১, এপ্রিল, ২০২০, বুধবার

দেশের প্রথম দ্বীপভিত্তিক পর্যটন কেন্দ্র ‘নাফ ট্যুরিজম পার্ক’ নির্মাণের কাজ এগিয়ে চলছে

প্রতিদিনের কাগজ' রিপোর্ট :
প্রকাশিত: ১১:১৪ পূর্বাহ্ন, ৪ ডিসেম্বর ২০১৯, বুধবার


নাফ নদীর মোহনায় জালিয়ার দ্বীপে

নাফ নদীর মোহনায় জালিয়ার দ্বীপে

নাফ নদীর মোহনায় জালিয়ার দ্বীপে দেশের প্রথম দ্বীপভিত্তিক পর্যটন কেন্দ্র ‘নাফ ট্যুরিজম পার্ক’ নির্মাণের কাজ এগিয়ে চলছে। এটি প্রতিষ্ঠায় ৫০ কোটি মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করছে থাইল্যান্ডের সিয়াম সিয়াম ইন্টারন্যাশনাল, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় ৪ হাজার ২০০ কোটি টাকার সমান। এ বিনিয়োগের জন্য বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেজা) সঙ্গে গত বছর সেপ্টেম্বরে একটি সমঝোতা স্মারক সই করেছে কোম্পানিটি।

বেজা সূত্র জানায়, ট্যুরিজম পার্কের উন্নয়ন কাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে। এরই মধ্যে দ্বীপের মাটি ভরাটের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। চলছে দ্বীপের পশ্চিমাংশে মূল ভূখণ্ডে ২১ দশমিক ১২ একর জমিতে সীমানা নির্মাণের কাজ। এর জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে ৯৫ কোটি টাকা। ৫ বছরের মধ্যে নাফ ট্যুরিজম পার্ক প্রতিষ্ঠার কাজ সম্পন্ন হবে বলে আশা করছে বেজা। তবে প্রথম ধাপের কাজ শেষ করা হবে দেড় বছরের মধ্যে

বেজার তথ্য অনুযায়ী, ২৯৩ একর ভূমির ওপর পর্যটন কেন্দ্রটি নির্মিত হলে এটি হবে দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম পর্যটন কেন্দ্র। ইকোফ্রেন্ডলি এ পর্যটন কেন্দ্রটিতে ১৫ হাজারের বেশি মানুষের কর্মসংস্থানের পাশাপাশি বছরে ১০ লাখের মতো পর্যটক দ্বীপটিতে ভ্রমণ করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ-বেজা প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে। বেজা জানায়, সিয়াম সিয়াম ইন্টারন্যাশনাল থাইল্যান্ডে বিশ্বমানের পর্যটন কেন্দ্র, হোটেল, রিসোর্ট, বিনোদন কেন্দ্র, স্পা, ফিটনেস সেন্টারসহ পর্যটনের বিভিন্ন অবকাঠামো নির্মাণ ও পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত। সিয়ামের ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, তারা বাংলাদেশে যৌথ উদ্যোগে ফ্যান্টাসি কিংডম নির্মাণ, ফয়’স লেকে পর্যটন অবকাঠামো তৈরি এবং কক্সবাজারের রয়েল টিউলিপ সি পার্ল বিচ রিসোর্ট নির্মাণের সঙ্গে যুক্ত ছিল। কক্সবাজারের টেকনাফে নাফ নদীর বাংলাদেশ অংশে জালিয়ার দ্বীপটির অবস্থান। এর পূর্বপাশে মিয়ানমার, দক্ষিণ-পশ্চিম পাশে বাংলাদেশের নেটং পাহাড়। টেকনাফের মূল শহর থেকে এটি ৬ কিলোমিটার ও কক্সবাজার শহর থেকে ৮০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। ঢাকা থেকে জালিয়ার দ্বীপের দূরত্ব ৪৫৬ কিলোমিটার এবং চট্টগ্রাম থেকে ১৮৫ কিলোমিটার। ২৭১ দশমিক ৯৩ একর আয়তনের এই দ্বীপে দীর্ঘদিন স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তিরা মাছের চাষ করতেন। ২০১৫ সালের দিকে বেজার নির্বাহী চেয়ারম্যান পবন চৌধুরী জালিয়ার দ্বীপে পর্যটন কেন্দ্র গড়ে তোলার উদ্যোগ নেন। পরে দ্বীপটি দখলমুক্ত করা হয়। বেজার অনুকূলে ২৯৩ একর ভূমির দীর্ঘমেয়াদি বন্দোবস্ত সম্পন্ন করা হয়।

নাফ ট্যুরিজম পার্কের অন্যতম আকর্ষণ হবে সাড়ে ৯ কিলোমিটার দীর্ঘ ক্যাবল কার। এটি দ্বীপটিকে মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে যুক্ত করবে, যা নেটং পাহাড়ের সঙ্গে যুক্ত থাকবে। ইতিমধ্যে চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়কে পরামর্শক নিয়োগ করা হয়েছে। কেবল কার স্থাপনের জন্য সম্ভাব্যতা যাচাই, পরিবেশগত ও সামাজিক প্রভাব সমীক্ষা চালাবে চুয়েট। এসবের পরিপ্রেক্ষিতে একটি স্ট্রাকচারাল ডিজাইনও প্রস্তুত করবেন সরকারি এই প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষজ্ঞরা। এটা নির্মিত হলে তা হবে দেশের সবচেয়ে দীর্ঘ ক্যাবল কার এবং দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম ক্যাবল কার। মার্চে চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এবং বেজার মধ্যে এ বিষয়ে একটি পরামর্শ পরিষেবা চুক্তি সই হয়।

ট্যুরিজম পার্কে আরও থাকবে পাঁচ ও তিন তারকা হোটেল, জিমনেশিয়ামসহ অ্যাপার্টমেন্ট, রিসোর্ট, বিনোদন পার্ক, লাইভ এন্টারটেইনমেন্ট থিয়েটার ও মিউজিয়াম, মেগা শপিং মল, সিনেমা হল, বোলিং সেন্টার, ঘূর্ণায়মান রেস্তোরাঁ, ওয়াটার স্পোর্টস বিচ, গলফ ক্লাব, কেব্ল কার, নদী ভ্রমণ, মিউজিক্যাল ওয়াটার ফাউন্টেইন, মসজিদ, অফিস ভবন, পাওয়ার প্ল্যান্টসহ অন্যান্য অবকাঠামো ও সুযোগ-সুবিধা স্থাপনের প্রাথমিক পরিকল্পনা করেছে বেজা।

বেজার নির্বাহী চেয়ারম্যান পবন চৌধুরী সাংবাদিকদের বলেন, পর্যটন শিল্পের বিকাশের জন্য বেজা জালিয়ার দ্বীপে ট্যুরিজম পার্ক প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিয়েছে। এটি প্রতিষ্ঠার কাজ ধাপে ধাপে এগিয়ে চলছে। আন্তর্জাতিকমানের নাফ ট্যুরিজম পার্ক দেশি-বিদেশি পর্যটকদের ভ্রমণকে পূর্ণাঙ্গ রূপ দেবে। এটি দেশের পর্যটনশিল্পের উন্নয়নেও বড় ভূমিকা রাখবে। ৫ বছরের মধ্যে পার্কটি উদ্বোধন করা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

মন্তব্য করুন

খবর অনুসন্ধান

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২
১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭২৮২৯৩০  

সর্বশেষ নিউজ

আরো পড়ুন

Shares