শনিবার, ৩০ মে ২০২০, ৩:০৩ এএম

ট্রেন চলবে তো লাইনের ওপর দিয়ে, লাইন না থাকলে চলবে কিসে: নিউইয়র্কে রেলমন্ত্রী

বিশেষ প্রতিবেদক :
প্রকাশিত: ৪:৩২ অপরাহ্ন, ২২ জানুয়ারী ২০২০, বুধবার


ট্রেন চলবে তো লাইনের ওপর দিয়ে, লাইন না থাকলে চলবে কিসে নিউইয়র্কে রেলমন্ত্রী

বাংলাদেশের ট্রেনের গতিবেগ বাড়ানোয় রেল লাইন ও ট্রেন বিষয়ে প্রবাসীদের এক প্রশ্নের উত্তরে রেলমন্ত্রী অ্যাড.নুরুল ইসলাম সুজন বলেছেন, ‘ট্রেন চলবে তো লাইনের ওপর দিয়ে, সেই লাইনই যদি না থাকে ট্রেন কার মধ্যে চলবে?’

গত রোববার সন্ধ্যায় যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের জামাইকায় একটি পার্টিহলে নর্থবেঙ্গল ফাউন্ডেশনের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে মন্ত্রী এ উত্তর দেন। অনুষ্ঠানে তাকে সংবর্ধনা প্রদান করে সংগঠনটি।

রেলমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশের রেল পরিবহন ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজানো হচ্ছে, যাত্রীসেবার মানোন্নয়নেও মনোযোগ দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে বাংলাদেশের ট্রেনের গড় গতিবেগ ৬০ কি.মি। গতিবেগ আরও বাড়াতে হলে রেল লাইনের সংস্কারসহ দ্বৈত রেল লাইন বসানো ব্যবস্থা করতে হবে। ’ তা নাহলে ট্রেনে গতি আর বাড়ানো সম্ভব হবে না বলে উল্লেখ করেন তিনি।

সুজন বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশের পর রেললাইন উপযুক্ত করে গড়ে তোলার পরিকল্পনা করা হয়েছে। প্রথম পর্যায়ে পদ্মা রেল লিংক প্রজেক্টে ইলেকট্রিক রেল যাওয়ার সক্ষমতা তৈরি করা হচ্ছে। ‘রূপকল্প ২০২১’ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে বর্তমান সরকার রেলওয়ের সামগ্রিক উন্নয়নের জন্য ২০১১ সালের ৪ ডিসেম্বর পৃথক রেলপথ মন্ত্রণালয় গঠন করে। বর্তমান সরকারের সময়ে নেওয়া উন্নয়ন প্রকল্পগুলো দ্রুত বাস্তবায়ন হচ্ছে। পদ্মা সেতুতে রেল সংযোগ প্রকল্প, ঢাকা-চট্রগ্রাম হাইস্পিড ট্রেন নির্মাণ প্রকল্পের মতো বড় বড় প্রকল্পের কাজ চলছে। সব কয়টি কাজ প্রকল্পের কাজ বাস্তবায়ন হলে রেলওয়েতে আমূল-পরিবর্তন আসবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘রেলওয়ে বর্তমান পরিবহণ চাহিদা মেটাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। নতুন রেললাইন নির্মাণ, পুরাতন রেললাইন পুনর্বাসন, মিটারগেজ লাইন ডুয়েল গেজ রূপান্তর লোকোমোটিভ যাত্রীবাহী কোচ ও মালবাহী ওয়াগন বানাল সংগ্রহ ও পুনর্বাসন, সিগনালিং ব্যবস্থার আধুনিকায়ন, ট্রেন সার্ভিস চালুসহ বেশকিছু সাফল্য রেলওয়েকে আধুনিক অধিকতর জনসেবা হিসাবে গড়ে তুলেছে। টেকসই উন্নয়ন অর্জনসহ ২১ শতকের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সরকারের ধারাবাহিক সহযোগিতায় রেলওয়ের উন্নয়ন কার্যক্রম এগিয়ে যাচ্ছে।’

রেলমন্ত্রী সুজন বলেন, ‘ট্রেনের সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সময়ক্ষেপণও বাড়ছে। কারণ সিঙ্গেল লাইনেই চলে অধিকাংশ ট্রেন। যে কারণে একটি ট্রেন অন্য ট্রেনকে সাইড দিতে সময় বেশি লাগছে। তবে বিভিন্ন রুটে ডাবল লাইন হচ্ছে। এতে আগামীতে রেলে যাতায়াতে সময়ক্ষেপণ কমবে। রেলে চলাচলে সময়ক্ষেপণের যে সমস্যা তা দূর করার জন্য বিভিন্ন প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। ’

এ সময় টঙ্গী থেকে জয়দেবপুর, জয়দেবপুর থেকে ঈশ্বরদী, জয়দেবপুর থেকে জামালপুর পর্যন্ত ডাবল লাইন এবং চট্টগ্রাম রুটে লাকসাম থেকে আখাউড়া পর্যন্ত ডুয়েল গেজ ডাবল লাইন প্রকল্প চলমান রয়েছে বলে উল্লেখ করেন মন্ত্রী।

মন্ত্রী জানান, রেলওয়েতে এখন প্রতিদিন ৮৮টি আন্তঃনগর, ১২৬টি লোকাল, ১৩২টি মেইল এক্সপ্রেস ও ডেমো এবং ৪টি আন্তঃদেশিয়সহ সর্বমোট ৩৫০টি ট্রেন পরিচালিত হচ্ছে। ২৭০টি কোচ এবং ইঞ্জিন আমদানির মাধ্যমে ইতোমধ্যে ১১৬টি নতুন ট্রেন প্রবর্তন করা হয়েছে। আরও প্রায় ৭শ কোচ এবং ইঞ্জিন আমদানি প্রকল্প চলমান রয়েছে। এছাড়া ই-টিকেটিং এবং অনলাইন ব্যবস্থা প্রবর্তন করে যাত্রীদের টিকেট ক্রয় সহজ করা হয়েছে।

নর্থবেঙ্গল ফাউন্ডেশনের সভাপতি ডা. আব্দুল লতিফের সভাপতিত্বে এবং সাংগঠনিক সম্পাদক মোস্তফা কামাল মিল্টনের সঞ্চালনায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠানটি শুরু হয়। এতে উপস্থিত ছিলেন ফাউন্ডেশনের উপদেষ্টা ডা. চৌধুরী সারোয়ারুল হাসান, মুক্তিযোদ্ধা মফিজ আহমেদ, ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি হাসানুজ্জামান হাসানসহ উল্লেখযোগ্য ব্যক্তিবর্গ।

গত মঙ্গলবার (১৪ জানুয়ারি) সরকারি সফরে যুক্তরাষ্ট্র যান রেলমন্ত্রী। সেখানে শিকাগো সিটি সংলগ্ন এলাকায় ‘প্রগ্রেস রেল’র কারখানা পরিদর্শন করেন তিনি। গত শুক্রবার (১৭ জানুয়ারি) নিউইয়র্ক ফেরেন তিনি। সেখানে বাংলাদেশ কনস্যুলেট পরিদর্শন করেন তিনি।

মন্তব্য করুন

খবর অনুসন্ধান