২৮, মার্চ, ২০২০, শনিবার

আঘাত যতই প্রচণ্ড হইবে, আমাদের সংগ্রাম ততই জোরদার হইবে

প্রতিদিনের কাগজ ডেস্ক:
প্রকাশিত: ২:০৫ অপরাহ্ন, ১৭ ফেব্রুয়ারী ২০২০, সোমবার


আঘাত যতই প্রচণ্ড হইবে, আমাদের সংগ্রাম ততই জোরদার হইবে

১৯৬৬ সালের ১৭ এপ্রিল খুলনার স্থানীয় মিউনিসিপ্যাল পার্কে এক বিরাট জনসমাবেশে পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী লীগের সভাপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিপুল হর্ষধ্বনি ও করতালির মধ্যে ঘোষণা করেন, জেল আমরা বহুবার দেখিয়াছি, বুলেটের আঘাতও পরীক্ষা করিয়া দেখিতে প্রস্তুত। আঘাত যতই প্রচণ্ড হইবে, আমাদের সংগ্রাম ততই জোরদার হইবে, আপসহীনভাবে চলিতেই থাকিবে।

বঙ্গবন্ধু বলেন, সরকার ছয়-দফার উদ্যোক্তাদের ব্যাপকভাবেক গ্রেফতারের জন্য প্রস্তুতি নিতেছেন। তাই, এক্ষণে জনসাধারণকেই সমস্যা অনুধাবন করিতে এবং ঐক্যবদ্ধ হইতে হইবে। তিনি আরও বলেন যে, ছয়-দফা জনসাধারণেরই কর্মসূচি এবং ইহা বাস্তবায়নের জন্য জনসাধারণকেই আগাইয়া আসিতে হইবে।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আরও বলেন, হিন্দু ও ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদের যাঁতাকলে উপমহাদেশের দশ কোটি মুসলমান বিলুপ্ত হওয়ার উপক্রম হইলেই পাকিস্তানের দাবি উত্থাপিত হয় এবং মুসলমানরা পাকিস্তান কায়েম করে। আজ সাড়ে পাঁচ কোটি পূর্ব পাকিস্তানিকেও রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অস্তিত্ব রক্ষার জন্য ছয়-দফা আদায় করিতে হইবে।

দক্ষিণবঙ্গ সফরকালীন সর্বশেষ এই জনসমাবেশে প্রায় দেড় ঘণ্টাব্যাপী বক্তৃতায় বঙ্গবন্ধু তাঁহার ছয়-দফার দফাওয়ারী বিশ্লেষণ করেন। প্রতিক্রিয়াশীল এবং কিছুসংখ্যক অতিপ্রগতিবাদী রাজনৈতিক কেন ছয়-দফার বিরুদ্ধে জোট বাঁধিয়াছেন, তাহা অনুধাবনের জন্য তিনি জনসাধারণকে আহ্বান জ্ঞাপন করেন।

ছয়-দফা বিশ্লেষণ করিয়া আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, ছয়-দফা বঞ্চনার বিরুদ্ধে রক্ষাকবচ, ইহা আপামর জনসাধারণের অর্থনৈতিক উন্নয়নের গ্যারান্টি, ইহা সমগ্র পাকিস্তানের জন্যই ম্যাগনাকার্টা বা বড় সনদ। ছয়-দফার সুযোগ গ্রহণে পশ্চিম পাকস্তান নারাজ কেন- তাহাও তিনি ব্যাখ্যা করেন।

তিনি বলেন যে, সেপ্টেম্বরের যুদ্ধের সময় শক্তিশালী কেন্দ্র বা কেন্দ্রের শক্তিমান পুরুষের উপযোগিতা অনুভূত হয় নাই। যুদ্ধকালে সর্বক্ষমতাসম্পন্ন প্রেসিডেন্ট কেন পূর্ব পাকিস্তানে আসিতে পারেন নাই, তাহা অনুধাবনের জন্য তিনি আহ্বান জানান।

তিনি উল্লেখ করেন যে, যুদ্ধকালে পূর্ব পাকিস্তান গোটা দুনিয়া হইতে বিচ্ছিন্ন হইয়া গিয়াছিল। বক্তৃতা প্রসঙ্গে বঙ্গবন্ধু বলেন যে, পাকিস্তানের মাতৃত্বের খাতিরে পূর্ব পাকিস্তান সকল প্রকারে আত্মত্যাগ করিয়াছে। কিন্তু শুভেচ্ছার এই মনোভাবকে দুর্বলতা বলিয়া ভুল বুঝা হইয়াছে।

খুলনার মহামারী, জীবাণুযুক্ত পানি সরবরাহ ব্যবস্থা প্রভৃতি স্থানীয় সমস্যাদি সম্পর্কেও তিনি আলোচনা করেন। দূষিত পানি সরবরাহের জন্য তিনি কর্তৃপক্ষের তীব্র সমালোচনা করেন।

তিনি বলেন যে, স্থানীয় মন্ত্রীরা বিভিন্ন স্থানে উপদেশ খয়রাত করিতেছেন। কিন্তু মহামারী কবলিত খুলনার জনসাধারণের নিকট আসিতেছেন না। কারণ, জনসাধারণের জন্য তাঁহাদের কোন মমতা নাই, প্রভুর সন্তুষ্টি বিধানই তাঁহাদের কাজ।

সূত্র : এই দেশ এই মাটি গ্রন্থ।

মন্তব্য করুন

খবর অনুসন্ধান

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২১৩১৪১৫
১৬১৭১৮১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
৩০৩১  

সর্বশেষ নিউজ

আরো পড়ুন

Shares