১৭, নভেম্বর, ২০১৯, রোববার

খিলগাঁওয়ের সংঘবদ্ধ প্রতারক তুহিন স্বর্ণালঙ্কার হাতিয়ে নেওয়ার মামলায় কাশিমপুর কারাগারে

বিশেষ প্রতিবেদক :
প্রকাশিত: ৮:২৫ পূর্বাহ্ন, ১৭, নভেম্বর, ২০১৯, রোববার

নিউজটি পড়া হয়েছে ৪ বার

খিলগাঁওয়ের সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্রের মূলহোতা মোঃ তুহিন শেখ ওরফে তুহি আহমেদ চৌধুরী ওরফে সাহাল তুহি ২ সহযোগীসহ এখন কাশীমপুর হাই সিকিউরিটি কেন্দ্রীয় কারাগারে। এই চক্রের ডান্স কোম্পানির নাম টিডিসি ওয়ার্ল্ড। নাচের পাশাপাশি মিউজিক ভিডিও’র সাথে জড়িত চক্রের সদস্যরা। এদের বিরুদ্ধে ধর্ণাঢ্য ও মধ্যবিত্ত পরিবারের কিশোরীসহ অবুঝ মেয়েদের বিয়ে এবং প্রেমের ফাঁদে ফেলে স্বর্ণালঙ্কার ও লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

এর আগে একাধিক মেয়ের সাথে বিয়ে ও প্রেমের অভিনয় করে ধরাও পড়েছে ছদ্মবেশী এই প্রতারক। তার প্রধান ২ সহযোগী রতন মিয়া ওরফে রিফাত এবং ইমাম উদ্দিন ওরফে বাবু। দামী পোষাক, শুদ্ধ ভাষায় কথা বলা এবং নিজেদের নামের একাংশের সাথে মিল রেখে আকর্ষণীয় নামে খোলা ফেসবুক আইডিতে এডিট করা সুন্দর ছবি পোস্ট করে কিশোরী, অবুঝ এবং কোমলমতি মেয়েদের ফাঁদে ফেলতো সংঘবদ্ধ চক্র। পরে তারা বিভিন্ন কৌশলে স্বর্ণালঙ্কার, নগদ টাকা এবং দামি জিনিসপত্র হাতিয়ে নিতো। সূত্র মতে, সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্রের মূলহোতা একাধিক নাম ব্যবহারকারী মোঃ তুহিন শেখ বহু বিয়ে এবং অনেক মেয়ের সাথে প্রেমের নামে প্রতারণা করেছে। প্রতারণার শিকার মেয়েদের মধ্যে অধিকাংশরাই কিশোরী এবং নাচের সাথে জড়িত। স্বামী-স্ত্রী পরিচয় দিয়ে নাচের প্রশিক্ষণের জন্য বনশ্রী, মেরাদীয়া এবং সিপাইবাগ এলাকায় বাসা ভাড়া নিয়ে টাকা না দিয়েই পালিয়ে যেতো চিহ্নিত এই প্রতারক।

সূত্র জানায়, প্রতারক চক্রের মূলহোতা মোঃ তুহিন শেখ ওরফে তুহি আহমেদ চৌধুরী ওরফে সাহাল তুহি ঢাকার পূর্ব শেওড়াপাড়ার ১৪ বছর বয়সী নবম শ্রেণীর এক স্কুল ছাত্রীকে প্রেমের ফাঁদে ফেলে তার কাছ থেকে ৭ ভরি ৮ আনা ওজনের স্বর্ণের ৩টি নেকলেস হাতিয়ে নেয়। স্বর্ণের আনুমানিক মূল্য ৪ লাখ ২৬ হাজার ৭৫০ টাকা। এ ঘটনায় কাফরুল থানায় মামলা (নম্বর: ৩৬, তারিখ: ২৬-১০-২০১৯) দায়ের করা হয়। পরে অফিসার ইনচার্জ মোঃ সেলিমুজ্জামান এবং অফিসার ইনচার্জ (তদন্ত) মোঃ ফারুকুল আলমের নির্দেশে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মোঃ সাদ্দাম হোসেন ফয়েজ এবং এএসআই মাহফুজুর রহমান গ্রেফতার অভিযান পরিচালনা করেন। শনিবার রাতে খিলগাঁও তালতলা মার্কেট এলাকা থেকে আসামীদের গ্রেফতার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে রবিবার (২৭-১০-২০১৯) তাদেরকে ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে পাঠানো হয়। বিজ্ঞ বিচারক আসামীদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। রাষ্ট্র পক্ষে এপিপি অ্যাডভোকেট মোঃ শহীদ উদ্দিন এবং অ্যাডভোকেট সরোয়ার জাহান শুনানিতে অংশ নেন। সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্রের মূলহোতা মোঃ তুহিন শেখ এবং তার ২ সহযোগী বর্তমানে কাশীমপুর হাই সিকিউরিটি কেন্দ্রীয় কারাগারে আটক রয়েছে। শীঘ্রই আসামীদের পুলিশ রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্রের অপরাপর সদস্যদের সনাক্ত এবং স্বর্ণালঙ্কার উদ্ধারের জন্য তৎপরতা চালানো হবে বলে সূত্র জানিয়েছে।

জানা যায়, সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্রের মূলহোতা মোঃ তুহিন শেখ ওরফে তুহি আহমেদ চৌধুরী ওরফে সাহাল তুহি মুখের সুন্দর অবয়ব, শুদ্ধ ভাষা এবং কণ্ঠকে পুঁজি করে নানান কৌশলে বছরের পর বছর বিভিন্ন বয়সের মেয়েদের সাথে প্রতারণা চালিয়ে যাচ্ছিলো। তার প্রকৃত নাম মোঃ তুহিন শেখ। বাবা মোঃ দুলাল শেখ মালিবাগ চৌধুরীপাড়া আবুল হোটেলের সামনে চা দোকান করে। বাসা উত্তর গোড়ানের ২৯৯-১ সিপাইবাগে। গ্রামের বাড়ি বরিশালের উজিরপুর উপজেলার তারাশিরায়। সপ্তম শ্রেণী পর্যন্ত লেখাপড়া জানা এই ধুরন্দর নিজেকে খিলগাঁও মডেল ইউনিভার্সিটি কলেজের ছাত্র পরিচয় দিতো। তার ফেসবুক প্রোফাইলেও এই কলেজের ছাত্র পরিচয় দেওয়া আছে। নির্বিঘেœ প্রতারণা চালিয়ে যাওয়ার জন্য তুহিন শেখ ২ বছর আগে টিডিসি ওয়ার্ল্ড নামের একটি ডান্স কোম্পানি খোলে। এর পরই নাচ এবং মিউজিক ভিডিও’র নামে মেয়েদের সাথে প্রতারণার মাত্রা বাড়িয়ে দেয়।

সূত্র জানায়, গ্রেফতার হওয়া সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্রের সদস্যরা নিজেদের নাম গোপন রেখে Sahal Tuhi (লিংক: https://www.facebook.com/tuhiahhmed.chowdhury), Rm Rifat Tdc (লিংক: https://www.facebook.com/profile.php?id=100007415984413) এবং Tdc MD Babu (লিংক: https://www.facebook.com/md.nuton.94) ফেসবুক আইডি ব্যবহার করে প্রতারণা চালাতো। তুহিন শেখ ও তার সহযোগীরা নানান প্রলোভন ও প্রেমের ফাঁদে ফেলে বহু মেয়ের সর্বনাশ এবং তাদের কাছ থেকে স্বর্ণালঙ্কারসহ লাখ লাখ টাকা ও মূল্যবান জিনিসপত্র হাতিয়ে নেয়। ধর্ষণ এবং বহু অনৈতিক কাজের অভিযোগ রয়েছে ধুরন্দর প্রতারক মোঃ তুহিন শেখের বিরুদ্ধে

মামলার সংক্ষিপ্ত বিবরণে জানা যায়, মোঃ তুহিন শেখ ওরফে তুহি আহমেদ চৌধুরী ওরফে সাহাল তুহি ১১ মাস আগে ফেসবুকের মাধ্যমে প্রতারণার শিকার কিশোরীর সাথে সম্পর্ক গড়ে তোলে। দেড় মাস আগে স্বর্ণালঙ্কার ও টাকা আত্মসাত করার চেষ্টায় লিপ্ত হয়ে নানান প্রলোভনে নাবালিকার সাথে ঘনিষ্টতা বাড়ায়। কিশোরীর মা গত সেপ্টেম্বর মাসের ৬ থেকে ১৩ তারিখ পর্যন্ত বিয়ের ৩টি অনুষ্ঠানে ভারী স্বর্ণালঙ্কার পড়েন। ছবি তুলার পর ফেসবুকে পোস্ট করলে তুহি কিশোরীর সাথে যোগাযোগের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়। স্বর্ণালঙ্কার সম্পর্কে কিশোরীর সাথে ফেসবুক মেসেঞ্জার এবং মোবাইল ফোনে একাধিকবার কথা বলে। কিশোরী কোনো কিছু না বুঝে প্রলোভন এবং ফাঁদে পা দেয়। আসামীর ফাঁদে পড়ে ওই কিশোরী বিভিন্ন সময় ফেসবুক মেসেঞ্জারে ভিডিও কলেও স্বর্ণালঙ্কার দেখায়। আসামী তার ০১৬৮৩-৯৩১৮৯১ মোবাইল ফোন থেকে প্রায়ই কিশোরীর বাসার মোবাইল ফোনে কথা বলতো।

সূত্র জানায়, আসামী তুহি পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রথম দিন ২১-০৯-২০১৯ তারিখ দুপুর ১ টায় পূর্ব শেওড়াপাড়ার শেফ রেস্টুরেন্টের সামনে কিশোরীর কাছ থেকে ৩ ভরি ৮ আনা ওজনের স্বর্ণের ১টি নেকলেস নেয়। দ্বিতীয় দিন ২৭-০৯-২০১৯ তারিখ বিকাল ৪ টায় একই স্থান থেকে ৪ ভরি ওজনের স্বর্ণের আরও ২টি নেকলেস নিয়ে যায় এ সময় প্রথম দিন নেওয়া বড় নেকলেসের ডিজাইনের মতো করে এমিটেশন দিয়ে বানানো ১টি নকল নেকলেস কিশোরীকে দিয়ে বলে এটি তার মার আলমারীতে গহনার বক্সে রাখতে। বক্সে গহনা নেই বিষয়টি যেন কিশোরীর মা না বুঝেন। আলমারী এলোমেলো এবং বক্স থেকে স্বর্ণের ৩টি নেকলেস না পেয়ে কিশোরীর মা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। পরে ফেসবুক মেসেঞ্জার এবং মোবাইল কলের সূত্র ধরে আসামী তুহি এবং তার সহযোগীদের সনাক্ত করা হয়। এক পর্যায়ে কিশোরী পুরো ঘটনার বর্ণনা দেয়। প্রতারণার সাথে অপর ২ আসামী সরাসরি জড়িত।

মন্তব্য করুন

খবর অনুসন্ধান

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০
১১১২১৩১৪১৫১৬১৭
১৮১৯২০২১২২২৩২৪
২৫২৬২৭২৮২৯৩০  

সর্বশেষ নিউজ

আরো পড়ুন

Shares