২৮, মার্চ, ২০২০, শনিবার

১১-২০ গ্রেডের প্রায় পঞ্চাশ হাজার চাকুরীজীবী কেন মানববন্ধনে!

প্রতিদিনের কাগজ :
প্রকাশিত: ১:৩০ অপরাহ্ন, ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২০, শনিবার


১১-২০ গ্রেডের প্রায় কুড়ি হাজার সংখ্যক চাকুরীজিবি কেন মানববন্ধনে!

গনপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রজাতন্ত্রের ১১-২০ গ্রেডের সরকারী চাকুরিজীবী দের সম্মিলিত অধিকার আদায় ফোরাম এর ব্যানারে হয়ে গেলো গত ৭/২/২০২০ তারিখ শুক্রবার ঢাকা প্রেসক্লাবের সামনে এক বিশাল মানব বন্ধন।

১১-২০ গ্রেডের প্রায় কুড়ি হাজার সংখ্যক চাকুরীজীবী এতে অংশ নিয়ে ছিলেন।

গত ২০১৫ সালে অষ্টম পে স্কেল ঘোষনার পর বেশ কিছুদিন ধরেই কর্মচারীদের মাঝে বৈষম্য হয়েছে এবং তা নিরসনের জন্য দাবি উঠছে। কথা হলো এতদিন পর কেন?

২০১৫ সালে পে স্কেল ঘোষনা হলেও তা কর্যকর হয় দুইধাপে।
হয়তো তাই অথবা সময়ের সাথে সাথে লাগামছাড়া নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রসহ বাসাভাড়া,গ্যাস- বিদ্যুত বিল, চিকিৎসা, লেখাপড়ার খরচ বৃদ্ধি তে এই সব গ্রেডের চাকুরীজীবীদের নাভিস্বাশ উঠে গেছে।
কারন ঐ স্কেলে সর্ব্বোচ্চ মূল বেতন ৭৮০০০/ করা হলেও সর্বনিম্ন ৮২০০/ করা হয় যা ছয় সদস্য বিশিষ্ট পরিবারের জন্য। এর সাথে বিভিন্ন ভাতাদি, যেমন টিফিন, শিক্ষা, চিকিৎসা ভাতা সমুহ বাজার মূল্যের সাথে মোটেও সামন্জস্য পূর্ন কি!সরকার অষ্টম পে স্কেলে আর কোন পে কমিশন হবেনা, বদলে প্রতিবছর জুলাই মাসে ৫% হারে ইনক্রিমেন্ট ও টাইম স্কেল সিলেকশন গ্রেড তুলে দিয়ে দশ বছর পর উচ্চতর গ্রেড এর ঘোষনা রেখেছিলেন।
কিন্তু তাতেও কোন লাভের অংক দেখেনি এই সকল গ্রেডে কর্মরত সরকারী চাকুরেরা। কারন টা স্পষ্ট, যেহেতু কমিশন ১১-২০ গ্রেডে গ্রেড থেকে গ্রেডের পার্থক্য রেখেছেন ২০০/৩০০ করে মোট মাত্র ৪৫০০/ সুতরাং উচ্চতর গ্রেড প্রদানে কোন মূল বেতন বাড়ছেনা বলে তারা দাবি করছেন।

এদেশে বিভিন্ন পেশাজীবি সরকারী সংগঠনগুলো বিচ্ছিন্নভাবে দাবি দাওয়া তুলে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন। নিকট অতীতে প্রাথমিক শিক্ষকদের রাজপথে এসে আন্দোলন সহ সংঘর্ষ সবার জানা। ইদানিং তাদের জন্য এগারো,আর বারো গ্রেড প্রদানের প্রজ্ঞাপন জারি হয়েছে।১১-২০ গ্রেডের প্রায় কুড়ি হাজার সংখ্যক চাকুরীজিবি কেন মানববন্ধনে! ইদানিং স্বাস্থ্য সহকারী গনও বেশ কিছু দাবিতে হাম রুবেলা ক্যাম্পেইনের মতো গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় কর্মসূচি বর্জন করার ঘোষনা দিয়ে মানব বন্ধন করেছেন। চলছে কালেক্টরেট সমিতি সহ বিভিন্ন সংগঠনের আন্দোলন।
নিকট অতীতে উপসহকারী কমিউনিটি কৃষি অফিসারদেরকে দশম গ্রেড ভুক্ত করা হলো। তারও আগে নার্সগন পেলেন আন্দোলন এর মুখে দশম গ্রেড সহ দ্বিতীয় শ্রেণীর পদমর্যাদা।

এবারে বাকি থাকা ১১-২০ গ্রেডের অন্যান্য চাকুরীজীবিরা এক সাথে ফোরাম করে নেমেছে মাঠে।
তাদের একটা অনলাইন গ্রুপও মাত্র ছয়মাস আগে আত্মপ্রকাশ করে চল্লিশ হাজার সদস্য একমত হয়েছে। গ্রুপের বাইরে অজস্র চাকুরিজীবী হতাশায় ভুগছে।

কথা হলো এভাবে গ্রুপে গ্রুপে সমস্যা সমাধান না করে সরকার সকলের সমস্যা নিয়ে ভাবা উচিত নয় কি!
কেন ১ নং গ্রেড থেকে ১০ নম্বর পর্যন্ত ৬৫০০০/ আর নিচের দশটা গ্রেডে মাত্র ৪৫০০ / বাড়িয়ে এহেন বৈষম্য করা হলো তা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী মানবতার মা বঙজননী শেখ হাসিনা ভেবে দেখতে পারেন। তখন তাকে কোন ভুল বোঝানো হয়েছে কিনা!

না হলে এত বড় সংখ্যক নিম্ন বেতন ভুক্ত কর্মচারী যারা এদেশের উন্নয়ন কর্মকান্ডে দূর্নিতি না করে সিংহভাগ কাজ করে তাদেরকে হতাশায় রেখে দেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রা সম্ভব না।

এই হতাশা থেকে অসন্তোষ সৃষ্টি হলে আবার রাজপথ উত্তপ্ত হলে সবার ক্ষতি হবে বলে মনে করি।

মন্তব্য করুন

খবর অনুসন্ধান

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২১৩১৪১৫
১৬১৭১৮১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
৩০৩১  

সর্বশেষ নিউজ

আরো পড়ুন

Shares