২৬, জানুয়ারী, ২০২০, রোববার

বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী, জননেত্রী শেখ হাসিনা, মুজিববর্ষ ও আমাদের ভাবনা

নূরুজ্জামান সরকার নীহার বকুল:
প্রকাশিত: ১২:১১ অপরাহ্ন, ১৩ জানুয়ারী ২০২০, সোমবার


বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী, জননেত্রী শেখ হাসিনা, মুজিববর্ষ ও আমাদের ভাবনা

আমি মনেপ্রাণে একজন বাঙ্গালি ও বাংলাদেশের নাগরিক, সে হিসেবে কথা বলার নাগরিক অধিকার সংবিধান আমাকে দিয়েছে, শুধু আমায় কেন সবারই তা আছে।প্রত্যেক মানুষের নিজস্ব আইনসম্মত ব্যাক্তি স্বাধিনতা থাকা একান্তই উচিত।

কোনো মানুুষ নিজের পাপকে ঢাকতে হেয়ালির বশে বা আপন ক্ষমতাবলে কাউকে হেয়প্রতিপন্ন করলে তখন ঐ নির্যাতিত ব্যাক্তির বিচারের বাণী যখন নিরবে নিভৃতে কাদবে, সে হয়ে যেতে পারে ভয়ানক জেদী। এভাবে কালের পরিক্রমায় সবলের অত্যাচারে দুর্বলের পিঠ যখন দেয়ালে ঠেকে যায়,তারা তখন হয়ে উঠে প্রতিবাদী আর বিপ্লবের মাধ্যমে আদায় করে নেয় তার ন্যায্য অধিকার। এভাবেই বেড়ে যায় দেশ ও সমাজে মানুষের মাঝে যুদ্ধংদেহি মনোভাব।

আর তখনি সেসব সমাজপতি, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতা, আমলা,আর কতৃত্বপরায়ন দাম্ভিক ব্যাক্তিদের মাথার খুলি দিয়ে ফুটবল খেলতে চায় ভুক্তভোগি মানুুষটি। এ থেকে নিজের স্বার্থে বেড়িয়ে আসা দরকার আমাদের সকলের।

সারা এলাকার মানুুষ এখন ঘুমিয়ে অথচ আমি স্বপ্ন বুনে যাচ্ছি আগামীর বাংলাদেশের তরে, বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযোদ্ধের চেতনার সেই বাংলার। যুগে যুগে মীর জাফরদের আগমনে যেমনি করে কলংকিত হয়েছে আমার বাংলা মায়ের আচল,তেমনি করে সিরাজ মোহনলালের ত্যাগের মহিমায় উদবাসিত হয়েছে বারংবার এ বাংলা। এভাবেই সুখের সোপানে এগিয়েছে আমার দুঃখিনী মায়ের আকাংখা ১৭৫৭ হতে যার পরিসমাপ্তি ১৯৭১সালে বাংলার দামাল ছেলেদের মাধ্যমে,আর বঙ্গবন্ধুর ডাকে তার পূর্ণ জাগরণ।

আকাশ আবারও কালো মেঘে ছেয়েগেছিল ১৯৭৫ সালের ১৫ আগষ্টে। তখনি হয়তো এক পশলা বৃষ্টি নামেছিল বাংলার দুঃখ ভরা আঁখিপাতে,পূর্ণিমার চাঁদ লুকায়ে গিয়েছিল মেঘের আড়ালে,পাতাঝড়া জলের টুপটাপ নৈঃশব্দ ভেঙ্গে গিয়েছিল বারুদের গন্ধ কলরবে। চাপ চাপ রক্ত আর সবুজপাতা, পাখিকূল জানিয়েছিল জাতীর পিতাকে শেষ অভিনন্দন, আবারও অমানিশার অন্ধকার নেমে এল বাংলায়। ১৯৯৬ সনের কথা, গরীবের রক্ত যে এক, রক্তের ঘ্রাণ এক,যেন এক রাঙা প্রতিবাদের বৃক্ষরোপন। এ হতে উৎপন্ন হলো বিপ্লবের অগ্নিমুখো ফল, যা খেয়ে মাতাল হলো জগতের তাবৎ মুক্তিকামী জনতা আর নিগৃহীত বাংলার ভুক্তভোগীরা। উল্টো রক্তে রাঙা হলো প্রভাত,এ রক্ত দিয়ে বাংলা মায়ের সবুজের বুকে লিখা হলো অন্য এক ইতিহাস।

রাজনীতিতে প্রতিষ্ঠা পেলো সৎ যোগ্য, আদর্শ চরিত্রবান সত্যিকারের দেশপ্রমিক জনপ্রতিনিধি জাতির পিতার আদরের দুলালী শেখ হাসিনা। দুর্নীতিবাজ, কালোবাজারী, সিজন্যাল রাজনৈতিক নেতা, মুনাফাখোর, মাদকের আড়ৎদার, শাসনের নামে শোষনবাজদের হাত থেকে মুক্ত হলো আমার দুঃখিনী মা বাংলাদেশ, শেখ হাসিনার নেতৃত্বে। বাংলার নরম মাটি ২০০১ সালে কলংকিত হলো আবার, দুর্বলের রক্তে লাল হলো… মায়ের হাতে আবার আর এক পরাধীনতার শৃঙ্খল …সে শৃঙ্খল ছিন্ন করতে তো আপনার আমার মত লোকদেরই এগিয়ে আসতে হবে। যে যাবেনা সে থাকুক, চলেন আমরা এগিয়ে যাই,”ঊষার দোয়ারে হানিয়া আঘাত, আমরা আনিবো রাংগা প্রভাত। “এ মন্ত্রে দীক্ষা নিল সাধারণ জনগণ, তাদের উদ্দেশ্য ছিল, আজ হয়তো সফলতার চাবি না পেলেও আমাদের তৈরিকৃত রাস্তায় হেটে আগামীর স্বপ্ন বাস্তবতার রূপ নিবে,তাও কম কিসে? আমরা সফল না হলেও আমাদেরই পদাংক অনুসরণ করে আগামী প্রজন্ম ছিনিয়ে আনবে এক রক্তিম সূর্য।
আবারও সফলতার সোপানে শেখ পরিবার।
ঐ দিনের প্রত্যাশায় এগিয়ে যাবো আমরা। ভালো থাকুন। আবারও কথা হবে কোন এক বর্ষার রাতে। এমনি টালমাটাল সময় পার করতে বঙ্গবন্ধুর তনয়া আবারও এগিয়ে এলেন, তাকে আসতেই হতো সব হারিয়ে নিঃস্ব এ মানবীর বাবাই যে দেশটাকে পরাধীনতার হাত হতে ছিনিয়ে এনেছিল। আবার চড়াই উৎড়াই পেরিয়ে জনগণের ভালোবাসায় সিক্ত হলেন, ডাক দিলেন একতার আর দেশ গড়ার, তারপর হতে এগিয়েছে এদেশ এদেশের মানুষ, বড় বড় প্রকল্পের মাধ্যমে আর শেখ হাসিনার নিরলস প্রচেষ্টার মাধ্যমে। এভাবে এগিয়ে আজ আমরা মাধ্যম আয়ের দেশ। কিন্তু দূর্নীতি, জুয়া,লুটেরা,আর মাদক এর কারণে আজও পিছিয়ে যাচ্ছি আমরা। বৃষ্টিঝড়া এমনি প্রাতে আমার মত কি ঝুরবে তুমি একলা মনে বনের কেতুকি!

আমার স্বপ্ন কি সত্যি হবেনা? জীবনে চাওয়া পাওয়ার কথা ভাবিনাই কোনদিন আর চাইও না, শুধু একটি আশা এদেশ হবে শোষনহীন, বৈষম্যহীন,ধর্মনিরপেক্ষ, সুষম সমাজব্যবস্থা, ডিজিটাল, অর্থনীতিকভাবে সমৃদ্ধ, দূর্নীতিমুক্ত রাজনৈতিক আবহের এক সোনার বাংলা।

আমি হতাশ হবোনা, হতাশা যে মৃত্যুর নামান্তর, কাপুরুষ ও ভীরুতার প্রতিবিম্ব।আগামির দল ও রাষ্ট্র নায়কগণ এদেশটি মনের মাধুরী দিয়ে সাজাবে মুজিব শতবর্ষে এই কামনা করি।

মন্তব্য করুন

খবর অনুসন্ধান

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২
১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭২৮২৯৩০৩১  

সর্বশেষ নিউজ

আরো পড়ুন

Shares