২৮, মার্চ, ২০২০, শনিবার

ঢাকা মেডিকেলের ছাত্র এখন ভুসির দোকানের শ্রমিক!

প্রতিদিনের কাগজ ডেস্ক:
প্রকাশিত: ৪:৫৪ অপরাহ্ন, ১৭ ফেব্রুয়ারী ২০২০, সোমবার


ঢাকা মেডিকেলের ছাত্র এখন ভুসির দোকানের শ্রমিক!

ঢাকা মেডিকেল কলেজের সাবেক ছাত্র রাজকুমার শিল। ছবি : আমাদের সময়

দিনাজপুরের বিরামপুর উপজেলা সদরের ঘাটপাড় এলাকার দ্বিতীয় প্রফেশনাল পরীক্ষায় ফার্মাকোলজিতে অকৃতকার্য হওয়ার পর দ্বিতীয়বার পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন ঢাকা মেডিকেল কলেজের (ঢামেক) ছাত্র রাজকুমার শীল। তারপরও সফলতার মুখ না দেখায় গুরুতর মানসিক অসুস্থতায় (সিজোফ্রেনিয়া) পড়ে যান তিনি। এরপর দীর্ঘ সময়ের জন্য নিরুদ্দেশ হয়ে যান ঢামেক কে-৪০ ব্যাচের এ ছাত্র।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বর্তমানে তিনি পৌর শহরের ঘাটপাড় এলাকার মৃত আব্দুল করিম সরকারের ছেলে সেলিম সরকারের ভুসি কারখানায় কাজ করছেন। দিন শেষে ৩০ টাকা মজুরি পান। এভাবেই চলছে রাজকুমারের জীবিকা।

রাজকুমার শীলের মা পার্বতী রাণী শীল (৭০) কে বলেন, ‘ঢাকা কলেজ থেকে ১৯৮২ সালে এইচএসসি পাস করার পর ঢাকা মেডিকেল কলেজে ১৯৮৩ সালে ভর্তি হয়। দ্বিতীয় প্রফেশনাল পরীক্ষায় ফার্মাকোলজিতে ফেল করার পরে দ্বিতীয়বার পরীক্ষা দিয়েছিলেন। কিন্তু সেবারও কৃতকার্য হতে না পেরে মানসিকভাবে গুরুতর অসুস্থ (সিজোফ্রেনিয়া) হয়ে পড়ে।’

তিনি বলেন, ‘এর পর ৭ বছর ধরে খাঁনপুর ইউনিয়নের তার বন্ধু আরমান হোসেনের অটো রাইস মিলে চালের কারখানায় শ্রমিক হিসেবে কাজ করতো। প্রতি সপ্তাহে তাকে ২০০ টাকা দেওয়া হতো।’

রাজকুমারের মা জানান, পরে রাজকুমার সাজুর ওষুধের দোকানে ১০ টাকা মজুরিতে কাজ করেন। এক বছরের মতো পাবনা মানসিক হাসপাতালে ভর্তিও হয়েছিলেন।

পার্বতী রাণী আরও জানান, প্রাথমিক ও জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষায় বৃত্তি পেয়েছিল রাজকুমার। অসুস্থতার পর বর্তমানে সে কথাবার্তায় কিছুটা স্বাভাবিক। নিয়মিত ওষুধ খেয়ে আগের তুলনায় অনেকটা ভালো আছেন।

রাজকুমারের বাবা নগিনা পেশায় নাপিত। তার চার ছেলে-এর মধ্যে বড় গনেশ চন্দ্র শিল (৬০), রাজকুমার শিল (৫৬), গোবিন্দ শিল (৫৪), আনন্দ শিল (৫০)।

বড় ছেলে গনেশ চন্দ্র, তিনিও পেশায় নাপিত। তার আরও দুই ছেলেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়িয়েছেন।

জানা যায়, রাজকুমারের আরেক ভাই আনন্দ শীলও (৫০) একই রোগে আক্রান্ত। রাজধানীর তিতুমীর কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করার পর তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে হিন্দু সংস্কৃতি ও পালি বিষয়ে ভর্তি হয়েছিলেন। তবে অসুস্থ হয়ে যাওয়ায় স্নাতক সম্পন্ন করতে পারেননি তিনি।

সামর্থবান না হওয়ায় তাদের সাহায্যার্থে গত ২ ফেব্রুয়ারি বিরামপুর সমাজ সেবা দপ্তরে প্রতিবন্ধী ভাতার জন্য দরখাস্ত করেছেন তাদের মা। তিনি বলেন, ‘অসুস্থ হওয়ায় তারা বড় কোনো কাজ করতে পারে না। কোনো হৃদয়বান ব্যক্তি তাদের জন্য সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিলে আমাদের বড় উপকার হতো।’

সাহায্য পাঠাবার নম্বর
০১৭০৭১৪৪৫৯৭ (বিকাশ) পার্বতী রাণী শীল (রাজকুমার শীলের মা)।

মন্তব্য করুন

খবর অনুসন্ধান

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২১৩১৪১৫
১৬১৭১৮১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
৩০৩১  

সর্বশেষ নিউজ

আরো পড়ুন

Shares