২৮, ফেব্রুয়ারি, ২০২০, শুক্রবার

খালেদের ৪০ কোটি টাকার ব্যাংক হিসাব জব্দ

:
প্রকাশিত: ১০:৪৩ পূর্বাহ্ন, ২৪ জানুয়ারী ২০২০, শুক্রবার


খালেদের ৪০ কোটি টাকার ব্যাংক হিসাব জব্দ

মানি লন্ডারিং মামলায় এ মাসেই চার্জশিট

ক্যাসিনো-কাণ্ডে অভিযুক্ত ঢাকা মহানগর যুবলীগ দক্ষিণের বহিষ্কৃত সাংগঠনিক সম্পাদক খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়ার ৫২টি ব্যাংক হিসাবে হদিস পাওয়া প্রায় ৪০ কোটি টাকা জব্দ করা হয়েছে। পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গত রবিবার হিসাবগুলো জব্দ করার নির্দেশ দেন আদালত।

এদিকে খালেদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মানি লন্ডারিং মামলায় এ মাসেই আদালতে চার্জশিট জমা দেবে সিআইডি। ক্যাসিনো-কাণ্ডের ঘটনার পর মানি লন্ডারিংয়ের আরও ৭টি মামলার তদন্ত চলছে। ওই মামলাগুলোর তদন্তেও উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

সিআইডি জানায়, মানি লন্ডারিং আইনের মামলার তদন্ত করতে গিয়ে ছয়টি ব্যাংকে খালেদের ৫২টি হিসাবে অবৈধ এবং অস্বাভাবিক লেনদেনের তথ্য পাওয়া যায়। এগুলোর মধ্যে খালেদের ব্যক্তিগত হিসাব, তার মালিকানাধীন ভূঁইয়া অ্যান্ড ভূঁইয়া ডেভেলপারস, অর্ক বিল্ডার্স, অর্পণ বিল্ডার্স এবং খালেদের ভাই মাসুদ মাহমুদ ভূঁইয়ার মালিকানাধীন এমএম বিল্ডার্সের ব্যাংক হিসাবও রয়েছে। এসব হিসাবে ৪১০ কোটি ৩০ লাখ টাকা লেনদেনের তথ্য পাওয়া যায়। এই অর্থের মধ্যে ২৭৮ কোটি টাকা উত্তোলন করা হয়েছে। এসব হিসাবে এখন প্রায় ৪০ কোটি টাকা আছে। এই টাকা জব্দ করতে আদালত নির্দেশ দেন বাংলাদেশ ব্যাংককে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক ইতোমধ্যে ওই অর্থ জব্দ করেছে।

সিআইডির এক কর্মকর্তা জানান, ব্যাংক হিসাব জব্দের পাশাপাশি র‌্যাবের অভিযানে উদ্ধার হওয়া প্রায় ১৮ লাখ টাকা এরই মধ্যে বাজেয়াপ্ত করেছেন আদালত। সিআইডির আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গত বছর ৩ নভেম্বর আদালত এই অর্থ বাজেয়াপ্ত করার আদেশ দেন। এর আগে গত বছরের ১৮ সেপ্টেম্বর খালেদকে গুলশানের নিকেতন থেকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব। এ সময় তার কাছ থেকে নগদ ১০ লাখ ৩৪ হাজার ৫৫০ এবং ৭ লাখ ৬৪ হাজার টাকা সমমানের বিদেশি মুদ্রা জব্দ করা হয়। এ ঘটনায় গুলশান থানায় মানি লন্ডারিং আইনে মামলা করে র‌্যাব। ওই মামলার তদন্ত করছে সিআইডি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সিআইডির ডিআইজি ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, খালেদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মানি লন্ডারিং আইনের মামলার তদন্ত প্রায় শেষের দিকে। দ্রুততম সময়ের মধ্যে আদালতে চার্জশিট জমা দেওয়া হবে। তার ব্যাংক হিসাবগুলো এরই মধ্যে জব্দ করা হয়েছে।

মামলার তদন্তসংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা জানান, জব্দ হওয়া হিসাবগুলো এনসিসি ব্যাংক, ব্র্যাক ব্যাংক, প্রাইম ব্যাংক, আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক, সোনালী ব্যাংক এবং ব্যাংক এশিয়ায় খোলা হয়। এসব হিসাবে লেনদেন করা অর্থের বৈধ কোনো উৎস দেখাতে পারেননি খালেদ। ক্যাসিনো, জুয়া, মাদক ব্যবসা, চাঁদাবাজি এবং টেন্ডারবাজি করে আয় করা অর্থ এসব হিসাবে খালেদ লেনদেন করতেন। তদন্তে এমন তথ্য বেরিয়ে এসেছে।

সিআইডির দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, মানি লন্ডারিং আইনে করা মামলা সাধারণত দুই মাসের মধ্যে তদন্ত শেষ করতে হয়। যদি এই সময়ের মধ্যে তদন্ত শেষ না হয় তবে আরও ৪৫ দিন অতিরিক্ত সময় পায়। অধিকাংশ ক্ষেত্রে এই সময়ের মধ্যে তদন্ত শেষ হয় না। তবে খালেদের মামলার ক্ষেত্রে এই সময়সীমার মধ্যেই তদন্ত শেষ করে আদালতে চার্জশিট জমা দেওয়া হবে।

দুদকের মামলায় জামিন নামঞ্জুর

দুদকের দায়ের করা ‘অবৈধ সম্পদ অর্জনের’ মামলায় খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়ার জামিনের আবেদন নামঞ্জুর করেছেন আদালত। গতকাল ঢাকার সিনিয়র স্পেশাল জজ কেএম ইমরুল কায়েশ এ আদেশ দেন। মামলাটিতে গত ২৮ অক্টোবর এ আসামির সাত দিন রিমান্ড মঞ্জুর করেন একই আদালত। ওই রিমান্ড শেষে গত ৭ নভেম্বর তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন একই আদালত। গত ২১ অক্টোবর খালেদের বিরুদ্ধে ৫ কোটি ৫৮ লাখ ১৫ হাজার ৮৫৯ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয় ১-এ মামলাটি করা হয়।

মন্তব্য করুন

খবর অনুসন্ধান

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯  

সর্বশেষ নিউজ

আরো পড়ুন

Shares