বুধবার, ৮ জুলাই ২০২০, ১:৪৩ পিএম

নিষ্কণ্টক রেজাউল, মামলায় শাহাদাত বিত্তে শেঠ এগিয়ে

প্রতিদিনের কাগজ ডেস্ক:
প্রকাশিত: ১২:৩৯ অপরাহ্ন, ২৯ ফেব্রুয়ারী ২০২০, শনিবার


নিষ্কণ্টক রেজাউল, মামলায় শাহাদাত বিত্তে শেঠ এগিয়ে

ভোটের হিসাবে যাই হোক, অর্থবিত্তে এগিয়ে রয়েছেন জাতীয় পার্টির সোলায়মান আলম শেঠ। আর মামলায় শীর্ষে রয়েছেন বিএনপির ডা. শাহাদাত হোসেন। অন্যদিকে অর্থবিত্তে পিছিয়ে থাকা আওয়ামী লীগের রেজাউল করিমের বিরুদ্ধে কোনো মামলা নেই। নেই কোনো ঋণ। অনেকটা নিষ্কণ্টক তিনি। তিনজনই চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) আসন্ন নির্বাচনে প্রধান তিন রাজনৈতিক দল মনোনীত মেয়র প্রার্থী। গত ২৭ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন কমিশনে দেয়া তাদের হলফনামায় পাওয়া গেছে এসব তথ্য। অর্থবিত্তের হিসাব যাই থাক, চসিকের মেয়রপদে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে দুই প্রধান রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপির প্রার্থীর মধ্যেই।

হলফনামা অনুযায়ী চসিক নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী রেজাউল করিম চৌধুরীর হাতে নগদ টাকা রয়েছে মাত্র ১ লাখ টাকা। অন্যদিকে জাতীয় পার্টির সোলায়মান আলম শেঠের হাতে নগদ রয়েছে ১ কোটি ৪১ লাখ ২৮ হাজার ৫০০ টাকা এবং বিএনপির ডা. শাহাদাত হোসেনের কাছে নগদ রয়েছে ১৫ লাখ টাকা। অন্যদিকে রেজাউল করিম চৌধুরীর কোনো ধরনের ঋণ নেই। ডা. শাহাদাতের ঋণ রয়েছে ৩ কোটি ৩৫ লাখ টাকার। সোলায়মান আলম শেঠের কোনো ব্যক্তিগত ঋণ না থাকলেও ৯২ লাখ ৪৯ হাজার ১৬৭ টাকার গাড়ির ঋণ রয়েছে।

হলফনামার তথ্যমতে, রেজাউল করিম ১৯৬৬ সাল থেকে রাজনীতিতে যুক্ত থাকলেও অতীতেও তার বিরুদ্ধে কোনো ফৌজদারি মামলা ছিল না। এখনো নেই। অন্যদিকে ডা. শাহাদাত হোসেনের বিরুদ্ধে ৪৮টি মামলা রয়েছে।

ভোটের জন্য ১০ লাখ টাকা ধার করবেন রেজাউল করিম : পেশায় ব্যবসায়ী ৬৭ বছর বয়সী রেজাউল করিম নগরীর চান্দগাঁও থানার বহদ্দার বাড়ির সন্তান। তিনি এখনো পৈত্রিক বাড়িতেই থাকেন। কোনো ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানে তার কোনো ঋণ নেই। তার স্ত্রীর নামে অকৃষি জমি আছে দুই গণ্ডা দুই কড়া। উত্তরাধিকারসূত্রে ১ লাখ টাকা মূল্যমানের নির্মিত ঘর পেয়েছেন রেজাউল। নিজের নামে স্থাবর

সম্পদে রেজাউলের চারটি অ্যাপার্টমেন্টের বর্তমান মূল্যমান এক কোটি ৯ লাখ ১৬ হাজার ৬৬৭ টাকা। তার কাছে নগদ আছে ১ লাখ টাকা, স্ত্রীর কাছে ৩ লাখ ৫১ হাজার ৪০৯ টাকা। পাশাপাশি রেজাউলের নামে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জমা ৭ লাখ ৮ হাজার ৫৩৯ টাকা, স্ত্রীর নামে ৩২ লাখ ২৭ হাজার ৯০ টাকা। স্ত্রীর নামে প্রাইজবন্ড আছে ২০ হাজার টাকার। ৪ লাখ টাকা দামের একটি প্রাইভেট কারের মালিক রেজাউল। তার ব্যবসায়িক মূলধন ১২ লাখ ছয় হাজার টাকা। স্ত্রীর নামে ব্যবসায়িক মূলধন ২ লাখ ৮০ হাজার টাকা। এছাড়া স্ত্রীর মেসার্স চৌধুরী ইলেকট্রনিক্স নামের একটি ফার্মের মূলধন ২ লাখ ৫১ হাজার টাকা। বাড়ি, দোকান ভাড়া ও অ্যাপার্টমেন্ট থেকে রেজাউলের বার্ষিক আয় ৪ লাখ ১৪ হাজার টাকা। ব্যবসা থেকে নির্ভরশীলদের আয় ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা আর ফার্মের শেয়ার থেকে আয় ২ লাখ ১ হাজার টাকা। নির্বাচনী ব্যয়ের জন্য নিজের ব্যবসা থেকে ১ লাখ টাকা খরচ করবেন রেজাউল। পাশাপাশি স্ত্রী ৫ লাখ ও এক ভাই সাড়ে ৩ লাখ টাকা দেবেন। এর বাইরে দুই ভাইয়ের কাছ থেকে ৫ লাখ টাকা করে মোট ১০ লাখ টাকা ভোটের জন্য ধার করবেন রেজাউল।

ডা. শাহাদাতের নির্বাচনী বাজেট ৩০ লাখ টাকা : নগরীর বাকলিয়া ডিসি রোড এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা ৫৪ বছর বয়সী চিকিৎসক শাহাদাত এখন থাকেন নগরীর বাদশা মিয়া সড়কের একটি ফ্ল্যাটে। হলফনামার তথ্য মতে, শাহাদাতের উত্তরা ফাইন্যান্স ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেডের কাছে ৩ কোটি ২ লাখ ২৫ হাজার টাকা ঋণ আছে। ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক লিমিটেডের কাছে ঋণ ২৯ লাখ ৮১ হাজার ১৩২ টাকা এবং অন্যান্য ঋণ ২ লাখ ৪৬ হাজার ৩১৩ টাকা। চিকিৎসক শাহাদাত নগরীর পাঁচলাইশ এলাকার দি ট্রিটমেন্ট সেন্টার নামের হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মালিক। প্রতিষ্ঠানটির ব্যবসায়িক মূলধন ৩ কোটি ২৮ লাখ ৯০ হাজার ৬০০ টাকা। তার টয়োটা কারের মূল্য ১১ লাখ ৮০ হাজার আর পুরনো একটি জিপের মূল্য ২৭ লাখ ২০ হাজার টাকা।

শাহাদাতের মোট বার্ষিক আয় ২০ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। এরমধ্যে বাড়ি ভাড়া বাবদ আসে ৩ লাখ ৫৩ হাজার ২৫ টাকা। চিকিৎসা, শিক্ষকতা ও পরামর্শক হিসেবে পান ১৭ লাখ ২১ হাজার টাকা। শাহাদাতের নগদ ১৫ লাখ টাকার পাশাপাশি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জমা আছে ৩৪ লাখ ৪৭ হাজার ২৭৭ টাকা। বন্ড ও স্টক এক্সচেঞ্জে আছে শাহাদাতের ৩ লাখ ৭১ হাজার ৩৫০ টাকা। শাহাদাতের মালিকানাধীন দুটি অকৃষি জমির মূল্য ২৪ লাখ ৩০ হাজার টাকা। একটি ৮ তলা আবাসিক ভবনের আট ভাগের একাংশের মালিক তিনি। আর নিজের মালিকানাধীন একটি অ্যাপার্টমেন্টের মূল্য ৩৫ লাখ টাকা। নির্বাচনী ব্যয় নির্বাহের জন্য নিজের আয় থেকে ২০ লাখ খরচ করবেন তিনি। আর দুই বোনের কাছ থেকে ঋণ করবেন ৫ লাখ করে মোট ১০ লাখ টাকা।

সোলায়মান শেঠের সম্পদ : জাতীয় পার্টি মনোনীত মেয়র প্রার্থী সোলায়মান আলম শেঠের অস্থাবর সম্পত্তির মধ্যে নগদ অর্থের পরিমাণ ১ কোটি ৪১ লাখ ২৮ হাজার ৫০০ টাকা, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জমা আছে ৩ লাখ ৫৪ হাজার ৪২২ টাকা। বন্ড, ঋণপত্র, স্টক একচেঞ্জে তালিকাভুক্ত এবং তালিকাভুক্ত নয় এমন কোম্পানির শেয়ার ১০ লাখ ২০ হাজার, নিজ নামে স্বর্ণালঙ্কার রয়েছে মাত্র ১৫ হাজার টাকার, ইলেকট্রনিক্স সামগ্রী রয়েছে ২৫ হাজার টাকার, আসবাবপত্র রয়েছে ২৫ হাজার টাকার। সোলায়মান আলম শেঠ বাড়ি, অ্যাপার্টমেন্ট, দোকান ও অন্যান্য ভাড়া বাবদ বছরে আয় করেন ২ লাখ ৫৯ হাজার ২০০ টাকা, ব্যবসা থেকে বছরে আয় হয় ১৪ লাখ ৮১ হাজার ১৩০ টাকা, চাকরি ও সম্মানী ভাতা বাবদ আয় করেন ১৫ লাখ ২০ হাজার টাকা। সোলায়মান আলম শেঠের স্থাবর সম্পদের মধ্যে রয়েছে ১৪ কোটি ৫০ লাখ ১২ হাজার ৭৯৮ টাকার পৈত্রিকভাবে প্রাপ্ত জমি ও খাগড়াছড়িতে ৫৪ লাখ ৩৪ হাজার টাকার জমি। তার রয়েছে ১টি বাসসহ ১৩টি গাড়ি যার মূল্য ৩ কোটি ১৪ লাখ ৭২ হাজার টাকা। সোলায়মান আলম শেঠের কোনো ব্যক্তিগত ঋণ না থাকলেও ৯২ লাখ ৪৯ হাজার ১৬৭ টাকার গাড়ির ঋণ রয়েছে।

সুত্র : ভোরের কাগজ।

মন্তব্য করুন

সর্বশেষ নিউজ

আরো পড়ুন