিএইউ-এসটিআর ড্রায়ার দিয়ে নামক যন্ত্র দিয়ে মাত্র ৩ ঘণ্টায় ধান শুকিয়ে চাল পাওয়া যাবে।

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) কৃষি শক্তি ও যন্ত্র বিভাগের গবেষক অধ্যাপক ড. চয়ন কুমার সাহা ও তার গবেষক দল এ যন্ত্রটি উদ্ভাবন করেছেন।

জানা গেছে, প্রচলিত পদ্ধতিতে ধানকে চাল এবং চালকে ভাত করে খাবার টেবিলে পৌঁছাতে ১৩ ভাগই অপচয় হচ্ছে। একই সঙ্গে প্রাকৃতিক দুর্যোগের দিনে ধান শুকাতে অনেক কাটখড় পোড়াতে হচ্ছে। তাই এ অবস্থা থেকে মুক্তি দিতে উদ্ভাবন করা হয়েছে বিএইউ-এসটিআর ড্রায়ার (ধান শুকানো যন্ত্র)।

যন্ত্রটি সম্পর্কে প্রকল্পের প্রধান গবেষক অধ্যাপক ড. চয়ন কুমার সাহা বলেন, এটি ড্রায়ার, ব্লোয়ার, ভিতরে-বাইরে খাঁচা, গরম বাতাস পরিবহন পাইপ এবং চুলার সমন্বয়ে গঠিত। দেশের কয়েকটি চাতাল মিলে এ ড্রায়ার পরীক্ষামূলকভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে। তাতে দেখা যাচ্ছে, এ ড্রায়ারে প্রতি ব্যাচে মাত্র তিন থেকে পাঁচ ঘণ্টায় ৫০০ কেজি ধান শুকানো যাচ্ছে। একটি ড্রায়ারে প্রতিদিন ১ টনের অধিক ধান শুকানো যায়। আর ধান বীজের অঙ্কুরোধগমন ক্ষমতাও ঠিক থাকছে ৯০ ভাগ। চালের গুণগত মানও ঠিক থাকছে। মাত্র দুজন লোক দিয়েই সম্ভব হচ্ছে এর পরিচালনা।

তিনি আরো বলেন, ২০১৫ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি শক্তি ও যন্ত্র বিভাগ ইউএসএইড-ইউএসএ এবং ফিড দ্য ফিউচারের আওতায় ইউনিভার্সিটি অব ইলিনয়েজ কানসাস স্টেট ইউনিভার্সিটির সহযোগিতায় গবেষণা শুরু করে। এতে সাফল্য আসে ২০১৬ সালের মাঝামাঝিতে। যন্ত্রের নামকরণ করা হয় বিএইউ-এসটিআর ড্রায়ার।

এই উদ্ভাবনী যন্ত্রের দাম মাত্র ২০ থেকে ৩০ হাজার টাকা। এতে ধান শুকানোর খরচ অনেক কম। সারা দেশে এটি ছড়িয়ে দিলে কৃষকরা যেমন ন্যায্যমূল্য পাবেন, সেই সঙ্গে অনেক অপচয় রোধ হবে। বিএইউ-এনটিআর ড্রায়ারটি স্থানীয় ওয়ার্কশপে স্থানীয় কাঁচামাল দিয়ে খুব সহজে তৈরি করা যায়। বর্তমানে বগুড়ার কামাল মেশিনটুলস, নেত্রকোণার ভাই ভাই ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কসপ, দিনাজপুরের উত্তরণ ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কসপে যন্ত্রটি প্রস্তুত করা হচ্ছে।

প্রকল্পের ইন-কান্ট্রি কো-অর্ডিনেটর প্রফেসর ড. মঞ্জুরুল আলম জানান, রোদে যদি ধান শুকাতে এক টাকা খরচ হয়, তাহলে এই যন্ত্রের সাহায্যে শুকাতে ৮৭ পয়সা লাগবে। এতে করে সময় ও শ্রম দুটিই সাশ্রয় হচ্ছে। ফলে অর্থনৈতিকভাবে এবং অপচয় রোধে এই ড্রায়ার কার্যকরী ভূমিকা রাখবে। তাপ উৎপাদনের জন্য চারকোল বা কয়েল খড়ি ব্যবহার করা হয় বিধায় কোনো রকম ধোঁয়া উৎপন্ন হয় না ফলে পরিবেশের হবে না।

মন্তব্য করুন

খবর অনুসন্ধান

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২
১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭২৮২৯৩০  

সর্বশেষ নিউজ

আরো পড়ুন

Shares