২৫, ফেব্রুয়ারি, ২০২০, মঙ্গলবার

ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজের রফিক, নাজমা ও গিয়াসের ৮ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জন

বিশেষ প্রতিবেদক:
প্রকাশিত: ১১:০৩ অপরাহ্ন, ২০ জানুয়ারী ২০২০, সোমবার


ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজের তৃতীয় শ্রেণীর দুর্নীতিগ্রস্ত কর্মচারী রফিক, নাজমা ও গিয়াসের বিরুদ্ধে ৮ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জন করার অভিযোগ উঠেছে। ঐতিহ্যবাহী এই প্রতিষ্ঠানকে জিম্মি করে রেখেছেন বিএনপি-জামায়াত জোট সমর্থক মামা-ভাগ্নী সিন্ডিকেট। তারা দীর্ঘ ১৬ বছর অনিয়ম ও দুর্নীতি করে নামে-বেনামে উল্লেখিত টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জন করেছেন। এদের কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছেন বিভিন্ন বিভাগের চিকিৎসক ও সাধারণ কর্মচারীরা। অধ্যক্ষের পিএ মোঃ রফিকুল ইসলাম মামা এবং প্রধান সহকারী নাজমা বেগম সম্পর্কে ভাগ্নী হন। আর স্টোর কিপার মোঃ গিয়াস উদ্দিন নাজমার স্বামী। নানান জটিলতা সৃষ্টি করে ফায়দা লুটছে মামা-ভাগ্নী সিন্ডিকেট। এদের কারণে মাঝে মধ্যেই বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়তে হয় কলেজ প্রশাসনকে। মঘের মুল্লুক পরিস্থিতি চলছে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজে। অন্য বিভাগে বদলি, কোনঠাসা এবং ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ভয়ে মামা-ভাগ্নী সিন্ডিকেটের বিষয়ে ভুক্তভোগীরা কথা বলেন না। দীর্ঘ ১৫ বছর যাবত চিকিৎসকদের ফাইল দেখাশুনা করার সুযোগে অসদাচরণ করার অভিযোগ রয়েছে দুর্নীতিগ্রস্ত নাজমার বিরুদ্ধে। ২০০৩ সালে গঠিত মামা-ভাগ্নী সিন্ডিকেটে মেডিকেল কলেজ সংলগ্ন মাসকান্দা ও পার্শ্ববর্তী দিঘারকান্দায় বাড়ি উচ্ছৃঙ্খল কয়েকজন কর্মচারী রয়েছেন। চিকিৎসকদের সাথে খারাপ আচরণ করারও অভিযোগ রয়েছে ২ কর্মচারীর বিরুদ্ধে। চিহ্নিত এই সিন্ডিকেটের বিষয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের উর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং দুর্নীতি দমন কমিশন বরাবর লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে। অন্যদিকে দীর্ঘ ১৬ বছরেরও অধিক সময় অনিয়ম, দুর্নীতি এবং কোটি কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত ও অভিযুক্তদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদানের দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল এবং ভুক্তভোগী কর্মচারীরা।

প্রসঙ্গত, ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজের মামা-ভাগ্নী সিন্ডিকেট সম্পর্কে কয়েক দিন আগে জনপ্রিয় দৈনিক জাগ্রত বাংলা’য় বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসরণ করে অভিযুক্তদের এবং কর্তৃপক্ষের বক্তব্যসহ প্রকাশিত প্রতিবেদনটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হয়। হাজার হাজার মানুষ তাদের প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন। ৫ লাখ ২০ হাজারেরও বেশি ফেসবুক ব্যবহারকারী তাদের আইডিতে প্রতিবেদনটি পান। ১ লাখ ৩০ হাজারেরও বেশি ব্যবহারকারী প্রতিবেদনটি পড়ে লাইক দেন। অনলাইন সংস্করণ থেকে প্রায় ১২ হাজার এবং ফেসবুক থেকে ২২০০ জনেরও বেশি ফেসবুক ব্যবহারকারী প্রতিবেদনটি শেয়ার দিয়েছেন। অনলাইন সংস্করণ থেকে প্রতিবেদনটি পাঠ করেন ৩ লাখ ১০ হাজারেরও বেশি পাঠক। এদিকে ভাইরাল হওয়া প্রতিবেদন নিয়ে সাংবাদিক নামধারী এক প্রতারক ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করতে মাঠে নেমেছেন। নগরীর আরকে মিশন রোডে বাসা ঢাকা ও ময়মনসিংহের একাধিক পত্রিকার সাংবাদিক পরিচয় দেওয়া প্রতিবন্ধি ও ভিক্ষুক স্বভাবের এই ব্যক্তি গত বৃহস্পতিবার দীর্ঘ ২ ঘন্টা এবং শনিবার ও রবিবার ১ ঘন্টা করে মেডিকেল কলেজে অবস্থান করেন। এ সময় তিনি চিহ্নিত সিন্ডিকেট সদস্যদের সাথে বৈঠক করেন। ভরসা দেন প্রতিবাদ প্রকাশের ব্যবস্থা করার। আজেবাজে কথা বলেন সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদক সম্পর্কে।

সূত্র জানায়, মোঃ রফিকুল ইসলাম ১৯-১১-১৯৯৬ তারিখে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ অধ্যক্ষের পিএ পদে চাকরি শুরু করেন। কলেজের তৎকালীন সচিব মোঃ আনসার আলীর মেয়েকে বিয়ে করার শর্তে জালিয়াতির আশ্রয় নিয়ে রফিককে চাকরি দেওয়া হয়। লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় অন্যান্য প্রার্থীরা তার চেয়ে বেশি নম্বর পেলেও তাদের কারও ভাগ্যে চাকরি জোটেনি। লিখিত পরীক্ষার খাতা নিরীক্ষণ এবং নিরপেক্ষ তদন্ত করলেই জালিয়াতির বিষয়টি ধরা পড়বে। চাকরির ২ মাস পরই সচিব আনসার আলীর মেয়েকে বিয়ে করেন রফিক। পিএ পদে চাকরি শুরুর কিছু দিন পর কোনো প্রকার অফিস আদেশ ছাড়াই শ্বশুরের আশির্বাদে ছাত্র শাখায় কাজ শুরু করেন। ২০০২ সালে শ্বশুরের মাধ্যমে তৎকালীন অধ্যক্ষকে ‘ম্যানেজ’ করে অফিস আদেশ করিয়ে ইনচার্জের দায়িত্ব নেন রফিক। পরে তিনি কখনও পিএ’র দায়িত্ব পালন করেন নি।

অভিযোগে জানা যায়, নগরীর মাসকান্দা আকন্দ বাড়ির মোঃ আইয়ুব আলীর ছেলে মোঃ রফিকুল ইসলাম দীর্ঘ ২২ বছর কর্মস্থলে অনিয়ম ও দুর্নীতি করে কমপক্ষে ৩ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জন করেছেন। নামে-বেনামে গড়া সম্পদের মধ্যে জমি ক্রয়, বাড়ি নির্মাণ, কনফেকশনারী, মাইক্রোবাস এবং ডাকঘর ও ব্যাংকে লাখ লাখ টাকা জমা রেখেছেন। রফিক সিন্ডিকেটের ও স্থানীয় প্রভাব খাটিয়ে গত ১০ বছরে ৩ আত্মীয়সহ ৮ জনকে চাকরি দিয়ে অন্তত: ৭০ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। ছোট ভাইয়ের স্ত্রী মোছাঃ সাহিদা বেগমকে ২০১৪ সালে অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক, বড় ভগ্নিপতির বোনের ছেলে মোঃ নাজমুল ইসলামকে ২০১২ সালে কার্পেন্টার (কাঠ মিস্ত্রী) ও চাচাতো ভাইয়ের ছেলে মোঃ আব্দুল্লাহ আল মামুনকে ২০১০ সালে এমএলএসএস পদে চাকরি দেন। নাজমুল কার্পেন্টার হলেও রফিকের প্রভাবের কারণে তার সাথেই ছাত্র শাখায় অফিস সহকারীর দায়িত্ব পালন করছেন। মামুন বাঘমারা ছাত্র হোস্টেলে বদলি থাকলেও অধিকাংশ সময় ডিউটি না করে ঘুরে বেড়ান। ছাত্র শাখার নগদ কেনাকাটা থেকেও বছরে গড়ে ১ লাখ টাকা আত্মসাত করেন রফিক। এছাড়া নিরীহ কর্মচারীদের বেকায়দায় ফেলে অন্য বিভাগে বদলি এবং বিভিন্নভাবে তাদের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেন ‘ধুরন্দর’ রফিক ও তার লোকজন।

সূত্র জানায়, অধ্যক্ষের পিএ মোঃ রফিকুল ইসলাম ও প্রধান সহকারী নাজমা বেগম প্রতিবেশী এবং সম্পর্কে মামা-ভাগ্নী। নাজমা বিএনপি জামায়াত জোট সরকার আমলে ২০০৩ সালে ত্রিশাল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজে বদলি হন। তখন তিনি অফিস সহকারী কাম মুদ্রাক্ষরিক ছিলেন। তার স্বামী স্টোর কিপার মোঃ গিয়াস উদ্দিন ২০০২ সালে সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা অফিস থেকে মেডিকেল কলেজে যোগদান করেন। এই দম্পতি এর আগে গৌরীপুর ও ত্রিশাল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্মরত ছিলেন। এই ২ কর্মস্থলেও তারা গ্রুপিং, অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টি এবং বিভিন্নভাবে কর্মচারীদের হয়রানি করেন। নাজমা ২৫-০২-২০১৬ তারিখে প্রধান সহকারীর পদোন্নতি পান। আগে উচ্চমান সহকারী ছিলেন। ময়মনসিংহে যোগদানের পরই সম্পর্কে মামা অধ্যক্ষের পিএ রফিকের সাথে হাত মিলিয়ে অনিয়ম ও দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়েন। সূত্র মতে, তৎকালীন সময়ে বিএমএ’র প্রভাবশালী নেতা ডা. মোহাম্মদ আলী সিদ্দিকীকে ‘ধর্ম বাবা’ বানিয়ে মেডিকেল কলেজে একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করেন নাজমা-গিয়াস দম্পতি। এই ‘ধর্ম বাবা’কে ‘ম্যানেজ’ করেই তারা ময়মনসিংহে বদলি হয়ে আসেন। বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার আমলের পুরোটাই বাধ্যগত কর্মচারীদের সমন্বয়ে শক্তিশালী সিন্ডিকেট গঠন করে মেডিকেল কলেজ নিয়ন্ত্রণে রাখেন। আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পরও কলেজের নিয়ন্ত্রণ ছাড়েনি এই সিন্ডিকেট। এভাবেই আওয়ামী লীগের টানা ১১ বছর একচ্ছত্র আধিপত্য টিকিয়ে রেখেছে আলোচিত মামা-ভাগ্নী সিন্ডিকেট।

জানা যায়, প্রধান সহকারী নাজমা বেগম মেডিকেল কলেজে ২৭-১২-২০১৯ তারিখের তৃতীয় শ্রেণীর কর্মচারী নিয়োগ পরীক্ষা বাধাগ্রস্ত করেন। তার আত্মীয় ২ প্রার্থীকে নিয়োগ পাইয়ে দিতে বিভিন্ন দপ্তরে অতিমাত্রায় চাপ প্রয়োগ এবং কলকাঠি নাড়ায় কর্তৃপক্ষ শেষ পর্যন্ত নিয়োগ পরীক্ষা স্থগিত করতে বাধ্য হন। এর আগে ছাত্রলীগের একাংশের নেতাদের ‘ম্যানেজ’ করে অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে মিছিল করানোর পরিকল্পনা করেন দুর্নীতিগ্রস্ত নাজমা। তার বিরুদ্ধে চিকিৎসকদের সাথে খারাপ আচরণ করারও অভিযোগ রয়েছে। চিকিৎসকদের ছুটি, যোগদান, উচ্চশিক্ষা এবং সেমিনারের জন্য দেশ-বিদেশ ভ্রমণের ফাইল দেখাশুনা করার সুযোগে নাজমা কৌশলে টাকা হাতিয়ে নেন। অনেককেই আবার ঘন্টার পর ঘন্টা বসিয়ে রাখেন। এ নিয়ে প্রায়ই তর্কবিতর্কের ঘটনা ঘটে। সূত্র মতে, নাজমা মেডিকেল কলেজে বদলি হয়ে আসার ১ বছরের মাথায় চিকিৎসকদের ফাইল দেখাশুনা করার সাময়িক দায়িত্ব পান। কয়েক মাসের মাথায় কৌশলে অন্যকে সরিয়ে দিয়ে একক দায়িত্ব নেন। অফিস আদেশ ছাড়াই দীর্ঘ ৩ বছর একক দায়িত্ব পালন করেন। ৩ বছরের মাথায় তৎকালীন অধ্যক্ষকে ‘ম্যানেজ’ করে অফিস আদেশ করান ‘ধূর্ত’ নাজমা। তখন তিনি উচ্চমান সহকারী ছিলেন।

সূত্র জানায়, প্রধান সহকারী নাজমা ১৭-০৯-২০১৭ তারিখে কলেজ শিক্ষার্থীদের সাথে অশালীন কথাবার্তা এবং খারাপ আচরণ করেন। বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে নামার সিদ্ধান্ত এবং নাজমা বেগম ও অফিস সহায়ক মোঃ আব্দুর রাজ্জাকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন। একাডেমিক কাউন্সিলের বৈঠকে নাজমা ও রাজ্জাক দোষী সাব্যস্থ হওয়ায় কর্তৃপক্ষ ০২-১০-২০১৭ তারিখে প্রশাসনিক কারণ দেখিয়ে নাজমাকে জামালপুরের মেলান্দহ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং রাজ্জাককে ফুলপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বদলি করেন। নাজমার সাথে তৎকালীন অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মোঃ আনোয়ার হোসেনের সু-সম্পর্ক থাকায় দীর্ঘ ২ মাস পর অভিযুক্ত হওয়ার বিষয়টি বাদ দিয়ে একাডেমিক কাউন্সিলের রেজুলিশন স্বাক্ষর করেন। অধ্যক্ষের পরামর্শে অফিস না করে নাজমা ৩ মাস বাসায় অবস্থান করেন। ময়মনসিংহে স্বাস্থ্য সেক্টর নিয়ন্ত্রণ করা চিহ্নিত চক্রের অন্যতম সদস্যের হাতে সাড়ে ৭ লাখ টাকা তুলে দিয়ে নাজমা ০৩-০১-২০১৮ তারিখে পুনরায় মেডিকেল কলেজে যোগদান করেন। কিছু দিনের মাথায় চক্রের ওই সদস্যকে ‘ম্যানেজ’ করে মামা-ভাগ্নী সিন্ডিকেটের অন্যতম সদস্য রাজ্জাক ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বদলি হয়ে আসেন। সূত্র মতে, স্বাস্থ্য সেক্টর নিয়ন্ত্রণ করা চক্রের ওই সদস্যের কাছে নাজমা কলেজ প্রশাসনের বিভিন্ন তথ্য পাচার করেন।

জানা যায়, ময়মনসিংহ সদর উপজেলার মধ্য বাড়েরা গ্রামের মোঃ ইব্রাহিম সরকারের মেয়ে নাজমা বেগম ২৩-০৮-১৯৮৮ তারিখে গৌরীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অফিস সহকারী কাম মুদ্রাক্ষরিক পদে চাকরি শুরু করেন। প্রেম এবং কেলেঙ্কারীর এক পর্যায়ে নাজমা ১৯৯০ সালে একই কর্মস্থলের স্টোর কিপার গিয়াস উদ্দিনকে বিয়ে করতে বাধ্য হন। নানান ঘটনার কারণে ১৯৯১ সালে ৩ মাসের ব্যবধানে ত্রিশাল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বদলি করা হয় ‘ধূর্ত’ নাজমা ও গিয়াসকে। দীর্ঘ ১ যুগ ত্রিশালে কর্মরত থেকে চিকিৎসক ও কর্মচারীদের সাথে দ্বন্দ্বে জড়িয়ে বহু ঘটনার জন্ম দেন এই দম্পতি। এ পরিস্থিতিতে কর্তৃপক্ষ ২০০০ সালে নাজমার স্বামী গিয়াসকে সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার অফিসে বদলি করেন।

সূত্র জানায়, স্টোর কিপার মোঃ গিয়াস উদ্দিন ২০০২ সালে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজে যোগদান করেন। ত্রিশাল উপজেলার ধানীখোলার মরহুম হারেজ আলীর ছেলে গিয়াস ০৫-০৬-১৯৮৩ তারিখে কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চাকরি শুরু করেন। মেডিকেল কলেজে যোগদানের পর দীর্ঘ ১৬ বছর যাবত এককভাবে দায়িত্ব পালন করছেন। মোঃ আব্দুল লতিফ আকন্দ এবং সুলতান উদ্দিন আহম্মাদ নামের ২ জন স্টোর কিপার কর্মরত থাকলেও তাদেরকে স্টোরের দায়িত্ব দেওয়া হয় না। দায়িত্ব পালনের জন্য এই ২ স্টোর কিপারের কয়েকবার অফিস আদেশ হলেও অদৃশ্য কারণে পরের দিন তা বাতিল হয়ে যায়। সূত্র মতে, গিয়াস উদ্দিন স্টোরে দায়িত্ব পালন করে বিপুল অংকের টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। এই দম্পতি দীর্ঘ ১৬ বছর অনিয়ম ও দুর্নীতির আশ্রয় নিয়ে কমপক্ষে ৫ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জন করেছেন। ঘুষের টাকায় তারা জমি ক্রয়, মাসকান্দায় বাড়ি, চরপাড়ার নয়াপাড়ায় বাড়ি (নির্মাণাধীন), ঢাকার মিরপুর ১০ নম্বরে ফ্ল্যাট বুকিং এবং ডাকঘর ও বিভিন্ন ব্যাংকে লাখ লাখ টাকা জমা রেখেছেন। প্রায় ৪০ লাখ টাকা খরচে মেয়ে জান্নাতুল ফেরদৌস কলিকে পড়িয়েছেন বেসরকারি মেডিকেল কলেজে (সিবিএমসিবি)।

জানা যায়, নাজমা-গিয়াস দম্পতি তাদের একমাত্র মেয়ে কলির বিয়ে দিয়েও ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজের চিকিৎসক ও স্টাফদের কাছ থেকে অন্তত: ১০ লাখ টাকা চাঁদা তুলেন। ২৭-০২-২০১৭ তারিখে বাকৃবি অতিথি ভবনে আয়োজিত বিয়ের অনুষ্ঠানে ৫ শতাধিক চিকিৎসক ও স্টাফকে দাওয়াত দিয়ে হাস্যরস্য সৃষ্টি করেন। খাবার না পেয়ে ফিরে আসেন ২ শতাধিক দাওয়াতী মেহমান। সূত্র মতে, তৎকালীন অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মোঃ আনোয়ার হোসেনকে ‘ম্যানেজ’ করে তার নির্দেশনায় চিকিৎসক ও স্টাফদের কাছ থেকে ১০ হাজার থেকে ১ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা তুলেন। অনিচ্ছা থাকার পরেও অধ্যক্ষের কারণে অনেকেই চাঁদা দিতে বাধ্য হন।

মন্তব্য করুন

খবর অনুসন্ধান

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯  

সর্বশেষ নিউজ

আরো পড়ুন

Shares