১৭, নভেম্বর, ২০১৯, রোববার

জাবিতে ব্যঙ্গাত্মক চিত্র প্রদর্শনীতে ভিসির অপসারণ দাবি

স্টাফ রিপোর্টার::
প্রকাশিত: ১:০৮ অপরাহ্ন, ১৭, নভেম্বর, ২০১৯, রোববার

নিউজটি পড়া হয়েছে ৫ বার
জাবিতে ব্যঙ্গাত্মক চিত্র প্রদর্শনীতে ভিসির অপসারণ দাবি

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) ভিসি অধ্যাপক ফারজানা ইসলামের অপসারণের দাবিতে ক্যাম্পাসে ব্যঙ্গাত্মক উক্তি ও চিত্র অঙ্কিত ব্যানার নিয়ে মিছিল করেছে ‘দুর্নীতির বিরুদ্ধে জাহাঙ্গীরনগর’র আন্দোলনকারী শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।

গতকাল শুক্রবার বিকাল সাড়ে ৪টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরাতন প্রশাসনিক ভবনের সামনে থেকে মিছিলটি শুরু হয়ে গুরুত্বপূর্ণ সড়ক সমূহ প্রদক্ষিণ করে নতুন কলা ভবনে গিয়ে শেষ হয়।

শিক্ষার্থীরা বলেন, ৬০ গজ লম্বা কাপড়ে ব্যঙ্গত্বক চিত্রের মাধ্যমে অন্যায় ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে তাদের প্রতিবাদের ভাষা প্রকাশ করা হয়েছে। চিত্রের মাধ্যমে ভিসির দুর্নীতি, স্বেচ্ছাচারিতা, ছাত্রলীগ দ্বারা আন্দোলনকারীদের ওপর হামলাসহ সকল অনিয়ম তুলে ধরছেন তারা। একই সাথে ভিসির অপসারণ চাইছেন।

ব্যতিক্রমী এ কর্মসূচির ব্যাপারে আন্দোলনের অন্যতম সংগঠক ও ছাত্র ইউনিয়নের বিশ্ববিদ্যালয় সংসদের সভাপতি নজির আমিন চৌধুরী জয় বলেন, ‘ব্যঙ্গত্বক চিত্র অঙ্কনের মাধ্যমে আমরা ভিসির অনিয়ম স্বেচ্ছাচারিতা তুলে ধরেছি। এর আগে আমরা ৩০ গজ লম্বা কাপড়ে একইভাবে প্রতিবাদ জানিয়েছিলাম কিন্তু আমাদের সেই ক্যানভাসটি ছিড়ে ফেলা হয় যার প্রতিবাদে এবার ৬০ গজ কাপড়ে ভিসির দুর্নীতি ও অনিয়ম তুলে ধরেছি।’

এর আগে বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ এবং ক্যাম্পাসে প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে পুরাতন প্রশাসনিক ভবনের সামনে জড়ো হতে শুরু করেন আন্দোলনকারীরা। এরপর পূর্ব ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী চিত্রাঙ্কন শুরু করেন তারা।

নতুন কলা ভবনে পরবর্তী কর্মসূচি ঠিক করতে বৈঠকে বসেছে আন্দোলনকারীরা। রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত মিটিং চলছিলো। এদিকে মিটিং শেষে অনুমতি পাইলে শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনে (ইউজিসি) ভিসির বিরুদ্ধে দুর্নীতির তথ্য-উপাত্ত জমা দেওয়ার জন্য আন্দোলনকারীদের একটি প্রতিনিধি দল যাত্রা করবেন বলে জানান আন্দোলনকারীরা।

প্রসঙ্গত, ভিসির অপসারণ দাবিতে গত সোমবার (৪ নভেম্বর) সন্ধ্যা ৭টা থেকে ভিসির বাসভবন ঘেরাও করেছে রেখেছিলেন ‘দুর্নীতির বিরুদ্ধে জাহাঙ্গীরনগর’ ব্যানারে আন্দোলনরত শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।

পরেরদিন মঙ্গলবার সকাল সোয়া ১১টায় ভিসি সমর্থক শিক্ষক-কর্মকর্তারা ভিসিকে বাসা থেকে বের করে তার কার্যালয়ে নিয়ে যেতে আসেন।

এ সময় ভিসি সমর্থক শিক্ষক ও আন্দোলনকারীদের সঙ্গে উত্তপ্ত বাক-বিতণ্ডা চলতে থাকে। এর মধ্যেই পৌনে ১২টার দিকে শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি মো. জুয়েল রানার নেতৃত্বে একটি মিছিল নিয়ে ঘটনাস্থলে এসে আন্দোলনকারীদের এলোপাতাড়ি মারধর করতে শুরু করে।

পরে দুপুর আড়াইটার দিকে আন্দোলনকারীদের ওপর হামলার ঘটনায় অনির্দিষ্টকালের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করে প্রশাসন। এছাড়া শিক্ষার্থীদের হল ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।

এদিকে গতকাল বুধবার রাত ৮টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ অফিসের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক সালাম সাকলাইন স্বাক্ষরিত এক অফিস বিজ্ঞপ্তিতে ক্যাম্পাসে সব ধরনের সভা-সমাবেশ, মিছিল কিংবা কোনো অফিস বা আবাসিক এলাকায় শিক্ষার্থীদের অবস্থানে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। তবে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাখ্যান করে আন্দোলন অব্যাহত রেখেছেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।

মন্তব্য করুন

খবর অনুসন্ধান

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০
১১১২১৩১৪১৫১৬১৭
১৮১৯২০২১২২২৩২৪
২৫২৬২৭২৮২৯৩০  

সর্বশেষ নিউজ

আরো পড়ুন

Shares