২১, অক্টোবর, ২০১৯, সোমবার

অঞ্জলির সাজে অপ্সরা

সুরাইয়া নাজনীন: | আপডেট: ২১, অক্টোবর, ২০১৯, সোমবার

অঞ্জলির সাজে অপ্সরা - ছবি: রঙ বাংলাদেশ।

অঞ্জলির সাজে অপ্সরা - ছবি: রঙ বাংলাদেশ।

উৎসবের হাওয়ায় মাতোয়ারা চারদিক। সাজ সাজ রব ছড়িয়ে আছে আকাশে-বাতাসে। কিশোর-কিশোরীর যেন তর সইছে না উৎসবের অপেক্ষায়। কবে আসবে সেই কাক্সিক্ষত দিন! শারদীয় দুর্গাপূজায় এবার সবার মাঝে দেখা যাচ্ছে সাজ নিয়ে একটা বিশেষ ভাবনা। লিখেছেন- সুরাইয়া নাজনীন।

দুর্গা যেমন রূপমাধুরী দিয়ে আলোকিত করে চারপাশ তেমনি নারীরাও দুর্গার মতো নানা সাজে নিজেকে সাজাতে চান পূজার সেই দিনগুলোতে। সাজ নিয়েও তারা পরিকল্পনা করেন বেশ আগে থেকে। নতুনত্ব আর বৈচিত্র্যতায় নিজেকে রাঙিয়ে তুলতে তারা সাহায্যে নেন বিভিন্ন বিউটিশিয়ানের। পূজার সাজে ফুলের গুরুত্ব অনেক বেশি। দিন হোক বা রাত, চুল সাজাতে পারেন ফুলের স্নিগ্ধতায়। সকালে চুলের খোঁপায় জড়িয়ে নিতে পারেন শিউলি ফুল বা কাঠবেলির মালা। এলো চুলের এক পাশে গুঁজে দেয়া যায় নীল অপরাজিতা, এতে আপনাকে করে তুলবে অন্যদের চেয়ে আলাদা। লাল রঙের ছোঁয়া ছাড়া পূজার আমেজ যেন পূর্ণতা পায় না। পূজার সাজ-পোশাকে লাল রঙের উপস্থিতি যেন নিয়ে আসে উৎসবের পরিবেশ। বড় লাল টিপ আর পরিণীতা হলে সিঁথিতে সিঁদুরের রঙিন ছোঁয়া নারীর সৌন্দর্য বাড়িয়ে দেয় বহুগুণ। পায়ে আলতার প্রলেপ আর হাতভর্তি মেহেদির রঙিন নকশা-উৎসবে যোগ করে বাড়তি আনন্দ। পূজার সাজ নিয়ে রূপবিশেষজ্ঞ কানিজ আলমাস খান পরামর্শ দিয়েছেন,
দুর্গাপূজার শুরু থেকেই পূজার সাজ শুরু হয়ে যায়। শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত অর্থাৎ বিসর্জন পর্যন্ত উৎসব চলে; চলে দেবী অর্চনা, শঙ্খ নিনাদ, ঢাকের বাজনা আর উলুধ্বনি। উৎসবের শুরুর দিকে অর্থাৎ পঞ্চমী, ষষ্ঠী বা অষ্টমীতে মেকাপ কিছুটা হালকা হতে পারে। যেহেতু দশমীর দিনে নজরকাড়া লুক আনার লক্ষ্য সবার থাকে; তাই দশমীর আগের দিনগুলোতে হালকা বেজ, লাইট কালারড লিপস্টিক-বøাশঅন-আইশ্যাডো দেয়া যেতে পারে। অর্থাৎ দশমী পর্যন্ত আপনি ধীরে ধীরে রঙিন হয়ে উঠতে পারেন।

পঞ্চমীর দিনে আপনি শাড়ি, সালোয়ার-কামিজ যা ইচ্ছে তাই পরতে পারেন। ত্বকের রঙের সঙ্গে মিলিয়ে মুখে, গলায় ও ঘাড়ে ফাউন্ডেশন লাগিয়ে নিন। এর উপরে আলতো করে পাউডার এবং সামান্য বেজ কম্প্যাক্ট বুলিয়ে নিন।

অষ্টমীর দিনে আপনি চাইলে পঞ্চমীর তুলনায় একটু ভারী সাজ নিতে পারেন। প্রথমে মুখ ক্লিন করে টোনিং করে নিন। আশ্বিনের এই সময়েও গরম খানিকটা থেকেই যাবে। তাই ওয়াটার বেজড্ ফাউন্ডেশন ভালোভাবে বেøন্ড করে মুখে, গলায় ও ঘাড়ে লাগিয়ে নিন। ড্রেসের কালারের সঙ্গে মিলিয়ে বা কন্ট্রাস্ট করে চোখে শ্যাডো লাগাতে পারেন। চোখের মেকাপ যদি খুব গাঢ় করে থাকেন, সেক্ষেত্রে ন্যাচারাল কালারের লিপস্টিকই মানানসই হবে অথবা ড্রেসের কালারের সঙ্গে মিলিয়ে হালকা যে কোন রং বেছে নেয়া যেতে পারে। শাড়ি পরলে মানানসই টিপ লাগিয়ে নিতে পারেন।

দশমীর সাজ নেয়ার আগে ত্বকের ধরন অনুযায়ী ক্লিনজার দিয়ে ত্বক ক্লিন করুন। আধা চা চামচ থেকে এক চা চামচ পরিমাণের ক্লিনজার হাতের তালুতে ঢেলে নিয়ে ধীরে ধীরে মুখে ও গলায় প্রলেপ দিয়ে নিন। এরপর পাঁচ মিনিট ম্যাসাজ করে ভেজা তুলা দিয়ে মুছে ক্লিনজার তুলে নিন। এরপর মধু, ডিম ও টমেটোর রসের মিশ্রণ ত্বকে ব্যবহার করে দশ মিনিট রেখে দিন। এরপর ত্বকের ধরন অনুযায়ী টোনার বেছে নিতে হবে। দশমীর দিনে সবাই শাড়িই বেশি পরেন। আঙ্গুল অথবা স্পঞ্জ দিয়ে ফাউন্ডেশন লাগিয়ে নিন। এরপর পাউডার লাগানোর জন্য বড় প্রশস্ত ও গোল ব্রাশ নিন।

পানি স্প্রে করে ফেসিয়াল টিস্যু দিয়ে চেপে অতিরিক্ত পানি তুলে ফেলে স্পঞ্জ দিয়ে চেপে ফাউন্ডেশন বসিয়ে দিন। এরপর আই-ব্রো আঁকার জন্য আই-ব্রোর রঙের সঙ্গে যায় এমন কালার নিন। এই ব্রাশটির সামনের অংশ ত্রিভুজ আকারের থাকবে। এখন আপনি আই-শ্যাডো লাগাবেন। কাপড়ের রঙের সঙ্গে মিলিয়ে দুই/তিনটি শেড বেছে নিন। চোখের ল্যাশের যত কাছে থেকে আই লাইনার বা কাজল দেয়া যায় তত ভালো। ল্যাশ লাইনারের বাইরে অথবা চোখের নিচের পাতা ও উপরের পাতার কাজল মিলিয়ে দিবেন না। প্রথমে চিকন করে লাইন এঁকে পরে ধীরে ধীরে মোটা করুন। মাশকারা নেয়ার আগে আইল্যাশ কার্লার দিয়ে কার্ল করে নিতে পারেন অথবা কার্লিং মাশকারাও ব্যবহার করতে পারেন। লোয়ার ল্যাশে মাশকারা লাগানোর আগে টিস্যু দিয়ে চেপে অতিরিক্ত টুকু কমিয়ে নিন। এবার আপনি বøাশ লাগাবেন। ঠোঁট এঁকে গাঢ় লাল রঙের লিপস্টিক দিতে পারেন। মেকআপে আবারো ফিরে এসেছে কিলার রেড লিপস্ আর কপালে বড় লাল টিপ পরে নিয়ে পরিণীতা হলে সিঁথিতে দিন সিঁদুর। শাড়ি ও জুয়েলারি পরে নিন। বাইরে বের হওয়ার আগে ভালো মানের আনকমন সুইট ফ্রেগর‌্যান্ট কোনো পারফিউম ব্যবহার করে নিন। পূজার প্রাণই হলো দশমী। এ দিনে সবাই সিঁদুর খেলায় মেতে রঙিন করে রাখে উৎসবের সুনীল মুহূর্ত।

আরো পড়ুন

%d bloggers like this: