শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২০, ৫:১২ পিএম

তাহিরপুরে শিক্ষক ও পরিচালকের নির্মম নির্যাতনের শিকার ৭ বছরের শিশু শিক্ষার্থী বাঁধন

অনিমেশ দাস, সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: ৬:০৪ অপরাহ্ন, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২০, শনিবার


তাহিরপুরে শিক্ষক ও পরিচালকের নির্মম নির্যাতনের শিকার ৭ বছরের শিশু শিক্ষার্থী বাঁধন

ছবি : সংগৃহীত

সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার সুলেমানপুর হাফিজিয়া মাদ্রাসার এক ৭ বছরের শিশু শিক্ষার্থীকে বেধড়ক মারপিট করে বেহুশ করার অভিযোগ উঠেছে শিক্ষক ও ওই প্রতিষ্ঠানের পরিচালকের বিরুদ্ধে।

১১ সেপ্টেম্বর শুক্রবার দিবাগত-রাত ১০ টার দিকে উপজেলার সুলেমানপুর গ্রামের সুলেমানপুর হাফিজিয়া মাদ্রাসায়।

আহত শিক্ষার্থী বাঁধন (৭)’কে চিকিৎসার জন্য তাহিরপুর সরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। সে উপজেলার সুলেমানপুর গ্রামের বজলুর রশিদের ছেলে।

শিক্ষার্থী বাঁধন জানায়, সে সুলেমানপুর হাফিজিয়া মাদ্রাসায় হিফয বিভাগে পড়ালেখা করে। শুক্রবার দিবাগত-রাত ১০ টার দিকে শিক্ষার্থী বাঁধন শিক্ষককের কাছে প্রস্রাব করার অনুমতি চাইলে তিনি নিষেধ করেন, শিক্ষকের নিষেধ অমান্য করে প্রস্রাব করতে গেলে ওই প্রতিষ্ঠানের পরিচালক বশির মিয়া ও শিক্ষক জুবায়ের আহমদের নির্দেশে তাকে অন্য ছাত্ররা ধরে নিয়ে যায় ওই প্রতিষ্ঠানে ।

নিষেধ মানল না কেন এ অজুহাত দিয়ে তিনারা গালাগাল শুরু করেন। এ সময় কোনোকিছু বুঝে ওঠার আগেই বেত দিয়ে তাকে বেদম পেটাতে শুরু করেন হাফেজ জুবায়ের আহমদ ও এলোপাতাড়ি কিল-ঘুষি- লাত্থি মারেন ওই প্রতিষ্ঠানের পরিচালক বশির মিয়া।

একপর্যায়ে সে হুজুর ও পরিচালকের পা ধরে আকুতিমিনতি করেও মার থেকে রেহাই পায়নি শিশু শিক্ষার্থী বাঁধন। শিক্ষক ও পরিচালকের নির্মম নির্যাতনে অবশেষে অজ্ঞান হয়ে যায় শিক্ষার্থী বাঁধন।

পরে বাঁধনের স্বজনরা খবর পেয়ে ওই প্রতিষ্ঠানে ছুটে গিয়ে দেখেন শিক্ষার্থী বাঁধন বেহুশ হয়ে পড়ে আছে ওই প্রতিষ্ঠানের মেজেতে। এমতাবস্থায় বেহুশ শিক্ষার্থী বাঁধনকে সাড়ে ১০ টার দিকে উদ্ধার করে নৌকাযোগে তাহিরপুর নিয়ে সাড়ে ১১ টার দিকে তাকে তাহিরপুর সরকারি হাসপাতালে ভর্তি করেন স্বজনরা।

এবিষয়ে শিক্ষক জুবায়ের ও পরিচালক বশিরের মুঠোফোনে কল করা হলে রিসিভ না করায় তাদের বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি ।

কর্তব্যরত চিকিৎসক শাহানুর হোসেন জুমন জানান, শিশু বাঁধনকে অচেতন অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়, এবং শিশুটির সারা শরীরে নির্যাতনের আঘাত, বিশেষ করে শিশুটির পিটে অসংখ্য বেত্রাগাত রয়েছে ও তার একটি হাত ভেঙে গেছে বলে ধারণা করছেন ওই চিকিৎসক। এমন নির্মম নির্যাতনের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন তিনি।

বিষয়টি নিশ্চিত করে তাহিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত ওসি শফিকুল ইসলাম জানান, শুক্রবার রাতে এবিষয়ে উনাকে অবগত করা হয়েছে তবে কোন লিখিত অভিযোগ পাননি বলে জানান তিনি।

মন্তব্য করুন

সর্বশেষ নিউজ

আরো পড়ুন