১, এপ্রিল, ২০২০, বুধবার

কি হচ্ছে বাংলাদেশে?

প্রতিদিনের কাগজ :
প্রকাশিত: ২:৫৬ অপরাহ্ন, ১৩ অক্টোবর ২০১৯, রোববার


Ashna-Araf

আবরার হত্যার প্রায় ছয়দিন শেষ হতে চললো। এর মধ্যে আসামীদেরকে খুব দ্রুত গ্রেফতার করা হয়েছে এবং হচ্ছে যা নিতান্তই প্রশংসার দাবীদার। বুয়েট শিক্ষার্থী আবরারকে পিটিয়ে হত্যা করে বুয়েটেরই শিক্ষার্থী যারা পরিচয়ে আবরারের সিনিয়র ভাই বা বন্ধু। জানিনা তারা কতটা কঠিন হৃদয়ের কিংবা হৃদয় বলে আদৌ কিছু কি না তাদের?

মাঝেমাঝে নিজে নিজেই শিউরে উঠি কিভাবে সম্ভব একজন মানুষকে পিটিয়ে হত্যা করা? সুস্থ সবল।একজন মানুষকে পিটিয়ে হত্যা! খুব মর্মান্তিক এটা। কাউকে জবাই করলে কিংবা ফাঁসি দিয়ে মারলেও এতোটা কষ্টবোধ হয়না। কিন্তু পিটিয়ে? ছটফট করতে থাকা একজন মানুষকে হত্যা করে সব শেষ করে দেওয়া কিভাবে সম্বব?

বুয়েট সবার প্রাণের ক্যাম্পাস, প্রিয় ক্যাম্পাস। জীবনের সব আনন্দ আহ্লাদ ছেড়ে দিয়ে এখানে আসার জন্য যুদ্ধ করতে। মেধার যুদ্ধে জয়ী হয়ে এখানে আসতে হয়। অথচ আবরার বাঁচার জন্য ক্যাম্পাস ছাড়ার কথাও বলেছিলো। কতটা বাঁচার আকুতি কিংবা কষ্ট পেয়ে থাকলে কেউ বুয়েট প্রাঙ্গণ ছেড়ে দিতে চায়? আমি ভাবছি! শুধু ভেবেই যাচ্ছি। কণ্ঠস্বর বসে যাচ্ছে এর উত্তর দিতে গিয়ে।

একটুও কি মায়া হয়নি অপরাধীদের? তারা কি ছেড়ে দিতে পারতোনা তাকে? আর দিলেই বা কি ক্ষতি হয়ে যেতো? এভাবে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হত্যা! কোন মহলের চাপে এটা হয়েছে? কারা করিয়েছে? কে এর মাস্টার প্ল্যানার? এগুলো নিয়ে আদৌ কিছু খতিয়ে দেখা হচ্ছে? শুধু সিসি ফুটেজে যাদের ছবি দেখা যাচ্ছে তাদেরকে ধরা হচ্ছে। তারাই আসামী। হ্যাঁ,তারাতো আসামী বটে এবং তাদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবী সবার।

কিন্তু আবরার হত্যায় সনির কথা উঠে আসছে কেনো? আসলেও এড়িয়ে যাওয়ার মতো হচ্ছে কেনো? সেসময় ক্ষমতায় কে ছিলো আর কে ছিলোনা তা দেখার বিষয় নয়। পারলে আবরার হত্যার সাথে সনি হত্যারও বিচার হোক। কিন্তু তা না করে বলা হচ্ছে লীগ ক্ষমতায় থাকলে সবাই কথা বলায় সুযোগ পায়, মুখ পায়। অন্যকারো সময় বলা যায় না। ক্ষমতা থাকেনা। এমন অভিমানী মন্তব্য কেনো?

এই মন্তব্য কি ইঙ্গিত দেয় যে আবরার হত্যার প্রতিবাদ বেমানান?

আমার মাথায় আসছেনা বিষয়টা।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছে, “আবরার হত্যার পিছনে নিশ্চয়ই কোনো কারন আছে”।

অন্যদিকে আসামীদেরকে সাময়িক বহিষ্কার!
তারা নিজের দোষ স্বীকার করার পরেও বলা হচ্ছে তদন্ত চলছে।

আর কেমন তদন্ত চলবে?
এখানেও জানার আর কী বাকি আছে?
দ্রুত অপরাধ ট্রাইব্যুনালে এই মামলার বিচারের নির্দেশ দেওয়া হচ্ছেনা কেনো?

প্রধানমন্ত্রী বলেছেন মায়ের মতো অনুভূতি নিয়ে আবরার হত্যার বিচার করবো।

কিন্তু মায়ের জায়গায় থেকে বিচার করলে খুব দ্রুত বিচার হওয়ার কথা। অপরাধীদেরকে স্থায়ী বহিষ্কার করার অনুমতি দেওয়ার কথা। সেখানে এতো বিলম্ব।
মায়ের মতো বিচার করার কথা থাকলেও কার মায়ের মতো? আবরারের নাকি …………?

অনেক এলোমেলো প্রশ্ন আছে। কি হচ্ছে বাংলাদেশ?
বুয়েটের মতো বিদ্যাপীঠে এরকম ঘটনা খুব ভাবিয়ে তুলছে সবাইকে। কিভাবে আগামীতে বাবা মা তার মেধাবী সন্তানদের দেশের স্বার্থে কাজে লাগাবে? কিভাবে কেউ নিজের আর সন্তানের স্বপ্ন পুরনের জন্য এই বিদ্যাপীঠে আসবে?

প্রকৃত মেধাবীরা হারিয়ে যাবে।
আশংকা হচ্ছে খুব আবরারের মতো তুখোড় মেধাবী আর আসবে না সম্ভবত! কারন নিজের সভ্য ভদ্র মেধাবী সন্তানকে কেউ এভাবে হারাতে দিতে চাইবে না। কেউ চাইবে না বড় ডিগ্রীর আশায় কোল খালি করতে। মেধায় ঘুনে ধরে যাবে। বাংলাদেশ মেধাশূন্য হয়ে যাবে একদিন যদি এই অপরাধীদের শাস্তি হয়! তাদেরকে স্থায়ী বহিষ্কার না করলে অপরাধ প্রবণতা বেড়ে চারগুণ হয়ে যাবে।

লেখাঃ আশনা আরাফ।

মন্তব্য করুন

খবর অনুসন্ধান

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২
১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭২৮২৯৩০  

সর্বশেষ নিউজ

আরো পড়ুন

Shares