২১, অক্টোবর, ২০১৯, সোমবার

গার্মেন্টসে ‘কর্ম খালি নাই’, ভিড় বাড়ছে বেকারদের

প্রতিদিনের কাগজ রিপোর্ট : | আপডেট: ২১, অক্টোবর, ২০১৯, সোমবার

গার্মেন্টসে ‘কর্ম খালি নাই’, ভিড় বাড়ছে বেকারদের

শিল্পাঞ্চল গাজীপুর,সাভার-আশুলিয়ার তৈরি পোশাক কারখানাগুলো নিয়োগ বন্ধ রেখেছে। এতে বেকার শ্রমিক বেড়ে গেছে। পুরনোদের সঙ্গে গ্রাম থেকে প্রত্যেক দিনই কাজের সন্ধানে নতুন শ্রমিক যুক্ত হচ্ছেন। মজুরি ও উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি পাওয়ায় জনবল নিয়োগে কারখানাগুলো কঠোর নীতি মেনে চলায় এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। চলতি বছর কাজের মৌসুম শেষ হয়ে যাওয়াকেও বেকার বাড়ার কারণ বলে মনে করছে এ খাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা।

মঙ্গলবার গাজীপুর ও সাভারের শিল্পাঞ্চল ঘুরে দেখা গেছে, নতুন শ্রমিকরা অভিজ্ঞতা না থাকায় কাজ পাচ্ছেন না। আর অভিজ্ঞ শ্রমিকদের মধ্যে যারা ঈদ কিংবা অন্য কারণে চাকরি ছেড়ে দিয়েছিলেন, তারা ফিরে এসেও পুরনো কাজে যোগ দিতে পারেননি। অধিকাংশ কারখানা তাদের প্রধান ফটকে ‘কর্ম খালি নেই’ নোটিস টানিয়ে রেখেছে। কিন্তু বেকারদের চাপ সামলাতে এ নোটিসও কাজে আসছে না। কাজের আশায় তারা প্রতিদিনই ভিড় করছেন।

শ্রমিকরা জানান, আগে চাকরি ছেড়ে কয়েক মাস বাড়িতে থাকার পর এলেও সমস্যা হতো না। শিল্পাঞ্চলে কোনো না কোনো প্রতিষ্ঠানে কাজ পাওয়া যেত। কিন্তু এখন কাজ ছেড়ে দিলে আর পাওয়া যাচ্ছে না। কেউ কাজ ছেড়ে দিলে কারখানাগুলো অল্প শ্রমিক দিয়েই কাজ চালিয়ে নিচ্ছে। মূলত চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি আট হাজার টাকা কার্যকর হলে এ ব্যবস্থার প্রচলন হয়।

কাজের সন্ধানে ঘুরে বেড়ানো শ্রমিক বীথি আক্তার প্রতিদিনের কাগজ’কে জানান, তিনি সেলাইয়ের কাজে পারদর্শী অপারেটর। দীর্ঘদিন বিভিন্ন আজ এ-কারখানা, কাল ও-কারখানায় ঘুরে বেড়ালেও চাকরি পাইনি। তিনি বলেন, ভেবেছিলাম কোরবানির ঈদের পর সহজে চাকরি পাওয়া যাবে। কিন্তু কারখানাগুলো লোকই নিচ্ছে না। খুবই কষ্টে জীবন পার করতে হচ্ছে। শ্রমিক তৌহীদুল ইসলাম জানান, ঈদের পর এসে দেখা যাচ্ছে, দু-একটি কারখানায় কিছু শ্রমিক নেওয়া হচ্ছে। কিন্তু পাঁচজন শ্রমিক নিতে ২০ জনের সাক্ষাৎকার নিচ্ছে। অতিরিক্ত কাজের টার্গেট পূরণ যারা করতে পারছে, তারাই চাকরি পাচ্ছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একটি পোশাক কারখানার প্রশাসন বিভাগের এক কর্মকর্তা জানান, শ্রমিকদের মজুরি বাড়ানোর পর থেকে নিয়োগের বিষয়ে মালিকরা সতর্ক হয়েছেন। আগে সুইং অপারেটররা একজন সহযোগী পেতেন। এখন এ কাজ তাকে একা করতে হচ্ছে। উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রাও দ্বিগুণ করা হয়েছে।

বেকার বাড়ার বিষয়ে গার্মেন্টস শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়নের সাংগঠনিক সম্পাদক খায়রুল মামুন মিন্টু বলেন, ‘পোশাক কারখানায় এখন একজন শ্রমিক দিয়ে দুজনের কাজ করানো হচ্ছে। বেতন বাড়ানোর পর মালিকপক্ষ এ অসাধু পথ বেছে নিয়েছে। চাকরি বাঁচাতে বাধ্য হয়ে শ্রমিকরা অতিরিক্ত শ্রম দিচ্ছেন। এজন্যই নতুন কেউ চাকরি পাচ্ছেন না।

 

আরো পড়ুন

%d bloggers like this: