১৫, ডিসেম্বর, ২০১৯, রোববার

ঘুরে বেড়াই সরিষা ক্ষেতে

প্রতিদিনের কাগজ রিপোর্ট :
প্রকাশিত: ১:১৯ অপরাহ্ন, ২৮ নভেম্বর ১৯ , বৃহস্পতিবার

নিউজটি পড়া হয়েছে ১১ বার
ঘুরে বেড়াই সরিষা ক্ষেতে

সরিষা ফুলের হলুদ সৌন্দর্য দেখার সময় শুরু! এ যেন প্রকৃতির সঙ্গে মানুষের মিলন উৎসব। এই উৎসবে আপনিও সামিল হতে পারেন। ঘুরে আসতে পারেন হলুদ দুনিয়া থেকে। যারা শহরে থাকেন তাদের বলছি, মনকাড়া হলুদ সরিষা ক্ষেত দেখে আসুন এই শীতেই।

ধানসিড়ির হলুদ গ্রাম

ফুসফুসের উপকার সাধিত হয় সরিষা ফুলের ঘ্রাণে। ঝালকাঠির ধানসিড়ি ইউনিয়নের সাচিলাপুর গ্রামের হলুদে মিশে যান একদিন। শীতে সেখানকার কৃষকরা ব্যস্ত থাকে সরিষার পরিচর্যায়, ভ্রমর মধু খুঁজে ফিরছে ফুলে ফুলে। দেখবেন নানা রঙের প্রজাপতিতে ভরে আছে সরিষা ক্ষেত। রঙ-বেরঙের প্রজাপতি ডানা ঝাপটানো চিত্তে জাগাবে নবতর আনন্দ।

সরিষা ফুল
সরিষা ফুল

ঢাকার সদরঘাট থেকে লঞ্চ বা স্টিমারে রাজাপুর ঘাটে নেমে যেকোনো পরিবহনে সরিষা গ্রামে যাওয়া যায়। ঢাকার সদরঘাট থেকে সন্ধ্যা ছয়টায় বিআইডব্লিউটিএ’র রকেট-স্টিমার ‘পিএস মাহসুদ’, ‘পিএস অস্ট্রিচ’, ‘পিএস লেপচা’ ও ‘পিএস টার্ন’ ছাড়ে। সপ্তাহের দিনগুলোতে পালাক্রমে ছাড়ে স্টিমারগুলো।

ঝিটকার হলুদ রাজ্য

সরিষা ক্ষেতের জন্য মানিকগঞ্জের ঝিটকা খুবই পরিচিত একটি নাম। কুয়াশায় ধূসর প্রান্তর, তাও চারদিকে হলুদের সমাহার। মনে হয় যেন রূপকথার রাজকুমারীর গায়ে হলুদ। প্রজাপতি, মৌমাছি, হলুদিয়া-নীলরঙা পাখি, পোকামাকড় থেকে শুরু করে অনেক কিছু দেখা যায় এই রাজ্যে! সবাই যেন হুমড়ে পড়ে হলুদের ওপর। এই সময়ে সরিষা ক্ষেতগুলোর অনেক জায়গায় মধুচাষিরা বসেন মধু সংগ্রহের জন্য।

ঝিটকায় যেতে হলে আপনাকে প্রথমে ঢাকার গুলিস্তান থেকে মানিকগঞ্জের বাসে উঠতে হবে। সেখান থেকে আবার লোকাল বাসে চড়ে ঝিটকা, সারাদিনই এ বাস পাওয়া যায়। এ জায়গায় স্বাচ্ছন্দ্যে ভ্রমণের জন্য নিজস্ব গাড়ি নিয়ে যাওয়া ভালো। যাদের সে ব্যবস্থা নেই তারা ভাড়ায় মাইক্রোবাস কিংবা অন্য কোনো গাড়ি নিয়ে যেতে পারেন।

সরিষা ক্ষেতে ভ্রমণের সবচেয়ে ভালো সময় খুব সকাল কিংবা বিকেল
সরিষা ক্ষেতে ভ্রমণের সবচেয়ে ভালো সময় খুব সকাল কিংবা বিকেল

মেঘনা তীরের সরিষা ক্ষেত

কুয়াশায় মোড়ানো প্রকৃতি। চারিদিকে বিরাজ করছে শীতের আবহ। মাঠে মাঠে শোভা পাচ্ছে হলুদের বিশাল সমারোহ। কুয়াশা ও ঝলমলে রোদের খেলা এখন দিগন্ত বিস্তৃত হলদে বরণ সরিষার ফুলে ফুলে। দিগন্তজোড়া হলদে রঙের সেই সরিষা ফুলের সৌন্দর্য দেখতে যেতে পারেন আড়াইহাজার। চাইলে আপনার প্রিয় মানুষটিকেও এই ভ্রমণের সফরসঙ্গী করতে পারেন। আর সরিষা ফুলের সঙ্গে বোনাস হিসেবে থাকছে শীতের সকালে খেজুরের রস খাওয়া, মেঘনা নদীতে ঝাপঝাঁপি, আড়াইহাজারের স্থানীয় খাবারের স্বাদ নেয়া ও বিরামহীন ছবি তোলা।

কুড়িল বিশ্বরোড থেকে বাসে প্রায় ঘণ্টাখানেকের মধ্যেই আড়াইহাজার পৌঁছানো সম্ভব। আড়াইহাজার নেমে প্রথমেই খেজুরের রস দিয়ে যাত্রা শুরু করতে পারেন। এরপর অটোতে করে হলুদ ফুলের রাজ্যে প্রবেশ করুন। দুপুরটা কাটিয়ে দিন হলুদের রাজ্যেই। দুপুরের খাবার খেয়ে যেতে পারেন মেঘনা পাড়ে।

কাছে কিংবা দূরে, যে দিকেই বেড়াতে যান না কেন সরিষার রাজ্যে ভ্রমণে যেতে নিজস্ব কিংবা ভাড়া করা কোনো গাড়ি নেয়া উচিত। খরচ কমাতে কয়েকজন মিলে একটি গাড়ি ভাড়া করে নিন। তাহলে ইচ্ছেমতো ভালোলাগা যে কোনো জায়গাতেই থেমে যেতে পারবেন। ঘুরতে গিয়ে সরিষা ক্ষেতের যেন কোনো ক্ষতি না হয় সেদিকে অবশ্যই নজর রাখবেন। মনে রাখবেন, সরিষা ক্ষেতে ভ্রমণের সবচেয়ে ভালো সময় খুব সকাল কিংবা বিকেল।

মন্তব্য করুন

খবর অনুসন্ধান

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২১৩১৪১৫
১৬১৭১৮১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
৩০৩১  

সর্বশেষ নিউজ

আরো পড়ুন

Shares