শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২০, ৬:১৩ পিএম

আদালতের আশ্রয়ে কানাডা থেকে দেশে ফিরতে চান পি কে হালদার

নিজস্ব প্রতিবেদক :
প্রকাশিত: ৯:১৫ পূর্বাহ্ন, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২০, মঙ্গলবার


আদালতের আশ্রয়ে কানাডা থেকে দেশে ফিরতে চান পি কে হালদার

পুরনো ছবি

প্রায় সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকা পাঁচারের অভিযোগ নিয়ে কানাডায় অবস্থান করা নন-ব্যাংকিং আর্থিক প্রতিষ্ঠান ইন্টারন্যাশনাল লিজিংয়ের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) প্রশান্ত কুমার হালদার (পিকে হালদার) দেশে ফিরতে চান। একইসঙ্গে দেশে ফিরে তিনি জীবনের নিরাপত্তার জন্য থাকতে চান আদালতের হেফাজতে (কোর্ট কাস্টডিতে)।

গতকাল সোমবার বিচারপতি মুহাম্মদ খুরশীদ আলম সরকারের একক হাইকোর্ট বেঞ্চে এমন আবেদন দাখিল করা হয়েছে। ওই আবেদনে বলা হয়েছে, দেশে ফিরে পিকে হালদার ও তার স্বার্থ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বিনিয়োগকারীদের যে টাকা নিয়ে গেছেন তা উদ্ধার করে তিনি ফেরত দিতে চান। এজন্য দুদক বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর গ্রেপ্তার এড়াতে থাকতে চান আদালতের কাস্টডিতে।

শুনানির এক পর্যায়ে ইন্টারন্যাশনাল লিজিংয়ের কৌঁসুলির উদ্দেশ্যে হাইকোর্ট বলেন, ‘পিকে হালদার কবে কখন কোন ফ্লাইটে দেশে ফিরতে চান সেটা আদালতকে অবহিত করুন। আমরা চাই বিনিয়োগকারী যেন তাদের অর্থ ফেরত পায়।’ তবে ওই আবেদনের ওপর প্রয়োজনীয় আদেশ দেওয়ার আগে অ্যাটর্নি জেনারেল অফিস ও দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) বক্তব্য গ্রহণ করা হবে বলেও জানিয়েছে আদালত।

এ সময় আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মুরাদ রেজা, দুদকের পক্ষে খুরশীদ আলম খান ও ইন্টারন্যাশনাল লিজিংয়ের পক্ষে মাহফুজুর রহমান মিলন শুনানি করেন।

এর আগে হাইকোর্ট গত ১৯ জানুয়ারি এক আদেশে প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান, এমডি, বহুল আলোচিত পিকে হালদারসহ ১৩ পরিচালকের ব্যাংক হিসাব ও পাসপোর্ট জব্দ, সব সম্পদ ক্রোক করার নির্দেশ দেন। একইসঙ্গে পিকে হালদারের মা, স্ত্রী, ভাইসহ ২০ জনের ব্যাংক হিসাব ও পাসপোর্ট জব্দ, সব সম্পদ ক্রোক করার নির্দেশ দেন। এছাড়া পিকে হালদারসহ এই ২০ জনের দেশত্যাগের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয় এবং তাদের গত ৫ বছরের আয়কর রিটার্ন হাইকোর্টে দাখিল করতে নির্দেশ দেওয়া হয়। ওই প্রতিষ্ঠানের ৭ আমানতকারীর করা এক আবেদনে এ আদেশ দেন হাইকোর্টের কোম্পানি আদালত। এই আদেশ স্থগিত চেয়ে আইএলএফএসএল-এর দুইজন পরিচালক আপিল বিভাগে আবেদন করলেও আপিল বিভাগ হাইকোর্টের আদেশ বহাল রাখেন।

এ অবস্থায় পিকে হালদার দেশ থেকে পালিয়ে যান। তিনি বর্তমানে কানাডায় অবস্থান করছেন। সেখান থেকে তিনি দেশে ফিরতে চান। এবিষয়ে আইএলএফএসএল-এর পক্ষ থেকে হাইকোর্টে দাখিল করা আবেদনে বলা হয়, পিকে হালদার কানাডা থেকে আইএলএফএসএল-এর সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। আইএলএফএসএল-কে একটি চিঠি দিয়েছেন। তাতে বলা হয়, আইএলএফএসএল-এর খেলাপি ঋণ আদায়ে সহযোগিতা করতে তিনি দেশে ফিরতে চান। তবে দেশে ফিরলে তাকে পুলিশি হেফাজতে না নিয়ে আদালতের হেফাজতে নেওয়া হয়-এমন নিরাপত্তা চান তিনি। তিনি জীবনের নিরাপত্তা চান। ওই চিঠিও আদালতে উপস্থাপন করেন আইএলএফএসএল-এর আইনজীবী।

বহুল আলোচিত এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংক ও রিলায়েন্স ফিন্যান্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক থাকা অবস্থায় আত্মীয়-স্বজনকে দিয়ে ৩৯টি প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন পিকে হালদার। এসব প্রতিষ্ঠানের পরিচালক হিসেবে থাকা ৮৩ জনের ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে কৌশলে সাড়ে ৩ হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎ করেন তিনি ও তার সহযোগীরা। এর মধ্যে ইন্টারন্যাশনাল লিজিং থেকেই ১ হাজার ৫৯৬ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে পিকে হালদারের বিরুদ্ধে। সব মিলিয়ে সাড়ে ৩ হাজার কোটি টাকা তিনি আত্মসাৎ করেছেন বলে বিভিন্ন গণমাধ্যমে একের পর এক সংবাদ প্রকাশিত হয়। এ ঘটনার পর তার বিরুদ্ধে প্রায় ২৭৫ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে মামলা করেছে দুদক।

মন্তব্য করুন

সর্বশেষ নিউজ

আরো পড়ুন