২৯, ফেব্রুয়ারি, ২০২০, শনিবার

ফৌজদারি অপরাধের মামলার সঙ্গে গণমাধ্যমের স্বাধীনতার সম্পর্ক নেই: তথ্যমন্ত্রী

বিশেষ প্রতিবেদক :
প্রকাশিত: ৯:২৩ অপরাহ্ন, ১৯ জানুয়ারী ২০২০, রোববার


ফৌজদারি অপরাধের মামলার সঙ্গে গণমাধ্যমের স্বাধীনতার সম্পর্ক নেই তথ্যমন্ত্রী

ঢাকা রেসিডেন্সিয়াল মডেল কলেজের নবম শ্রেণির ছাত্র নাইমুল আবরার হত্যা মামলায় দৈনিক প্রথম আলোর সম্পাদকসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানার বিষয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেছেন তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ। এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেছেন, ‘এর সাথে কোনোভাবেই গণমাধ্যমের স্বাধীনতার সম্পর্ক নেই, কারণ গণমাধ্যমে প্রকাশিত কোনো সংবাদের জন্য মামলা হয়নি। মামলা হয়েছে ফৌজদারি অপরাধের কারণে।’

চার দিনের ভারত সফর থেকে ফিরে আজ রোববার দুপুরে সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে সমসাময়িক বিষয়ে বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন তথ্যমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘আদালত সেখানে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে। কোথায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করবে কি করবে না, সেটি স্বাধীন আদালতের এখতিয়ার।’

‘প্রথম আলোর বিষয়ে ৪৭ জন বিশিষ্টজনের বিবৃতির বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘যে কেউ বিবৃতি দিতে পারে, আমাদের দেশে মত প্রকাশের স্বাধীনতা আছে। যে কেউ তার মতপ্রকাশ করতেই পারে। আমি কাগজে দেখেছি ৪৭ জন বিশিষ্টজন এ ব্যাপারে বিবৃতি দিয়েছে। বাংলাদেশে এই ৪৭ জন ছাড়াও হাজার হাজার বিশিষ্টজন, বুদ্ধিজীবী আছেন।’

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান বলেন, ‘কোনো অবহেলাজনিত মৃত্যুর জন্য এবং মৃত্যুর পর সেটি লুকানোর অপচেষ্টা, একইসঙ্গে পোস্টমর্টেম ছাড়া দাফনের প্ররোচনা, এগুলো নিশ্চয়ই অপরাধ। এসব অভিযোগের সত্য-মিথ্যা তদন্তে বেরিয়ে আসবে, আদালত তা দেখবে। আর যে বিশিষ্টজনেরা বিবৃতি দিয়েছেন, এ ধরনের ঘটনাগুলোর যাতে সঠিক বিচার হয়, তাতে যারাই দায়ী, তাদের যাতে সঠিক বিচার হয়, সেজন্যও তারা একদিন বিবৃতি দিবেন বলে আমি আশা করব।’

এ প্রসঙ্গে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের বিবৃতির প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করলে মন্ত্রী বলেন, ‘অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের প্রতি যথাযথ সম্মান রেখেই বলতে চাই, তারা বাংলাদেশে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বন্ধ করার জন্য বিবৃতি দিয়েছিল। যখন ফিলিস্তিনে পাখি শিকার করার মতো করে মানুষকে হত্যা করা হয়, তখন কিন্তু অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল বিবৃতি দেয় না। তাহলে সেই সংগঠনের গ্রহণযোগ্যতা আগে কোথায় ছিল সেটি আমি বলতে চাই না, এখন কোথায় গেছে সে নিয়ে তো অনেকের মনেই প্রশ্ন আছে।’

ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক স্বর্ণযুগ অতিক্রম করছে

তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক আজ স্বর্ণযুগ অতিক্রম করছে। ভারত আমাদের সবচেয়ে নিকটতম প্রতিবেশী এবং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেশী। ভারতের সাথে সুসম্পর্ক দু’দেশের জনগণ ও অর্থনীতি জন্য সবসময় সহায়ক হয়।’

মন্ত্রী বলেন, ‘এবারের ভারত সফর ছিল মূলত ভারতে বাংলাদেশ বেতার সম্প্রচারে উদ্বোধনের জন্য। নয়াদিল্লিতে গত ১৪ তারিখ ভারতের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী শ্রী প্রকাশ জাভেদকার এবং আমি যৌথভাবে ভারতে চারঘণ্টা- সকালে দু’ঘণ্টা, বিকেলে দু’ঘন্টা বাংলাদেশ বেতারের সম্প্রচার কার্যক্রম এবং আকাশবাণীর দু’ঘণ্টা দু’ঘণ্টা চার ঘণ্টা বাংলাদেশ বেতারে সম্প্রচার উদ্বোধন করি। আপনারা জানেন গত সেপ্টেম্বর থেকে বাংলাদেশ টেলিভিশনের সম্প্রচার কার্যক্রম সমগ্র ভারতে দূরদর্শনের ডিটিএইচ ফ্রি ডিশের মাধ্যমে সম্প্রচারিত হচ্ছে।’

একই সঙ্গে বাংলাদেশ-ভারত যৌথভাবে মুজিববর্ষকে সামনে রেখে বঙ্গবন্ধুর ওপর একটি চলচ্চিত্র নির্মাণ করছে। সেই চলচ্চিত্র নির্মাণের কাজ ইতিমধ্যেই বহুদূর অগ্রসর হয়েছে। কিন্তু মূল চুক্তির আলোকে এটি ‘ওয়ার্কিং এগ্রিমেন্ট’র প্রয়োজনীয়তা ছিল। বাংলাদেশের এফডিসি এবং ভারতের এনএফডিসি’র মধ্যে সেটিও ১৪ তারিখ স্বাক্ষর হয়েছে, জানান ড. হাছান।

তিনি বলেন, ‘এরপর ১৫ তারিখ ভারতের মান্যবর পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সাথে আমার সাথে সৌজন্য বৈঠক হয়। সেখানে বাংলাদেশ-ভারতের যে সম্পর্ক মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা এবং ভারতের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে আজকে যে নতুন উচ্চতায় উন্নীত হয়েছে, তার নানা দিক আলোচনা হয়েছে। আজকে যে আমাদের সম্পর্ক স্বর্ণযুগ অতিক্রম করছে, এটিও সাথে আলোচনা হয়েছে।’

নরেন্দ্র মোদির সাথে সাক্ষাতের বিষয়ে প্রশ্নের উত্তরে ড. হাছান জানান, ‘একইদিন (১৫ জানুয়ারি) সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টায় ভারতের মান্যবর প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদির সাথে আমার সাক্ষাৎ হয়। ভারতে রাইসিনা ডায়ালগে মন্ত্রী পর্যায়ে বৈঠকে ভারতে অবস্থানরত মন্ত্রীদের ডাকা হয়েছিল। যদিও আমি রাইসনা ডায়ালগে যাইনি, এরপরও আমাকে ভারতের মান্যবর প্রধানমন্ত্রীর সাথে সাক্ষাতের জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তারসাথে আমার সৌজন্য সাক্ষাৎ হয়। সেখানে তিনি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে শুভেচ্ছা পৌঁছে দেয়ার জন্য বলেন।’

‘ভারত-বাংলাদেশ চমৎকার সম্পর্কের বিষয়টিও আমরা আলোচনা করি’ উল্লেখ করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘শ্রী নরেন্দ্র মোদি ২০১৪ সালে তার সরকার দেশ পরিচালনার দায়িত্ব পাওয়ার পর ভারতে আর্থ-সামাজিক ক্ষেত্রে অভূতপূর্ব উন্নয়ন হয়েছে, বিশেষ করে প্রত্যেক গ্রামে বিদ্যুৎ সেবা পৌঁছে দেয়া, প্রত্যেক মানুষের জন্যে ব্যাংক একাউন্ট খোলা এবং স্যানিটেশন কাভারেজ যেটি খুব কম ছিল, সেটি ব্যাপকতর করাসহ তার সরকারের আমলে যে ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে, সেগুলো তিনি সবিস্তারে বর্ণনা করেন এবং একইসাথে জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশে যে উন্নয়ন অগ্রগতি হচ্ছে সেবিষয়েও প্রশংসা করেন।’

মন্তব্য করুন

খবর অনুসন্ধান

সর্বশেষ নিউজ

আরো পড়ুন

Shares