১৫, ডিসেম্বর, ২০১৯, রোববার

রেলে বাড়ছে ভীতি, কেন এত দুর্ঘটনা, কী করণীয়?

বিশেষ প্রতিবেদন :
প্রকাশিত: ১:০৫ অপরাহ্ন, ১৩ নভেম্বর ১৯ , বুধবার

নিউজটি পড়া হয়েছে ২৩ বার

সড়কে যে পরিমাণ প্রাণহানি হচ্ছে তাতে করে নিরাপত্তার কথা ভেবে মানুষ এখনও ট্রেনেই চলাচলে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করে। কিন্তু ট্রেনযাত্রা কি নিরাপদ? গত ১০ বছরে বাংলাদেশে যে পরিমাণ ট্রেন দুর্ঘটনা ও হতাহতের ঘটনা ঘটেছে সেদিকে চোখ ফেরালে রেলপথে চলাচলে মানুষের ভীতি বেড়ে যাবে আরও কয়েকগুণ।

বেসরকারি এক গবেষণায় দেখা যাচ্ছে, বাংলাদেশে ২০১০ সাল থেকে রেলপথে দুর্ঘটনার পরিমাণ বাড়তে শুরু করে। পরিসংখ্যান মতে, গেল ১০ বছরে বাংলাদেশে ছোট-বড় মিলিয়ে প্রায় ২ হাজার রেল দুর্ঘটনা ঘটেছে। তাতে আড়াইশোরও বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। আহত হয়েছেন সহস্রাধিক।

বিশ্লেষকদের ধারণা, নিরাপদ ভ্রমণের কথা ভেবে মানুষ একটু কষ্ট হলেও ট্রেনে চলাচল করে। কিন্তু ট্রেনে যেভাবে দুর্ঘটনা বাড়ছে তা অব্যাহত থাকলে এই যোগাযোগমাধ্যমটির প্রতি যাত্রীদের আস্থা কমবে। তাতে লোকসানে পড়তে পারে সরকারি এই সেবাখাতটি।

বিশ্বের উন্নত দেশগুলোতে রেল দুর্ঘটনা এড়াতে উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহার করলেও বাংলাদেশে এখনও তা চালু হয়নি। ফলে দুর্ঘটনা রোধ করাও সম্ভব হচ্ছে না। পাশাপাশি রেল কর্তৃপক্ষের যথাযথ নজরদারি, পর্যাপ্ত পাথর, স্লিপার, নাট-বল্টু না থাকাসহ চালকদের অদক্ষতাকে রেলপথে দুর্ঘটনার ঝুঁকি দিন দিন বাড়ছেই।

যদিও নিয়মনীতি বিধিবিধান মেনে চললে বর্তমান পদ্ধতিতেই রেলে দুর্ঘটনা অনেকাংশে কমিয়ে আনা সম্ভব বলে মনে করছেন রেল কর্তৃপক্ষ। যোগযোগ ব্যবস্থায় রেলকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব ও উন্নয়ন বাজেটে অগ্রাধিকার দেয়া হলেও জনগণ এখনও সেই সুফল পাচ্ছে না।

বাংলাদেশ রেলপথ পরিদর্শন অধিদফতরের জরিপে দেখা যাচ্ছে, ২০০৯ থেকে ২০১৪ সালের জুন পর্যন্ত দেশে ১ হাজার ৯৩টি রেল দুর্ঘটনা ঘটেছে। আর ২০১৪ সালের জুলাই থেকে ২০১৯ সালের জুন পর্যন্ত সারা দেশে ৮৬৮টি রেল দুর্ঘটনা ঘটেছে। গেল ১০ বছরে সব মিলিয়ে ১ হাজার ৯৬১টি রেল দুর্ঘটনায় ২৬৩ জনের প্রাণহানি হয়েছে। আর সরকারের আর্থিক ক্ষতি হয়েছে হাজার কোটি টাকারও বেশি।

সবশেষ গেল সোমবার (১১ নভেম্বর) রাত পৌনে ৩টির দিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলার মন্দবাগ রেল স্টেশনে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকাগামী তূর্ণা নিশীথা ও সিলেট থেকে চট্টগ্রামগামী উদয়ন এক্সপ্রেস ট্রেনের মুখোমুখি সংঘর্ষে ১৬ জনের প্রাণহানি হয়। আহত হন আরও অর্ধশতাধিক। সিগন্যাল অমান্য করার কারণেই এই দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। এর আগে গেল ২৩ জুন মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় উপবন এক্সপ্রেস ট্রেন লাইনচ্যুত হয়ে ৪ জন মারা যান।

এ নিয়ে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি এক পরিসংখ্যানে দেখিয়েছে, ২০১৮ সালে সড়ক-রেল-নৌপথ ও আকাশ পথে ৬ হাজার ৪৮টি দুর্ঘটনায় ৭ হাজার ৭৯৬ জনের প্রাণহানি হয়েছে। আহত হয়েছেন প্রায় ১৫ হাজার ৯৮০ জন।

ট্রেনে যে পরিমাণ দুর্ঘটনা ঘটে তার ৭৫ শতাংশই ঘটে লাইনচ্যুতির কারণে। আর যন্ত্রাংশের সংকট ও রেলপথের যন্ত্রপাতি চুরি ট্রেনের এই লাইনচ্যুতির অন্যতম কারণ বলে এক গবেষণায় জানিয়েছে ওয়ার্ক ফর এ বেটার বাংলাদেশ (ডব্লিউবিবি)।

সংস্থাটি বলছে, সারা দেশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা ২ হাজার ৯২৯ কিলোমিটার রেললাইনের মধ্যে মাত্র ৭৩৯ কিলোমিটার রেললাইন মানসম্পন্ন। যা মোট রেললাইনের ২৫.২৩ শতাংশ।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, যে হারে রেল দুর্ঘটনা বাড়তে তা রোধ করতে দ্রুত ও জরুরিভিত্তিতে যথাযথ ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা না হলে অচিরেই রেলপথেও যাত্রীদের ভরসা কমবে। আর তাতে এই সেবাখাত থেকে বিপুল অংকের লাভ বঞ্চিত হবে সরকার।

 

মন্তব্য করুন

খবর অনুসন্ধান

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২১৩১৪১৫
১৬১৭১৮১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
৩০৩১  

সর্বশেষ নিউজ

আরো পড়ুন

Shares