৬, এপ্রিল, ২০২০, সোমবার

প্রসঙ্গ নূর: রাজনীতির ভেতর পলিটিক্স

প্রতিদিনের কাগজ রিপোর্ট:
প্রকাশিত: ১১:০৪ অপরাহ্ন, ২৩ ডিসেম্বর ২০১৯, সোমবার


প্রসঙ্গ নূর রাজনীতির ভেতর পলিটিক্স

নুরুদের ভাগ্য ভাল, তারা মাইর খাইলে মেইনস্ট্রিম মিডিয়া সহ সোশাল মিডিয়ায় হাঁকডাক হয়। বড়ই অাফসোস বিএনপি-জামায়াত নেতাকর্মীদের জন্য, তাদের রক্তের দাম এতই সস্তা যে খুচিয়ে খুচিয়ে মেরে রাস্তায় ফেলে দিলে মিডিয়ায় প্রচার প্রসার তো দুরের কথা বহু ক্ষেত্রে পরিবারের সদস্যরাও গ্রেফতারের ভয়ে লাশ রিসিভ করতে পর্যন্ত যায়না। হেফাজতের হুজুরদের কথা অার কিইবা বলবো, অাহত অর্ধ মৃত রক্তাক্ত মানুষগুলো রাস্তায় পড়ে থাকলেও, রাষ্ট্রের প্রধান নির্বাহী রং মেখে ঢং করার অপবাদ দেয়।

নুরুর উপরে হামলার বহু আগেই প্রয়াত মেয়র আনিসুল হকের লোকজন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার গাড়ি বহরে হামলা করেছিল। বাংলা মটরে ভয়াবহ মারধর করে বেগম জিয়ার নিরাপত্তা টিমের সদস্যদের রক্তাত্ত করা হয়েছিল। সেই হামলার পরেও অনেক বয়স্ক কেন্দ্রিয় নেতা ছাত্রলীগ-যুবলীগের হাতে শাররীক হামলার শিকার হন। এছাড়া সর্বশেষ জাতীয় নির্বাচনের আগেও প্রচুর মাইর খেয়েছেন সাংবাদিকসহ বিএনপির নেতাকর্মীরা। সেই সময়ে সবাই চুপ করে ছিল। ভাবখানা এমন যে খালেদা জিয়া কে? বিএনপির কর্মীদের কুত্তার মত রাস্তায় পিটাইলে কার কি ক্ষতি? যাইহোক একটি জুলুমকে যখন তোমরা প্রশ্রয় দেবে তখন মনে রাখবে এর জন্য একদিন নিজের পিঠ খালি থাকবে না।

কিছুদিন আগে ক্যাম্পাসে ছাত্রদলের মামুন খান বা ডাকসু নির্বাচনের প্রার্থী তৌহিদের উপর হামলা হয়েছিল। সেদিন কোথায় ছিলেন ভিপি নূর আর তার সঙ্গীসাথীরা? রাজনৈতিক কার্যক্রম থেকে বিএনপি এখন অবসরে। দলটির নেত্রীকে মেরে ফেলা হচ্ছে তারপরেও দলটি কিছু করতে পারছে না। নূরুকে দেখতে এখন হাসপাতালে ভীড় করছেন বিএনপি আর ছাত্রদলের নেতারা। মানবতার প্রশ্নে অত্যন্ত ভালো কাজ। সেল্ফি রাজনীতিও জমছে ভালো। কিন্তু মহোদয়দের প্রশ্ন করি যখন আপনাদের শুভাকাক্ষীরা হামলার শিকার হয় তখন কোথায় থাকেন আপনারা? নূরুরা ছাত্রদল-বিএনপির সমর্থনের সুবিধা ভোগ করলেও ছাত্রদল-বিএনপিকে পুচে না। তাও তাদের পেছনে দৌড়ান আর নিজেদের সম্ভাবনাগুলোকে অযত্নে অবহেলায় শুকিয়ে মারেন। ওহ বুঝেছি, তাদের দেখতে গেলে তো তেমন প্রচারনা মিলবে না। আপনাদের চাই প্রচারনা!

নূরুকে এতদিন মারতে তার মাতৃসম শেখ হাসিনার সোনার ছেলে ছাত্রলীগ। মারেন। এখন যুক্ত হইছে মুক্তিযোদ্ধা মঞ্চ ! এই মঞ্চের নামটি শুনলেই হাসি পায়। মুক্তিযুদ্ধের সময় যাদের জন্মই হয়নি, এমন কি যাদের অনেকের মা-বাবার জন্মও হয়নি; তাঁরাই নাকি মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের নেতা। মুক্তিযোদ্ধারা মনে হয় প্রতিবাদ করতেও ভুলে গেছে। আসলে মুক্তিযুদ্ধ শব্দটিই এখন সন্ত্রাসীদের কার্যকর অস্ত্র। চেতনা ব্যবসার নামে গুন্ডামী করার সবচেয়ে বড় সেইফ গার্ড। মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ নয়, বরং এটাকে বলা যেতে পারে- এনএসএফ, আইয়ুব খান মঞ্চ!

সাধারণ শিক্ষার্থীরা নূরুকে নির্বাচিত করেছিল ঢাকসু ভিপি। অবশ্যই ভোটে সে বিজয়ী হতে পারেনি। সোনার ছেলেদের কেড়ে নেয়া বিজয় সে ফেরত পেয়েছিল মানুষের প্রতিবাদের মুখে। সে কথা সে নিজেও মনে রাখেনি। যাক, নুরুকে মারার সময় সাধারণ ছাত্র শিক্ষক কেউ এগিয়ে আসেনি। এমন কি মেরে ফেলে রাখার পরেও ১ ঘন্টার মত তারা নিজের কক্ষেই পড়ে ছিলেন। কেন এমনটি হলো? নুরকে যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা ভিপি বানাইছে,তারা কোথায়? উপর এইযে এতবার হামলা হল সেটি নিয়ে ঢাবি ছাত্রদের প্রতিক্রিয়া কি। বলা হচ্ছিল বিপুল ভোটে তিনি নির্বাচিত(!!) তাহলে তার ভোটার গুলি কোথায়?

নুরুকে সবাই ভিপি বলেন। আমার কাছে তারে ভিপি মনে হয়নি। ভিপি সুলভ কিছুই তার নেই। নুরু যেসব কথা বলেন তা শুনতে ভাল লাগে। কিন্তু তিনি নিজে তা কতটুকু বিশ্বাস করেন সেটি একটি প্রশ্ন। আজ সরকারের বিরুদ্ধে বলেন, কাল আবার গণভবনে গিয়ে স্বৈরাচারকে মা ডাকেন। টকশো শেষে এইত গত সপ্তাহে গো. রাব্বানীর গলা জড়িয়ে ধরে ছবি তুললেন। যে রাব্বানী বলেছেন- ‘নুরু বাচলো না মরল ডাজ নট মেটার!’ এই তো ছাত্রলীগ দিয়ে পিঠানোর পর আওয়ামী লীগ নেতা নানক-নাছিম গেছেন নূরুকে দেখতে। সাথে নিয়ে গেছেন নূরুর বাবা ও শ্বশুরকে। নানক তাদের দুইজনকে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা হিসাবে পরিচয়ও করিয়ে দিয়েছেন জাতির সামনে। তাহলে তো বিষয়টি দাঁড়াচ্ছে নূরু আসলে ভাইয়ে ভাইয়ে গৃহবিবাদের শিকার।

যখন সংগ্রাম অফিসে হামলা করা হয়েছিল তখন ৭১ টিভির উপস্থাপক একাত্তর জার্নাল অনুষ্টানে বলেছিলেন- ‘সংগ্রাম অফিসের হামলা আমাদের আলোচনার বিষয়বস্তু না। যে কারণে বিক্ষুদ্ধ হয়ে হামলাটি চালানো হয়েছে সেটি নিয়ে আপনার কাছে জানতে চাই’। এভাবেই সংগ্রাম অফিসে হামলা জাস্টিফাই করা হয়েছিল। মিডিয়া, রাষ্ট্র সবাই একযোগে প্রশ্রয় দিয়েছিল মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চকে। ফলাফল, ঢাবিতে মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ টানা তান্ডব চালিয়ে যাচ্ছে। আইন,বিচার সবকিছুর উর্ধ্বে মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ। সংগ্রাম অফিসে হামলার পর গদগদ হয়েছেন, মুচকি হেসেছেন, চুপ থেকেছেন।এইখানে শেষ না।

বাংলাদেশে ভারতীয় অাধিপত্যবাদ বিরোধীদের নিস্তার নাই। ভারতের বিরুদ্ধে কথা বলতে গিয়ে জীবন হারিয়েছিল বুয়েট ছাত্র আবরার। ঢাবিতে ভারতীয় হাইকমিশনের প্রোগ্রাম বাতিলের কোপ অাজ পড়লো নুরুর উপর। নুরু এবং তার সহকর্মীরাও এখন সেই ভারতের এজেন্টদের হাতে মাইর খেয়ে হাসপাতালে। কিন্তু বিগত এক যুগ ধরে এদেশে ভারতীয় অাধিপত্য বিরোধী কন্ঠগুলোকে বিভিন্ন ভাবে (কাউকে জুডিশিয়াল কিলিং, কাউকে ক্রসফায়ার কাউকে ২ কোটি টাকা তসরুপের মামলায়, কেউবা অাবার ডিজিটাল অাইনে) নিস্তেজ করা হচ্ছে তা নিয়ে বাঙালীর কোন উদ্বেগ নেই। বাঙালী এখনো সুখ নিদ্রায়।

যাবতীয় সকল অন্যায় অবিচার বৈষম্যহীনতার বিরুদ্ধে লড়াই করার সকল দায়িত্ব কেবলই বিএনপি-জামায়াতের? দলমত নির্বিশেষে যাবতীয় অনায্যতার বিরুদ্ধে প্রতিবাদে সোচ্চার না হলে বাঙালীকে কাশ্মীর-ফিলিস্তিনিদের ভাগ্য বরণ করার জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে। নুরুকে পিটানো আজ যারা দুরে দাড়িয়ে দেখে মজা নিচ্ছেন তারাও একদিন হামলার শিকার হবেন। দানব কখনো থেমে থাকেনা। মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের আরো অনেক তান্ডব দেখার জন্য মানসিক ভাবে প্রস্তুত থাকুন। ২০০৩ সালে প্রকাশিত খুশবন্ত সিংহের ‘দ্য এন্ড অব ইন্ডিয়া’ গ্রন্থে লিখেছেন- “প্রতিটি ফ্যাসিস্ট সরকারের একটি দল বা গোষ্ঠীর প্রয়োজন।

(কাফি কামালের ফেসবুক থেকে নেওয়া)

মন্তব্য করুন

খবর অনুসন্ধান

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২
১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭২৮২৯৩০  

সর্বশেষ নিউজ

আরো পড়ুন

Shares