১৭, নভেম্বর, ২০১৯, রোববার

নওগাঁয় আগাম শীতকালীন সবজি চাষে কৃষকের ভাগ্য বদল

ইখতিয়ার উদ্দীন আজাদ, নওগাঁ প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: ৭:২১ পূর্বাহ্ন, ১৭, নভেম্বর, ২০১৯, রোববার

নিউজটি পড়া হয়েছে ২ বার

নওগাঁয় আগাম শীতকালীন সবজি চাষে বদলে দিয়েছে অনেক কৃষকের ভাগ্য।

এ বছর আশানুরূপ দামের থেকেও বেশি দাম পাওয়ায় কৃষকরাও খুশি। উৎপাদিত ফসল বিক্রি করেই এখন কৃষক পচ্ছেন নগদ অর্থ।
আর এই শীত মৌসুমে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানের ব্যবসায়ীরা আগ্রহের সঙ্গে ট্রাকে করে ফুলকপি, বাঁধাকপি, বেগুন, কুমড়া, শীম, লাউ, বরবটি, পালংশাক ও লাল শাকসহ বিভিন্ন সবজি নিয়ে যাচ্ছেন।

জেলায় অনেক কৃষক এই শীতকালীন সবজি চাষ করে স্বাবলম্বী হয়েছেন। গত বছর বাজারে সবজির দাম বেশি থাকায় বর্তমান এলাকার কৃষকরা সবজি চাষে ঝুকে পড়েছেন।

দলগাছী উপজেলার কোলা ইউনিয়নের আবুল হোসেন, কোলাবাজার এলাকার সিফাত, সুমন, দুদু মিয়া ও দোলন হোসেন জানান, পরিবারের দারিদ্রতার কারণে বেশি পড়ালেখা করতে পারেন নি। জীবন জীবিকা নির্বাহে সম্পৃক্ত হন কৃষিকাজে। কৃষি কাজ নিয়েই চলছে তাদের জীবন জীবিকা।

সুমন হোসেনের পড়ালেখা তেমন না থাকায় কি করবে ভেবে পাচ্ছিলেন না। অনেক চিন্তা-ভাবনা করে তিনি শুরু করেন সবজি চাষ। আর এই সবজি চাষের বদলৌতে বদলে গেছে তার ভাগ্য। পরিবারের আর্থিক কষ্ট অনেকটা কমে গেছে। গত বছর শীত মৌসুমে ৩ বিঘা জমিতে তিনি সবজি চাষ করে প্রায় ৩ লাখ টাকা আয় করেছেন। এ বছর তিনি সবজি চাষ করেছেন সাড়ে ৩ বিঘা জমিতে।

আধাইপুর ইউনিয়নের লুৎফর মিয়া জানান, গত বছর ১০ কাঠা জমিতে টমেটো চাষ করে প্রায় ৫৫ হাজার টাকা আয় করেছেন। ফলে এবছরও একই আবাদ করছেন। কিছু দিনের মধ্যে বিক্রিও শুরু করবেন। তার চোখে এখন রঙিন স্বপ্ন। গত বারের চেয়ে এবার দামও অনেক বেশি। আশা করছেন আগের বছরের চেয়ে এবার আরো বেশি লাভ হবে।

পাহাড়পুর ইউনিয়নের রফিকুল জানান, ৬/৭ বছর আগে রবিশস্য চাষাবাদ করতেন তিনি। তাতে খরচই উঠত না। কষ্টে করে দিন কাটত তাদের। সংসারে অভাব-অনটন লেগেই থাকতো। অনেক ভেবে চিন্তে শুরু করেন লাউ চাষ। লাউ চাষের শুরুতেই আসে তার সফলতা। এরপর আর পেছনে ফিরে দেখতে হয়নি তাকে। লাউ চাষে দুইটি লাভ খুঁজে পান তিনি। প্রথমে লাউ বিক্রি, এরপর লাউয়ের ডগা বিক্রি।

চলতি বছরে ১ বিঘা জমিতে লাউ চাষ করেছেন তিনি। লাউ চাষে মাচা তৈরিসহ তার খরচ হয়েছে ১০ থেকে ১২ হাজার টাকা। তিনি এ পর্যন্ত ওই খেত থেকে ৫৫ হাজার টাকার লাউ বিক্রি করেছেন। আরো ২০ থেকে ৩০ হাজার টাকার লাউ বিক্রি করতে পারবেন বলে আশা করছেন।

এই উপজেলার শীম চাষি নাইম বলেন, আমি এ বছর ১ বিঘা জমিতে আগাম শীম চাষ করেছি এবং এ পর্যন্ত প্রায় ৭০ হাজার টাকার শীম বিক্রি করেছি।

বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, উপজেলার ৮টি ইউনিয়নে হাজার হাজার বিঘা জমিতে সবজি চাষ করছেন কৃষকরা। অন্যান্য সবজি চাষের পাশাপাশি ব্যাপকভাবে চাষ হয়েছে বাঁধাকপি ও ফুলকপি।

স্থানীয় কৃষক রমজান জানান, এক ১ বিঘা জমিতে বাঁধাকপি চাষ করতে খরচ হয়েছে ২০ হাজার টাকা। আর এই বাঁধা কপি তিনি বিক্রি করছেন প্রতিটি ৪০ থেকে ৫০ টাকা করে। এক বিঘা জমি থেকে প্রায় চার-পাঁচ হাজার বাঁধা কপি বিক্রি করা যায়। সব মিলে তার লাভ থাকবে ১ লাখ থেকে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা।
স্থানীয় বাজার ঘুরে দেখা যায়, প্রতি কেজি নতুন গাজর ১৫০ টাকা, শীম ৮০ টাকা, বাঁধাকপি ৪০/৫০ টাকা, ফুলকপি ২৫/৩০ টাকা, ওলকপি ৪৫ টাকা, ঢেঁড়স ৬০ টাকা, করলা ৬০ টাকা, পটল ৪০ টাকা, বেগুন ৪০টাকা, বরবটি ৪০, লালশাক ৬০ টাকা, পেঁপে ৩০ টাকা, মূলা ৪০ টাকা, শসা ৩০/৪০ টাকা, টমেটো ৮০/১০০ টাকা, কাঁচা মরিচ ৬০/৮০ টাকা, পালংশাক ৬০/৮০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

উপজেলা কৃষি অফিসার হাসান আলী জানান, এ বছর এখন পর্যন্ত উপজেলার ৮টি ইউনিয়নে বিভিন্ন স্থানে প্রায় ২ হাজার একর জমিতে আগাম শীতকালীন সবজি চাষবাদ হয়েছে। সবজি চাষে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করতে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদঃফতর থেকে তারা বিভিন্ন ভাবে পরামর্শ দিয়ে আসছেন।

তিনি আরো বলেন, বাজারে সবজির দাম ভালো থাকায় এলাকার কৃষকরা সবজি চাষ আরো বেশি করে চাষাবাদ করছেন। এবছর আরো প্রায় ৩ হাজার একর জমিতে সবজি চাষাবাদ বৃদ্ধি পাবে।

শেয়ার করুন… 

মন্তব্য করুন

খবর অনুসন্ধান

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০
১১১২১৩১৪১৫১৬১৭
১৮১৯২০২১২২২৩২৪
২৫২৬২৭২৮২৯৩০  

সর্বশেষ নিউজ

আরো পড়ুন

Shares