মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২০, ৩:২৪ এএম

মাছের দাম কমেছে, সবজির বাজার চড়া

প্রতিদিনের কাগজ ডেস্ক:
প্রকাশিত: ২:২৫ অপরাহ্ন, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২০, শুক্রবার


মাছের দাম কমেছে, সবজির বাজার চড়া

ছবি : সংগৃহীত

সপ্তাহের ব্যবধানে দাম কমেছে মাছের বাজারে। কেজিতে ১০ থেকে ৫০ টাকা পর্যন্ত কমে বিক্রি হচ্ছে বিভিন্ন জাতের মাছ। অন্যদিকে, বাজারে ৫০ টাকার নিচে পাওয়া যাচ্ছে না কোন ধরনের শাক-সবজি।

পাশাপাশি দাম কমেছে মুরগি এবং ডিমের বাজারেও। পাঁচ থেকে ১০ টাকা কমে বিক্রি হচ্ছে। তবে অপরিবর্তিত রয়েছে গরু ও খাসির মাংসের দর।

শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর রামপুরা, মগবাজার, মালিবাগ, মালিবাগ রেলগেট বাজার, শান্তিনগর, ফকিরাপুল, মতিঝিল টিঅ্যান্ডটি কলোনি বাজার ও খিলগাঁও কাঁচাবাজার ঘুরে এ চিত্র পাওয়া যায়।

কেজিতে ১০ থেকে ৫০ টাকা পর্যন্ত কমে কাচকি মাছ বিক্রি হচ্ছে ২৫০ থেকে ২৮০ টাকা করে। মলা ২৮০ থেকে ৩০০ টাকা, দেশি টেংরা ৩৫০ থেকে ৪৫০ টাকা, নদীর টেংরা (বড়) ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকা, শিং (আকারভেদে) ২৫০ থেকে ৩৮০ টাকা, দেশি শিং ৬০০ থেকে ৭৫০ টাকা, দেশি চিংড়ি (ছোট) ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা, কৈ মাছ ১৫০ থেকে ১৬০ টাকা, মৃগেল ১৬০ থেকে ২৮০ টাকা, পাঙাস ১০০ থেকে ১৫০ টাকা, কাতল (আকারভেদে) ১৭০ থেকে ২৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে।

তবে অপরিবর্তিত আছে পাবদা, রুই ও তেলাপিয়া মাছের দর। প্রতিকেজি পাবদা মাছ ২৮০ থেকে ৩৫০ টাকা, রুই (আকারভেদে) ১৮০ থেকে ৩০০ টাকা, তেলাপিয়া ১১০ থেকে ১৫০ টাকা করে বিক্রি হচ্ছে।

দাম কমেছে ইলিশেরও। কেজিতে ৫০ টাকা পর্যন্ত কমে এসব বাজারে এক কেজি ওজনের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ৯০০ থেকে ৯৫০ টাকায়। সোয়া কেজি থেকে দেড় কেজি ওজনের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে এক হাজার থেকে এক হাজার ৫০ টাকা কেজি। ৭৫০ গ্রাম ওজনের ইলিশ ৬০০ টাকা, ৫০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ৫০০ থেকে ৫৫০ টাকা করে। এছাড়া ছোট ইলিশ আকারভেদে ৩০০ থেকে ৩৮০ টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে।

ডজনে পাঁচ টাকা কমে এসব বাজারে লাল ডিম বিক্রি হচ্ছে ১১০ টাকা করে। ১০ টাকা কমে সোনালি মুরগির ডিম বিক্রি হচ্ছে ১৪০ টাকা ডজন। হাঁসের ডিম বিক্রি হচ্ছে ১৩০ টাকায়। তবে আগের দামে বিক্রি হচ্ছে দেশি মুরগির ডিম; ১৬০ থেকে ১৭০ টাকা ডজন।

কেজিতে পাঁচ টাকা কমে বয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ১২৫ থেকে ১৩০ টাকা করে। ১০ থেকে ২০ টাকা কমে লেয়ার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ২২০ থেকে ২৩০ টাকা কেজি। তবে আগের দামেই বিক্রি হচ্ছে সোনালি ও দেশি মুরগি; ২৫০ থেকে ২৭০ টাকা কেজি। এছাড়া দেশি মুরগি ৫৫০ টাকা কেজি বিক্রি করতে দেখা গেছে। আর ছোট রোস্টের মুরগি প্রতি হালি বিক্রি হচ্ছে ৫০০ থেকে ৫৫০ টাকায়।

অপরিবর্তিত আছে গরু ও খাসির মাংসের দর। এসব বাজারে গরুর মাংস বিক্রি হচ্ছে ৫০০ থেকে ৫৫০ টাকা কেজি। খাসির মাংস বিক্রি হচ্ছে ৭৫০ টাকা করে। আর বকরির মাংস বিক্রি হচ্ছে ৭০০ টাকা করে।

রাজধানীর খিলগাঁও বাজারের মাছ বিক্রেতা মোঃ মারুফ বলেন, এখন ইলিশ মাছের দাম কমায় সব মাছের দাম কমেছে। এখন পর্যাপ্ত ইলিশ আছে। দামও কম। তবে ইলিশের সরবরাহ কমলে অন্যান্য মাছের দামও বেড়ে যাবে।

এদিকে, রাজধানীর বিভিন্ন খুচরা বাজারে দাম বেড়ে প্রতি কেজি কিং (দেশি) পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৭০ থেকে ৭৫ টাকাতে। এক সপ্তাহ আগে এ পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে ৪০ থেকে ৪৫ টাকা কেজি। দেশি পেঁয়াজ (ছোট সাইজ) বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৬৫ টাকা কেজি। এটি এক সপ্তাহ আগে বিক্রি হয়েছে ৪০ টাকা করে। আর আমদানি করা পেঁয়াজ (ইন্ডিয়া) বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৫৫ টাকা করে। যা এক সপ্তাহ আগে ছিল ৩০ থেকে ৩৫ টাকা।

কাঁচা মরিচের দাম নাগালের বাইরে থাকলেও সপ্তাহের ব্যবধানে কিছুটা কমেছে। এক সপ্তাহ আগে ২০০ থেকে ২২০ টাকা কেজি কাঁচা মরিচ বিক্রি হলেও এখন তা কমে ১৭০ থেকে ১৮০ টাকা করে বিক্রি হচ্ছে। এদিকে শীতের সবজির মধ্যে অন্যতম বাঁধাকপি, ফুলকপি ও শিম। পুরো শীত মৌসুমে দেশের সর্বত্র এসব সবজি পাওয়া যায়। তবে সময়ের বিবর্তনে বদলেছে অনেক কিছু। ভ্যাপসা গরমের মধ্যেই এখন রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে মিলছে এসব সবজি। তবে দাম বেশ চড়া।

শীতের মৌসুমে যে শিমের কেজি ২০ টাকায় বিক্রি হয়, তা এখন ২০০ টাকার নিচে পাওয়া যাচ্ছে না। ছোট আকারের ফুলকপি, বাঁধাকপির পিস বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকা। এমন আকাশচুম্বী দামের পরও একশ্রেণির ক্রেতা নতুন এই সবজি কিনতে বাজারে ছুটছেন।

মন্তব্য করুন

সর্বশেষ নিউজ

আরো পড়ুন