৬, ডিসেম্বর, ২০১৯, শুক্রবার

পাঁচবিবিতে আগাম আলু চাষে ব্যস্ত কৃষক

মোঃ বাবুল হোসেন, পাঁচবিবি, জয়পুরহাট প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: ৭:৩৭ পূর্বাহ্ন, ২০ অক্টোবর ১৯ , রোববার

নিউজটি পড়া হয়েছে ৫ বার

কৃষক মাঠে আগাম আলু চাষে ব্যস্ত সময় পার করছেন

আগাম জাতের আমন ধান ঘরে তুলে এখন আগাম আলু চাষে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলার কৃষকরা। আগাম জাতের আলু চাষ করে লাভবান হওয়ায় আশায় বরাবরের মতো এবারও আলু চাষ করছেন এ অঞ্চলের কৃষক। চলতি আমন মৌসুমের কিছু কিছু আগাম জাতের ধান ঘরে তুলেছেন কৃষক। সেই জমিতে এখন আগাম আলুর বীজ বুনছে।

উপজেলার বাগজানা, ধরঞ্জী, রতনপুর, নন্দইল, তাজপুর, আয়মারসুলপুর, কড়িয়া, কেশবপুর, নওয়ানাসহ কয়েকটি গ্রামে গিয়ে দেখা যায় কৃষকরা আলু চাষে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন। এসময় কথা হয় উপজেলার বাগজানা ইউনিয়নের খোর্দ্দা (গঙ্গাঁপ্রসাদ) গ্রামের কৃষক নুর ইসলামের সাথে। তিনি বলেন, বাজারে যার আলু যত আগে উঠবে, তার লাভ তত বেশি। তাই আগে ভাগেই আলু আবাদ করছি। এবার আবহাওয়া অনুকূল। বীজের দাম কম। প্রয়োজনীয় সারের সরবরাহও স্বাভাবিক। তিনি এবার ৫ বিঘা জমিতে আগাম জাতের আলু রোপন করছেন বলে জানান।

একই গ্রামের সাইফুল ইসলাম। তিনিও এবার ১ একর জমিতে আগাম আলু চাষের প্রস্তুতি নিয়েছেন। তিনি জানান, প্রতি বিঘা জমিতে আগামজাতের আলু রোপনে খরচ হচ্ছে ১৫-২০ হাজার টাকা। বিঘায় আলু উৎপাদন হবে প্রায় ৫০ থেকে ৬০ মন। বাজারে আগে আলু তুলতে পারলে প্রতি কেজি আলু বিক্রি হবে প্রায় ৫০ থেকে ৬০ টাকা ধরে। এতে বিঘা প্রতি আলু বিক্রি করে খরচ বাদে লাভ পাওয়া যাবে প্রায় ৩০ হতে ৩৫ হাজার টাকা।

ধরঞ্জী ইউনিয়নের শ্রীমন্তপুর গ্রামের আলু চাষী মতিউর রহমান প্রতিদিনের কাগজ’কে জানান, আগাম জাতের আলু চাষ করে ভালো দাম পাওয়া যায়। তাছাড়া ৬০-৬৫ দিনের মধ্যে এ আলু ক্ষেত থেকে তোলা যায় বলে কৃষকদের আলু চাষের আগ্রহ বেশি।
বাগজানা খোর্দ্দা এলাকার আলু চাষী স্বপন শাহা জানান, গতবার পাঁচ বিঘা জমিতে আলু আবাদ করলেও এবার দ্বিগুণ করেছেন। গতবার ভালো দাম পেয়েছেন বলে জানান তিনি।

অপরদিকে বর্তমান সময়ে গ্রামাঞ্চলে কোন কৃষি কাজ না থাকা আগাম জাতের আলু চাষের কারনে শ্রমিকদের কাজের সুযোগ সৃষ্টি হচ্ছে। পুরুষ শ্রমিকের পাশাপাশি এ কাজে নারী শ্রমিকরাও অংশ গ্রহন করছে। তবে এ ক্ষেত্রে কিছুটা শ্রম মূল্য বৈষম্য লক্ষ্য করা গেছে। শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, পুরুষ শ্রমিকদের হাজিরা হিসাবে ৩শ টাকা করে দেওয়া হলেও নারী শ্রমিকদের ২শ টাকা করে দেওয়া হচ্ছে।
তবে শ্রমিকরা জানান, আগে এ সময়টা কোন কাজ থাকতো না। এখন (আগুর) আগাম আলু চাষ হওয়ায় কাজের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।

পাঁচবিবি উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা লুৎফর রহমান প্রতিদিনের কাগজ’কে বলেন, উপজেলায় এবার ৭ হাজার হেক্টর জমিতে আগাম জাতের আলু হয়েছে। অধিক দামের আশায় কৃষকরা আগাম জাতের আলু আবাদে নেমে পড়েছে। আগামী জানুয়ারী থেকে ডিসেম্বর মাসেই এই আলু বাজারে পাওয়া যাবে বলে তিনি জানান।

মন্তব্য করুন

খবর অনুসন্ধান

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২১৩১৪১৫
১৬১৭১৮১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
৩০৩১  

সর্বশেষ নিউজ

আরো পড়ুন

Shares