বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২০, ৯:৪৭ এএম

সন্তান লালন-পালনও বড় ইবাদত

মুনশি আমিনুল ইসলাম:
প্রকাশিত: ৭:৩৭ পূর্বাহ্ন, ১০ ফেব্রুয়ারী ২০২০, সোমবার


সন্তান লালন-পালনও বড় ইবাদত

ফাইল ছবি

শিশু সন্তানের পরিচর্যা ও প্রতিপালন, তাদের সঠিক তালিম-তরবিয়ত করা পিতামাতার দায়িত্ব। বিশেষত আয়-উপার্জন এবং সাংসারিক তাকিদে পিতার অধিকাংশ সময় বাহিরে অবস্থানের কারণে মায়ের ভূমিকা এক্ষেত্রে বেশি। এ দায়িত্ব শরিয়তকর্তৃক তার প্রতি অর্পিত। হাদিস শরিফে এসেছে, রাসুল (সা.) ইরশাদ করেন-

كُلّكُمْ رَاعٍ وَكُلّكُمْ مَسْئُولٌ عَنْ رَعِيّتِهِ، وَالأَمِيرُ رَاعٍ، وَالرّجُلُ رَاعٍ عَلَى أَهْلِ بَيْتِهِ، وَالمَرْأَةُ رَاعِيَةٌ عَلَى بَيْتِ زَوْجِهَا وَوَلَدِهِ، فَكُلُّكُمْ رَاعٍ وَكُلُّكُمْ مَسْئُولٌ عَنْ رَعِيّتِهِ.

তোমরা প্রত্যেকে দায়িত্বশীল। প্রত্যেকে নিজ অধীনস্তদের সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হবে। পুরুষ তার পরিবারের উপর দায়িত্বশীল। স্ত্রী স্বামীর ঘর ও সন্তানের প্রতি দায়িত্বশীল। তোমরা সকলে দায়িত্বশীল। সকলে নিজ অধীনস্তদের সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হবে। (সহিহ বুখারি: ৫২০০)

আল্লামা ইবনে হাজার আসকালানি (রহ.) উক্ত হাদিসের ব্যাখ্যায় বলেন- ‘পুরুষের দায়িত্ব হলো পরিবারকে সুন্দরভাবে পরিচালনা করা এবং তাদের হক আদায় করা। আর স্ত্রীর দায়িত্ব হলো, ঘরের কাজকর্ম আঞ্জাম দেয়া, সন্তান পরিচর্যা করা, সেবক-সেবিকাদের পরিচালনা করা এবং সকল বিষয়ে স্বামীর মঙ্গল কামনা করা।’ (ফাতহুল বারি, ১৩/১১৩)

শরিয়তকর্তৃক অর্পিত দায়িত্ব যথাযথ পালনের দ্বারা সন্তানের মা অবশ্যই বড় সওয়াবের অধিকারী হবেন। এসব কাজে মা যতক্ষণ ব্যস্ত থাকেন পুরো সময়ই নেকি ও সওয়াবের মধ্যে কাটে। হাদিস শরিফে উত্তম নারীর বর্ণনা দিতে গিয়ে রাসুল (সা.) বলেন-

خَيْرُ نِسَاءٍ رَكِبْنَ الإِبِلَ صَالِحُ نِسَاءِ قُرَيْشٍ، أَحْنَاهُ عَلَى وَلَدٍ فِي صِغَرِهِ، وَأَرْعَاهُ عَلَى زَوْجٍ فِي ذَاتِ يَدِهِ.

আরবের নারীদের মধ্যে উত্তম নারী হল কুরাইশের নারী। তারা সন্তানের প্রতি অধিক স্নেহপরায়ণ এবং স্বামীর সম্পদ হেফাজতের প্রতি অধিক যত্নশীল। (সহিহ বুখারি: ৫০৮২)

সহিহ মুসলিমে হজরত আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, এক দরিদ্র মহিলা তার দুটি সন্তান নিয়ে আমার নিকট আসলো। আমি তাকে তিনটি খেজুর দিলাম সে তাদের দু’জনের প্রত্যেককে একটি করে খেজুর দিল আর একটি খেজুর সে নিজে খাওয়ার জন্য মুখের কাছে নিলো। তখন তার দুই মেয়ে তার কাছে আরো চাইলো। সে তার খেজুরটি দুইজনের মাঝে ভাগ করে দিলো। তার এ বিষয়টি আমাকে অনেক মুগ্ধ করেছে। আমি রাসুলের (সা.) নিকট ঘটনাটি বললে তিনি জবাব দিলেন আল্লাহ তায়ালা এর বিনিময়ে তার জন্য জান্নাত ওয়াজিব করে দিয়েছেন। অথবা তিনি বলেছেন, এর বিনিময়ে আল্লাহ তাকে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দিয়েছেন। (হাদিস নং ২৬৩০)

সুতরাং আপনার স্ত্রীর সন্তান পরিচর্যা ও প্রতিপালন এবং তাদের সেবা করার গুণটি উত্তম গুণ। এর পেছনে তিনি যে সময় ও শ্রম দিয়ে যাচ্ছেন এতে তিনি বড় সওয়াবের অধিকারী হচ্ছেন। এর পাশাপাশি কুরআন তিলাওয়াত, নফল নামাজ, জিকির-আজকারের প্রতি প্রবল আগ্রহ এবং তা না করতে পারার আক্ষেপ খুবই প্রশংসনীয়। সন্তান লালন-পালনের জন্য তিনি সওয়াব পেতে থাকবেন ইনশাআল্লাহ।

মন্তব্য করুন

সর্বশেষ নিউজ

আরো পড়ুন