সোমবার, ৩ আগস্ট ২০২০, ১২:৩০ পিএম

সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষার বিপক্ষে ডাকসু, ক্যাম্পাসে প্লাস্টিক নিষিদ্ধ

প্রতিদিনের কাগজ রিপোর্ট:
প্রকাশিত: ১১:৪১ অপরাহ্ন, ৮ ফেব্রুয়ারী ২০২০, শনিবার


সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষার বিপক্ষে ডাকসু, ক্যাম্পাসে প্লাস্টিক নিষিদ্ধ

ফাইল ছবি

সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষার বিরোধিতা করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহ্য ও স্বকীয়তা বজায় রাখতে ১৯৭৩ সালের অধ্যাদেশ অনুযায়ী নিজস্ব পদ্ধতিতে ভর্তি পরীক্ষা নেয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানিয়েছে ডাকসু।

বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন সম্প্রতি সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষা পদ্ধনি প্রণয়নের প্রস্তাব করে।

শনিবার বিকেলে ডাকসুর সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত এক কার্যনির্বাহী সভায় এই সিদ্ধান্ত হয়।

ডাকসুর সহসাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেনের দাবির প্রেক্ষিতে ডাকসু প্রতিনিধিদের সর্বসম্মতিক্রমে এ সিদ্ধান্ত হয়।

বিকেল ৩টা থেকে শুরু হয়ে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা পর্যন্ত সভা চলে।

ডাকসুর সভাপতি ও উপাচার্য অধ্যাপক আখতারুজ্জামানের সভাপতিত্বে সভায় ডাকসুর কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াতুল ইসলাম, সহসভাপতি নুরুল হক নুর, সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী, সহসাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেনসহ ডাকসু প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

সভায় শিক্ষার্থী সংশ্লিষ্ট ১২টি বিষয়ে আলোচনা হয়।

এ ছাড়া সভায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক গোলাম রাব্বানীর শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ব্যবহার নিয়ে আপত্তি তোলেন ডাকসুর এক সম্পাদক।

পরে অন্য ডাকসু নেতারাও তার বক্তব্যের সঙ্গে সম্মতি জানান বলে জানা গেছে।

ভাষা শহীদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এক মিনিট নীরবতা পালনের মাধ্যমে সভার কার্যক্রম শুরু হয়। পরবর্তীতে সাধারণ সম্পাদক না থাকায় সহসাধারণ সম্পাদকের বক্তব্যের মাধ্যমে সভার আলোচনা শুরু হয়।

প্রথম এজেন্ডা হিসেবে পূর্ববর্তী সভার কার্যবিবরণী পড়ে শোনান সদস্য রাকিবুল ইসলাম।

এরপর সভায় যোগ দিয়ে দ্বিতীয় এজেন্ডা তোলেন জিএস গোলাম রাব্বানী। তার এজেন্ডা ছিল, ডাকসুর মাধ্যমে ব্যয়কৃত অর্থের অডিট সম্পন্নকরণ। এ বিষয়ে বক্তব্য দেন কোষাধ্যক্ষ শিবলি রুবাইয়াত।

তিনি জানান, অডিট সম্পন্ন করতে ইতিমধ্যেই দুজন শিক্ষককে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে৷

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সব পেমেন্ট অনলাইনে দেওয়ার বিষয়টি ছিল তৃতীয় এজেন্ডা। মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে সব ফি পরিশোধের পক্ষে সমর্থন জানান সবাই। এটি বাস্তবায়নে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ, ডাকসুর কোষাধ্যক্ষ, বিশ্ববিদ্যালয়ের আইসিটি বিভাগ ও ডাকসুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্পাদককে দায়িত্ব দেওয়া হয়।

চতুর্থ এজেন্ডা ছিল পরিবহন সংক্রান্ত। এ এজেন্ডায় বলা হয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন খাতে নতুন তিনটি বাস যুক্ত হবে। এর পাশাপাশি নতুন একটি রুটের অনুমতিও তোলা হয়। কুমিল্লা বিশ্বরোড থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত হবে নতুন এ রুটের প্রস্তাব করা হয়।

পাঁচ নম্বর এজেন্ডা ছিল সাদ্দাম, সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষা বিষয়ে। তারা এ ধরনের পরীক্ষা পদ্ধতির বিপক্ষে মত দেন। পরে আলোচনার ভিত্তিতে নিজস্ব পদ্ধতিতে ভর্তি পরীক্ষা নেয়ার বিষয়ে সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত হয়।

ষষ্ঠ এজেন্ডা তোলেন ডাকসুর স্বাধীনতা সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক সম্পাদক সাদ বিন কাদের চৌধুরী।

এ এজেন্ডার আওতায় বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য নির্মাণ, মুক্তিযুদ্ধ ভাস্কর্য সংস্কার ও ইতিহাস সংরক্ষণে ভাস্কর্যের গায়ে পাদটীকা স্থাপনের বিষয়ে আলোচনা হয়। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সম্পাদককে দায়িত্ব দেওয়া হয়।

প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের সমস্যা ও সুযোগ নিশ্চিতকরণ নিয়ে ছিল সপ্তম এজেন্ডা। এটি উত্থাপন করেন ডাকসু সদস্য যোশীয় সাংমা চিবল। এটি বাস্তবায়নে প্রথমেই প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের তালিকা তৈরির দায়িত্ব দেওয়া হয় চিবলকে। উপাচার্য ও ডাকসুর সভাপতি প্রতিবন্ধীদের সব সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিতকরণের বিষয়ে নিশ্চয়তা দেন।

অষ্টম এজেন্ডা ছিল ডাকসুর অভিষেক অনুষ্ঠানের পরিবর্তে নবীন শিক্ষার্থীদের বরণ করে নেয়ার বিষয়ে। এটি উত্থাপন করেন ডাকসুর এজিএস সাদ্দাম হোসেন।

সবার আলোচনার ভিত্তিতে মার্চ মাসের ১ থেকে ৬ তারিখের মধ্যে নবীন বরণের সিদ্ধান্ত হয়। ক্যাম্পাসে

পলিথিন ও প্লাস্টিক ব্যবহার বন্ধে করণীয় ছিল নবম এজেন্ডা। এটি উত্থাপন করেন ডাকসুর সদস্য মাহমুদুল হাসান। এর অংশ হিসেবে ক্যাম্পাসে প্লাস্টিক-পলিথিনের ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়।

সভার দশম এজেন্ডা ছিল বিভিন্ন বিভাগে অতিরিক্ত উন্নয়ন ফি আদায় সংক্রান্ত। ডাকসু সদস্য তানভীর হাসান সৈকত বিষয়টি উত্থাপন করেন এবং সমর্থন জানান সভার আরও কয়েকজন সদস্য।

তানভীর হাসান সৈকত বলেন, উপাচার্য এটিকে ইতিবাচকভাবে নিয়েছেন এবং পরবর্তী ডিনস কমিটির মিটিংয়ে এ সংক্রান্ত একটি নীতিমালা করার কথাও জানিয়েছেন।

এগারোতম এজেন্ডা তোলেন ভিপি নুর। তিনি আবাসিক হলসমূহে প্রশাসনিকভাবে সিট বণ্টনের কথা বলেন। এর সঙ্গে দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের অগ্রাধিকারভিত্তিতে সিট দেওয়ার বিষয়টি যোগ করেন ডাকসু সদস্য তানভীর হাসান সৈকত।

আবাসন সংকট সমাধানে বাঙ্ক বেড স্থাপনের বিষয়ে সর্বসম্মতিক্রমে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। এর পাশাপাশি যে সব শিক্ষার্থীর ছাত্রত্ব শেষ তাদের তিন থেকে ছয় মাসের মধ্যে হল ছাড়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়।

সভার শেষ এজেন্ডা হিসেবে ক্যাম্পাসে ভ্রাম্যমাণ দোকান নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি তোলেন ডাকসুর সদস্য মাহমুদুল হাসান।

এ সমস্যা সমাধানে ক্যাম্পাসে নির্দিষ্ট কিছু দোকানকে অনুমতি দেওয়া ও তাদের পরিচয়পত্র প্রদানের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত হয়।

মন্তব্য করুন

সর্বশেষ নিউজ

আরো পড়ুন