৯, ডিসেম্বর, ২০১৯, সোমবার

রেজিস্ট্রি অফিসে হাজির মৃত ব্যক্তি!

জেলা প্রতিনিধি :
প্রকাশিত: ২:৪৮ অপরাহ্ন, ১০ নভেম্বর ১৯ , রোববার

নিউজটি পড়া হয়েছে ৯ বার

নওগাঁর মান্দার প্রসাদপুরের সাব-রেজিস্ট্রার ও দলিল লেখকের বিরুদ্ধে ভুয়া জমি রেজিস্ট্রির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় দলিল লেখককে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

জানা গেছে, প্রসাদপুর সাব রেজিস্ট্রি অফিসে ১৯জুন মূল দাতাকে বাদ দিয়ে নকল ব্যক্তিকে দাতা সাজিয়ে দানপত্র হিসেবে জমি রেজিস্ট্রি করা হয়েছে। প্রকৃত জমির দাতা কছিম উদ্দিন হওয়ার কথা থাকলেও অন্য এক ব্যক্তিকে দাতা সাজানো হয়েছে। জমি রেজিস্ট্রির পর ওই ভুয়া ব্যক্তির ছবি দলিল থেকে সরিয়ে প্রকৃত দাতা কছিম উদ্দিনের ছবি লাগানো হয়।

কিন্তু দাতা কছিম উদ্দিন এ বছরের ৬ জুন মারা গেছেন। তিনি উপজেলার ভালাইন ইউপির মদকচক গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন। তবে ইউপিতে তাকে ২৬ জুন মৃত দেখানো হয়। কছিম উদ্দিন আগে মারা গেলেও ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করে নকল ব্যক্তিকে দাতা সাজিয়ে পরে জমি রেজিস্ট্রি করা হয়। জমি রেজিস্ট্রির কয়েকদিন পর মৃত দেখিয়ে ইউপি থেকে মৃত সনদ নেয়া হয়।

কছিম উদ্দিনের চার ছেলে-সাইফুদ্দিন, শরিফুল, আশরাফুল ও আলমগীর তাদের চার বোনদের বঞ্চিত করতে তাদের মৃত বাবাকে জীবিত দেখিয়ে ভুয়া ব্যক্তিকে বাবা সাজিয়ে সাব-রেজিস্ট্রার শংকর চন্দ্র বর্মন ও দলিল লেখক হামিদুর রহমানের যোগসাজশে জমি রেজিস্ট্রি করা হয়েছে। জমি রেজিস্ট্রি হওয়ার পর ওই নকল দাতার ছবি সরিয়ে আসল দাতার (কছিম উদ্দিন) ছবি দলিলে সংযুক্ত করা হয়। এ ঘটনায় দলিল লেখকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে। তবে জমি রেজিস্ট্রির কয়েকদিন পর বিষয়টি প্রকাশ পায়। সাব-রেজিস্ট্রার ওই অফিসে যোগদানের পর থেকেই বিভিন্ন অনিয়ম ও দূর্নীতি করে চলছেন। এছাড়া তিনি মহাদেবপুর উপজেলার অতিরিক্ত সাব-রেজিস্ট্রারের দায়িত্বে রয়েছেন।

গ্রহীতাদের একজন আশরাফুল বলেন, বাবা মারা যাওয়ার আগে সব কাগজপত্র ঠিক করা ছিলো। হঠাৎ করেই বাবা মারা যান। মারা যাওয়ার কয়েকদিন পর দলিল লেখকের মাধ্যমে চার একর ৩৬ শতাংশ জমি রেজিস্ট্রি করা হয়। মূলত চারবোনকে বঞ্চিত করতেই এটা করা হয়েছিলো। এরপর বোনেরা বিষয়টি জানতে পেরে আমাদের সঙ্গে দ্বন্দ্ব শুরু করে। পরে স্থানীয়ভাবে বসে আমরা বিষয়টি মিটিয়ে নেই।

দলিল লেখক হামিদুর রহমান বলেন, কাগজপত্র দেখেই জমির দলিল করে দিয়েছি। যে ব্যক্তি মারা গেছে ইউপি থেকে তার সনদপত্র আমার কাছে আছে। একটা ভুল বোঝাবুঝি হয়েছে।

মান্দা প্রসাদপুর দলিল লেখক সমিতির সাধারণ সম্পাদক এরশাদ আলী বলেন, দলিল লেখক হামিদুর রহমান কয়েকদিন ধরে অফিসে আসছে না। বিভিন্ন মাধ্যম থেকে কিছু অভিযোগ শুনতে পাচ্ছি, যে মৃত ব্যক্তিকে জীবিত দেখিয়ে জমি রেজিস্ট্রি করা হয়েছে। তবে কোন পক্ষই আমার কাছে অভিযোগ করেনি।

মান্দা ও কুশুম্বা ইউপি ভূমি অফিসের তহশিলদার লতিফুর রহমান বলেন, ওই জমির বিষয়ে ভূমি উন্নয়ন করের রশিদ দেয়া হয়েছে। তবে কি ভাবে রশিদ দেয়া হয়েছে তার কোনো উত্তর দিতে পারেননি তিনি।

মান্দা প্রসাদপুর সাব-রেজিস্ট্রার শংকর চন্দ্র বর্মনের সঙ্গে মোবাইলে যোগাযোগ করা হলে বিষয়গুলো জানার পর তিনি কোন মন্তব্য করতে চাননি।

মন্তব্য করুন

খবর অনুসন্ধান

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২১৩১৪১৫
১৬১৭১৮১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
৩০৩১  

সর্বশেষ নিউজ

আরো পড়ুন

Shares