শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২০, ৫:৫১ এএম

জিনিয়া উদ্ধারে নেপথ্যের নায়ক ঢাবির ছাত্র

স্টাফ রিপোর্টার:
প্রকাশিত: ৯:১৬ পূর্বাহ্ন, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২০, শুক্রবার


জিনিয়া উদ্ধারে নেপথ্যের নায়ক ঢাবির ছাত্র

ছবি : সংগৃহীত

টিএসসি এলাকায় ফুল বিক্রি করা পথশিশু জিনিয়াকে নারায়ণগঞ্জ থেকে উদ্ধার অভিযানে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশকে সহায়াতা করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র আরাফাত চৌধুরী । তার কারণেই এ উদ্ধার প্রক্রিয়া সম্ভবপর হয়ে ওঠে।

১ সেপ্টেম্বর রাত থেকে নিখোঁজ হয় জিনিয়া। জিনিয়ার মা সেনুরা বেগম মেয়েকে নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকাতেই থাকেন। মেয়েকে খুঁজে না পেয়ে তিনি শাহবাগ থানায় একটি জিডি করেন। এরপর সোমবার রাতে তাকে নারায়ণগঞ্জ থেকে উদ্ধার করা হয়। আর এ উদ্ধার প্রক্রিয়ার শুরু থেকে যুক্ত ছিলেন ঢাবি ছাত্র আরাফাত।

গত ১ তারিখে জিনিয়াকে অপহরণ করে নিয়ে যাওয়ার পর পুলিশ যখন কেসটি নিয়ে আগানোর জন্য ক্লু পাচ্ছিল না তখন এই ছেলেটি সারাদিন টিএসসি ও এর আশেপাশের এলাকা ঘুরে ঘটনার প্রতক্ষ্যদর্শী সবাইকে খুঁজে বের করে। তাদের সকলের কাছ থেকে ঐ ২ মহিলার শারীরিক গড়নর,তাদের কাপড়-চোপড়ের রং,তাদের চলার পথসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ক্লু খুঁজে বের করে পুলিশকে জানিয়ে সহযোগিতা করে। সে শুধুমাত্র গুরুত্বপূর্ণ ইনফরমেশন দিয়ে ক্ষান্ত হয়নি, গত ২ দিন সাথে করাসহ অপহরণকারীদের ছবি ও অবস্থান শনাক্ত করায় পুলিশকে সহযোগিতা করে।

ডিবির যুগ্ম কমিশনার মো. মাহবুব আলম জানান, জিনিয়া টিএসসি এলাকায় ফুল বিক্রি করত এবং তার মা সেনুয়া বেগমের সঙ্গে টিএসসি এলাকাতেই থাকত। জিনিয়ার মা গত ২ সেপ্টেম্বর মেয়ের নিখোঁজ হওয়ার বিষয়ে শাহবাগ থানায় একটি জিডি করেন। জিডির তদন্ত, সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষ্যমতে জানা যায়, দুজন নারী ফুচকা খাওয়ায় জিনিয়াকে। তাকে নিয়ে টিএসসি এলাকায় ঘোরাফেরা করে। একপর্যায়ে কৌশলে বাসায় নিয়ে যায়। এ ঘটনায় সোমবার শাহবাগ থানায় অপহরণ মামলা হয়।

এ বিষয়ে আরাফাত চৌধুরী বলেন, জিনিয়াকে অপহরণ করা হয় ১ সেপ্টেম্বর রাতে। কিন্তু ৫ তারিখ পর্যন্ত তাকে উদ্ধারের কোনো তৎপরতা দেখতে পাইনি। তখন আমি উদ্যোগী হয়ে মতিঝিল জোনের পরিচিত এক পুলিশ কর্মকর্তাকে বিষয়টি জানাই। তিনি আমার সঙ্গে রমনা জোনের পুলিশের এক কর্মকর্তার যোগাযোগ করিয়ে দেন। তারা আমাকে জিনিয়া উদ্ধারে পুলিশকে সহযোগিতা করতে বলেন।

তিনি বলেন, ‘এরপর ৫ সেপ্টেম্বর আমি জিনিয়াকে যে জায়গা থেকে অপহরণ করা হয় সেখানে গিয়ে সবার কাছ থেকে বিষয়টি জানতে চাই। এর মধ্যে জিনিয়ার মাসহ তিনজন আমাকে দুই নারীর শারীরিক গড়ন, পোশাক বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য দেন। আমি সিসিটিভি কোথায় কোথায় স্থাপন করা হয়েছে তা-ও খুঁজে বের করি।’

আরাফাত আরও বলেন, ‘আমি ৫ তারিখেই শাহবাগ থানায় গিয়ে পুলিশ কর্মকর্তাদের সব তথ্য দিই। ৬ সেপ্টেম্বর তাদের সঙ্গে সিসিটিভি ফুটেজগুলো দেখি। এরপর পুলিশের একজন সোর্স শারীরিক গড়নের বিবরণ শুনে এক নারীকে সন্দেহভাজন হিসেবে চিহ্নিত করে। সাত তারিখ গোয়েন্দা পুলিশের মাধ্যমে অভিযান চালিয়ে জিনিয়াকে নারায়ণগঞ্জ থেকে উদ্ধার করা হয়। জিনিয়াকে ফিরিয়ে আনতে আমার উদ্যোগ কাজে লেগেছে এ জন্য আমি খুশি।’

মন্তব্য করুন

সর্বশেষ নিউজ

আরো পড়ুন