শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২০, ৯:০৪ পিএম

সাবেক শিক্ষককে কান ধরে উঠবস, পা ধরে মাফ চাওয়ালেন শিক্ষার্থীরা!

নিজস্ব প্রতিবেদক :
প্রকাশিত: ১০:৪১ পূর্বাহ্ন, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২০, মঙ্গলবার


সাবেক শিক্ষককে কান ধরে উঠবস, পা ধরে মাফ চাওয়ালেন শিক্ষার্থীরা!

ছবি : সংগৃহীত

বরিশাল নগরীর জমজম ইনস্টিটিউট রূপাতলী শাখার সাবেক এক শিক্ষককে কান ধরে ওঠ-বস ও পা ধরে মাফ চাওয়ানোর ঘটনা ঘটেছে। ওই প্র‌তিষ্ঠা‌নের সা‌বেক শিক্ষার্থীরা এ ঘটনা ঘ‌টি‌য়ে‌ছে। ওই প্র‌তিষ্ঠা‌নের সা‌বেক শিক্ষার্থীরা এ ঘটনা ঘ‌টি‌য়ে‌ছে।

এরই মধ্যে কান ধরে ওঠ-বস করানোর ভিডিও ফেসবুকে ভাইরাল হয়েছে। বহু মানুষ ভিডিওটি শেয়ার করেছেন। তবে কে বা কারা সেটি আপলোড করেছেন সেটি এখন পর্যন্ত জানা যায়নি।

ঘটনার শিকার শিক্ষক মিজানুর রহমান নগরীর জমজম নার্সিং ইনস্টিটিউটে খন্ডকালীন শিক্ষকতা করতেন। তার বাড়ি পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার কনকদিয়া ইউপির আয়লা গ্রামে। তিনি ওই ভিডিওর জন্য প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষার্থী ইমন ও তার স্ত্রী মনিরা বেগমকে দায়ী করেছেন।

ওই ভিডিওতে দেখা যায়, শিক্ষক মিজানুর রহমান কান ধরে উঠবস করছেন এবং বোরকা পরিহিত এক নারীর পা ধরে ক্ষমা চাইছেন। অন্য কাউকে ছবিতে দেখা না গেলেও তাদের কন্ঠস্বর শোনা গেছে। ভিডিওতে কোনো ছাত্রীকে বেশি নম্বর পাইয়ে দেয়ার প্রলোভনে অনৈতিক প্রস্তাব দেব না বলে শপথ করেন সাবেক ওই শিক্ষক।

মিজানুর রহমান সজল জানান, ২০১৫ সাল থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত তিনি জমজম ইনস্টিটিউটের নগরীর রূপাতলী শাখায় ম্যাটস বিভাগে শিক্ষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। ২০১৮ সালে তিনি ওই প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরি ছেড়ে দিলেও করোনাকালে গত মার্চে খন্ডকালীন শিক্ষক হিসেবে অনলাইনে ক্লাস করিয়েছিলেন তিনি।

মিজানুর রহমান সজল আরো জানান, ওই প্রতিষ্ঠানে শিক্ষকতা করার সময় মো. ইমন ও তার স্ত্রী মনিরাসহ কয়েকজন শিক্ষার্থীর সঙ্গে তার বিরোধ দেখা দেয়। তারা ক্লাস ফাঁকি দিত। পাশাপাশি লেখাপড়ায়ও অমনোযোগী ছিল। কিন্তু তারা পরীক্ষায় ভালো নম্বর পাইয়ে দিতে নানা সময় বহিরাগত কিছু বন্ধুদের দিয়ে চাপ দিয়ে আসছিলো। এসব নিয়ে ইমন তার ওপর ক্ষিপ্ত ছিল।

শিক্ষক সজলের অভিযোগ, গত ২৫ বা ২৬ আগস্ট হাতেম আলী কলেজ সংলগ্ন এলাকায় ইমন ও তার ৬/৭ জন বন্ধু মিলে মিজানুর রহমানের পথরোধ করে মুঠোফোন ও মোটরসাইকেলের চাবি নিয়ে যায়। তাকে জোরপূর্বক প্রথমে নগরীর অক্সফোর্ড মিশন রোডে ও পরে গোরস্থান রোডে একটি বাসায় নিয়ে মারধর করে।

শিক্ষক মিজানুর রহমান সজল বলেন, মারধরের একপর্যায়ে ইমন তাকে কান ধরে উঠবস করায়। এরপর ইমন তাকে কিছু কথা বলতে বাধ্য করেন। সেগুলো একজন মুঠোফোনে ধারন করেন। তিনি জানান, তারা যেভাবে যা বলতে বলেছে, তিনি তাদের হাত থেকে বাঁচতে তাই বলেছেন।

অভিযোগ প্রসঙ্গে ইমতিয়াজ ইমন বলেন, ওই শিক্ষক বিভিন্ন সময়ে মেয়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে অশালীন আচরণ করেন। প্রতিবাদ করায় তিনি আমার ওপর ক্ষিপ্ত ছিলেন। তার কারণে আমার স্ত্রী এখনো পাস করতে পারেনি। তাকে ধরে নিয়ে এ ধরনের কাজ করবেন না এমন মুচলেকা নিতে চেয়েছিলাম। কিন্তু তিনি কান ধরে বলেছেন এমন কাজ আর করবেন না।

প্রতিষ্ঠানের কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ না করে কেন নিজেরা ব্যবস্থা নিলেন এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, তিনি তো ওখানে চাকরি করেন না। ইমনের দাবি, ফেসবুকে ওই ভিডিও তিনি প্রকাশ করেননি।

এ ব্যাপারে জমজম ইনস্টিটিউটের নির্বাহী পরিচালক সাজ্জাদুল হক জানান, মিজানুর রহমান সজল দুই বছর আগে চাকরি ছেড়ে চলে গেছেন। তবে করোনাকালে গত মার্চে খন্ডকালীন শিক্ষক হিসেবে অনলাইনে ক্লাস নিয়েছেন তিনি। কিন্তু তার বিরুদ্ধে এ পর্যন্ত কোনো শিক্ষার্থী লিখিত বা মৌখিক কোনো অভিযোগ করেননি। তার সময়ের শিক্ষার্থীরাও পাশ করে চলে গেছেন। যেহেতু মিজানুর রহমানও শিক্ষক হিসেবে নেই তাই ভিডিও চিত্রের বিষয়ে জমজম ইনষ্টিউটিট কর্তৃপক্ষের কিছু করণীয় নেই বলেও জানান তিনি।

মন্তব্য করুন

সর্বশেষ নিউজ

আরো পড়ুন