শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২০, ৭:২৭ পিএম

নারায়ণগঞ্জের মসজিদে বৈদ্যুতিক সংযোগ ও এসি’র বিষয়ে নড়েচড়ে বসেছে সরকার

নিজস্ব প্রতিবেদক :
প্রকাশিত: ১২:১৬ অপরাহ্ন, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২০, সোমবার


নারায়ণগঞ্জের মসজিদে বৈদ্যুতিক সংযোগ ও এসি'র বিষয়ে নড়েচড়ে বসেছে সরকার

ছবি : সংগৃহীত

নারায়ণগঞ্জের মসজিদে বিস্ফোরণের পর সারা দেশের মসজিদগুলোর এয়ার কুলার (এসি) ও বৈদ্যুতিক সংযোগের বিষয়ে নড়েচড়ে বসেছে সরকার। বেশির ভাগ মসজিদে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি কমিটির উদ্যোগেও এসি, বৈদ্যুতিক সংযোগ পরীক্ষা করা হচ্ছে। কোনও মসজিদে অবৈধ সংযোগ, সক্ষমতা না থাকলেও অতিরিক্ত এসি, বৈদ্যুতিক যন্ত্র ব্যবহার হচ্ছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

জানা গেছে, নারায়ণগঞ্জের মসজিদে বিস্ফোরণের ঘটনার পর বিদ‌্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রণালয় শনিবার নির্দেশনা দেয়, তিন দিনের মধ্যে ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির (ডিপিডিসি) অধীন সব ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের বিদ্যুৎ সংযোগ ও এসি পরীক্ষা করার। ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছে ডিপিডিসি। অন্যদিকে রবিবার ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ও দেশের সব মসজিদের শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র ও বৈদ্যুতিক সংযোগগুলো শর্ট সার্কিটসহ অন্যান্য দুর্ঘটনা রোধে জরুরিভিত্তিতে পরীক্ষা ও মেরামতের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে ইসলামিক ফাউন্ডেশনকে নির্দেশনা দিয়েছে। ইসলামিক ফাউন্ডেশনের জেলা কার্যালয়ের তত্ত্বাবধানে স্থানীয় প্রশাসনসহ গণপূর্ত অধিদফতর ও স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতরের সহযোগিতায় মসজিদ কমিটির সক্রিয় অংশগ্রহণে জরুরিভাবে পরীক্ষা ও মেরামতের কাজ করতে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে সরজমিনে দেখা গেছে, ডিপিডিসি কর্মীরা সব মসজিদের বিদ্যুৎ সংযোগ পরীক্ষা করতে মাঠে নেমেছে। বিশেষ করে যেসব মসজিদে এসি আছে, সেসব মসজিদে এসির সংযোগ ও অবস্থান পরীক্ষা করছে সংস্থাটির কর্মীরা। এসি ব্যবহারের জন্য যে লোডের বৈদ্যুতিক সংযোগ প্রয়োজন, তা আছে কিনা খতিয়ে দেখছে তারা।

এ প্রসঙ্গে ডিপিডিসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক বিকাশ দেওয়ান বলেন, ‘মসজিদসহ ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর পর্যবেক্ষণের কাজ শুরু হয়েছে। আশা করছি তিন দিনের মধ্যে সব প্রতিষ্ঠানের তথ্য সংগ্রহ সম্ভব হবে। তখন সার্বিক বিষয়ে জানা সম্ভব হবে।’

গত কয়েক বছরে রাজধানীর মসজিদগুলোতে এসির ব্যবহার বেড়েছে। মসজিদ কমিটি সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এসি লাগানোর সময়ই এসি সরবরাহকারীদের পরামর্শ নিয়ে যথাযথ প্রক্রিয়ায় এসি বসানো হয়েছে। নির্দিষ্ট সময় পরপর এসির রক্ষণাবেক্ষণও করা হয়।

রাজধানীর মিরপুরের গরীবে নেওয়াজ জামে মসজিদে গিয়ে দেখা যায়, মসজিদটিতে চারটি এসি রয়েছে। মসজিদটির মুয়াজ্জিন ইয়াসিন মাহমুদ বলেন, ‘৩ বছর আগে মসজিদে এসি লাগানো হয়েছে। এসি লাগানোর সময় বিদ্যুতের লোকজন ও এসি বিক্রেতাদের মাধ্যমেই স্থাপন করা হয়েছে। বিক্রেতারাই এক মাস পর পর এসে এসি চেক করে যায়।’

নারায়ণগঞ্জের মসজিদে বিস্ফোরণের ঘটনার পর ডিপিডিসির লোকজন মসজিদের বিদ্যুতের সংযোগ পরীক্ষা করতে এসেছিলেন বলেও জানান ইয়াসিন মাহমুদ।

রাজধানীর মিরপুরে মনিকানন উচ্চ বিদ্যালয় জামে মসজিদে এসি রয়েছে ছয়টি। মসজিদটির মুসল্লিরা জানান, ২ বছর আগে এই মসজিদে এসি লাগানো হয়েছে। নারায়ণগঞ্জের দুর্ঘটনার পর মুসল্লিদের মাঝে আতঙ্ক তৈরি হলেও মসজিদ কমিটি জানিয়েছে, যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই এসি ব্যবহার করা হচ্ছে। ভয়ের কোনও কারণ নেই। মসজিদটির খাদেম মো. হাবিবুর রহমান বলেন, ‘আজ (রবিবার) বিকালে বিদ্যুতের লোকজন এসেছিলেন, তারা কী কী যে পরীক্ষা করে দেখেছে, আমাদের মসজিদের এসি তো নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ করা হয়।’

মন্তব্য করুন

সর্বশেষ নিউজ

আরো পড়ুন