৫, ডিসেম্বর, ২০১৯, বৃহস্পতিবার

খেয়া নৌকায় ভরসা যে গ্রামের, দুই দশক ধরে বলাবলি হচ্ছে ব্রিজ হবে

মো.শামীম হোসেন, সাভার প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: ৫:২০ পূর্বাহ্ন, ৭ অক্টোবর ১৯ , সোমবার

নিউজটি পড়া হয়েছে ৪ বার
খেয়া নৌকায় ভরসা যে গ্রামের, দুই দশক ধরে বলাবলি হচ্ছে ব্রিজ হবে

‘দুই দশক ধরে বলাবলি হচ্ছে ব্রিজ হবে, ব্রিজ হবে। কত সাংবাদিক, চেয়ারম্যান ও সংসদ সদস্যরাও এসেছিলেন তারা আসেন দেখেন চলে যান। আর কিছু দিনপর ক্ষমতা বদল হয়। ক্ষমতা পওয়ার পর প্রতিশ্রুতি দেয় অনেকেই। কিন্তু আমাদের ব্রিজ হয় না। অথচ এই বিজ্রটি আমাদের খুবই দরকার।’
কথাগুলো ‘প্রতিদিনের কাগজ’এর এই প্রতিবেদকের কাছে আক্ষেপ করেই বলে গেলেন আক্তার হোসেন নামের এক ব্যাবসায়ী।
সাভারের আশুলিয়ায় তুরাগ নদের পাশে রুস্তমপুর এলাকার বাসিন্দা আক্তার হোসেন। কথাগুলো রুস্তুমপুরের আশেপাশের দশ গ্রামের মানুষের মনের কথা। তাদের গ্রামে এই একটি ব্রিজের জন্য আটকে পরে আছে হাজারো মানুষের স্বপ্ন।
শহরের খুব কাছে হলেও এই একটি বিজ্রের কারণে পিছিয়ে আছে এই গ্রামটি। রুস্তমপুর গ্রামের হাজারও মানুষ তুরাগ নদের ওপাড়ে থাকা রাজধানীর উত্তরা বেশি ব্যবহার করেন। বিকল্প পথ না থাকায় এ গ্রামের মানুষ জীবনের ঝুকি নিয়ে নদী পথে যাতায়াত করছেন। এতে প্রায় ঘটছে নৌকা ডুবির মত নানা দুর্ঘটনা। দ্রুত সময়ের মধ্যে একটি ব্রিজ এখন আশপাশের লাখো মানুষের দাবী।শামিম বুধবার (২ অক্টোবর) সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, নদী পার হয়ে ওপাড় যাওয়ার জন্য ঘাটে আছে মাত্র একটি ছোটো নৌকা। সকালে নৌকাই করে পাড়া পার হতে গেলে সিরিয়াল ধরে দারিয়ে থাকতে হয়। সেই ছোট্টো নৌকায় দিয়েই প্রতিনিয়ত হাজারও গ্রামবাসী, শিক্ষার্থী, পোশাককর্মী, ব্যবসায়ীরা যাতায়াত করেন। নদের দুই ঘাটেই নৌকায় উঠতেও প্রতিনিয়ত আহত হচ্ছেন নারীসহ শিশু ও বৃদ্ধরা। আর নৌকা এক পাড় ছেড়ে অন্য পাড়ে গেলে তা ফিরে আসার অপেক্ষায় বসে থাকতে হয় দীর্ঘক্ষণ।

স্থানীয়রা আক্ষেপ প্রকাশ করে জানায়, দেশের অনেক উন্নতি হয়েছে। তাদের গ্রামে কেউ অসুস্থ হলে রোগীকে হাসপাতালে নেওয়ার জন্য খেয়ানৌকার উপর ভরসা করতে হয়। বারবার ক্ষমতার পরির্বতন হয় কিন্তু তাদের ব্রিজ হয় না।

উত্তরা ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী রেহেনা সপ্তাহে ছয়দিন ক্লাস করেন। তিনি প্রায় প্রতিদিনই এই খেয়া নৌকা দিয়েই পারপার হন। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, আপনারা তো আসেন দেখেন ছবি তুলেন আর চলে যান। আপনাদের মত অনেকই এখানে আসে কিন্তু আমাদের ব্রিজ তো হয় না। ব্রিজটি হলে আমাদের যে কি উপকার হবে বলে বোঝাতে পরবো না। আবহাওয়া একটু খারাপ হলেই নৌকা আর চলে না। আর সেদিন কলেজে যাওয়া হয় না।
ব্যবসায়ী জসিম বলেন, হাজার হাজার মানুষ প্রতিদিন এই খেয়া নৌকা দিয়ে পাড় হয়। অনেক সময় অনেক দুর্ঘটনার শিকার হই আমরা। এই দশ এলাকার মানুষ সঠিক সময়ে তার গন্তব্য স্থলে পৌছাতে পারে না। তাছাড়া নদীর পানি যখন কমে যায় তখন পোশাক কারখানার বজ্র নদীতে পড়ে একটি বাজে গন্ধের সৃষ্টি হয়। তখন নৌকা করে পারপার হওয়া কষ্ট কর হয়ে পরে।
জাহার নামের এক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, শুধু এই ব্রিজটির জন্য আমাদের এই এলাকাটি অনেক পিছিয়ে আছে। রুস্তুমপুর গ্রামটি কৃষিপূর্ণ গ্রাম এখানের উৎপাদিত কৃষি পণ্য এই ব্রিজের জন্য বাজারে নিয়ে যেতে পারে না।
ব্রিজটি হওয়ার আশ্বাস দিয়ে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি আশুলিয়ায় ইউনিয়ের চেয়ারম্যান সাহব উদ্দিন মাদবর বলেন, ব্রিজটির মাপ-যোগসহ প্রাথমিক কাজ গুলো করা হয়েছে। এখন সয়েল টেস্ট হবে। আমরা আশা করি অচিরেই এই ব্রিজটির কাজ শুরু হবে।

এবিষয়ে সাভার উপজেলা প্রকৌশলী সালহে হাসান প্রামানিক প্রতিদিনের কাগজ’কে বলেন, যেহতু সেখানে সড়ক ও জনপথের সড়ক আছে সেহতু তাদের কাছ থেকে এনওসি নিয়ে এটার ডিজাইন এনে সেই ডিজাইনি নিয়ে তারপর ট্যান্ডারে যাবে। এটি যত দ্রুত সম্ভব ট্যান্ডারে যাওয়ার জন্য পক্রিয়াধীন আছে বলে তিনি জানান।

মন্তব্য করুন

খবর অনুসন্ধান

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২১৩১৪১৫
১৬১৭১৮১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
৩০৩১  

সর্বশেষ নিউজ

আরো পড়ুন

Shares