সোমবার, ৩ আগস্ট ২০২০, ১১:৫৭ এএম

শিশু জিহাদ হত্যা মামলা: দণ্ডিত চার আসামিকে খালাস

প্রতিদিনের কাগজ ডেস্ক:
প্রকাশিত: ৬:২২ অপরাহ্ন, ১২ ফেব্রুয়ারী ২০২০, বুধবার


শিশু জিহাদ (ছবি- সংগৃহীত)

শিশু জিহাদ (ছবি- সংগৃহীত)

ঢাকার শাহজাহানপুর রেল কলোনির পরিত্যক্ত পানির পাম্পের পাইপের মধ্যে পড়ে শিশু জিহাদের (৪) মৃত্যুর ঘটনায় দায়ের মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত চার আসামিকে খালাস দিয়েছেন হাইকোর্ট। বিচারিক আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে করা আপিলের শুনানি শেষে বুধবার (১২ ফেব্রুয়ারি) বিচারপতি রুহুল কুদ্দুস ও বিচারপতি এ এস এম আব্দুল মোবিনের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় দেন।

এই চার আসামি হলেন শাহজাহানপুর রেল কলোনির পানির পাম্প বসানোর প্রকল্প পরিচালক রেলওয়ের জ্যেষ্ঠ উপ-সহকারী প্রকৌশলী জাহাঙ্গীর আলম, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান জেএসআরের মালিক প্রকৌশলী আব্দুস সালাম ওরফে শফিকুল ইসলাম, কমলাপুর রেলওয়ের সহকারী প্রকৌশলী নাসির উদ্দিন ও ইলেকট্রিক ইঞ্জিনিয়ার জাফর আহমেদ সাকি।
আদালতে আসামিদের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনসুরুল হক চৌধুরী, আইনজীবী এসএম শাহজাহান, এম সারোয়ার আহমেদ, আনোয়ারুল ইসলাম শাহীন ও এম আলী মর্তুজা। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আমিনুল ইসলাম।

এর আগে ২০১৭ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি ঢাকার পঞ্চম বিশেষ জজ আদালত এক রায়ে চার আসামিকে ১০ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড দেন। তাদের ২ লাখ টাকা করে জরিমানা, অনাদায়ে আরও ২ বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়। তবে মামলার বাকি দুই আসামি খালাস পান। এরপর ওই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেন দণ্ডিতরা। ওই আপিল গ্রহণ করে হাইকোর্ট খালাসের রায় দিলেন।

প্রসঙ্গত, ২০১৪ সালের ২৬ ডিসেম্বর বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে রাজধানীর শাহজাহানপুরে বাসার কাছে রেলওয়ে মাঠের পাম্পের পাইপে পড়ে যায় জিহাদ। প্রায় ২৩ ঘণ্টা শ্বাসরুদ্ধকর অভিযানের পর ২৭ ডিসেম্বর বিকাল ৩টার দিকে জিহাদকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। এরপর শিশুটিকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এ ঘটনায় জিহাদের বাবা নাসির ফকির ফৌজদারি আইনের ৩০৪ (ক) ধারায় (অবেহেলাজনিত মৃত্যু) শাহজাহানপুর থানায় মামলা দায়ের করেন।

এ মামলায় ২০১৬ সালের ৪ অক্টোবর ৬ আসামির বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করেন আদালত। চার্জশিটে উল্লেখ করা হয়, ‘এসআর হাউজ নামের প্রতিষ্ঠান শাহজাহানপুর রেলওয়ে কলোনির মৈত্রী সংঘ মাঠে একটি পানির পাম্পের ঠিকাদারি নিয়ে আনুমানিক ৬০০ ফুট কূপ খনন করে। কিন্তু কূপের মুখ খোলা রেখে কোনও নিরাপত্তার ব্যবস্থা না করে অবহেলা ও তাচ্ছিল্যভরে তা দীর্ঘদিন ফেলে রাখে। ফলে শিশু জিহাদ ওই স্থানে খেলা করতে গিয়ে পাইপের ভেতরে পড়ে গিয়ে মারা যায়।’

এদিকে ২০১৪ সালের ২৮ ডিসেম্বর জিহাদের পরিবারের জন্য ৩০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশনা চেয়ে চিলড্রেন চ্যারিটি বাংলাদেশ ফাউন্ডেশনের পক্ষে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার আব্দুল হালিম হাইকোর্টে রিট করেন।

পরে ২০১৫ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি জিহাদের পরিবারকে ৩০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেন বিচারপতি ফারাহ মাহবুব ও বিচারপতি কাজী মো. ইজারুল হক আকন্দের হাইকোর্ট বেঞ্চ।

রুলের শুনানি শেষে ২০১৬ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্টের রায়ে জিহাদের পরিবারকে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষকে ১০ লাখ এবং ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স কর্তৃপক্ষকে ১০ লাখ টাকা (মোট ২০ লাখ টাকা) ৯০ দিনের মধ্যে দেওয়ার নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। তবে এর বিরুদ্ধে করা লিভ টু আপিল (আপিলের অনুমতি) ২০১৮ সালের ৫ আগস্ট খারিজ করে দেন আপিল বিভাগ। এরপর দুই কর্তৃপক্ষ জিহাদের পরিবারকে ২০ লাখ টাকা দেন।

মন্তব্য করুন

সর্বশেষ নিউজ

আরো পড়ুন