সোমবার, ১০ আগস্ট ২০২০, ১১:০৪ এএম

উত্তরে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতির আশঙ্কা

প্রতিদিনের কাগজ প্রতিবেদক:
প্রকাশিত: ৯:৫০ পূর্বাহ্ন, ১৩ জুলাই ২০২০, সোমবার


উত্তরে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতির আশঙ্কা

ছবি : সংগৃহীত ।

দেশের উত্তরাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। দেশের ১০টি নদীর ১৫টি পয়েন্টে পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ভারী বৃষ্টির কারণে আগামী ২৪ ঘণ্টায় পানি আরও বাড়তে পারে। এতে চলমান বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতির শঙ্কা প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

ধরলা নদীর কুড়িগ্রাম পয়েন্টে পানি ৪৮ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তিস্তা নদীর ডালিয়া পয়েন্টে ১২, কাউনিয়া পয়েন্টে ১, ব্রহ্মপুত্র নুনখাওয়া পয়েন্টে ১৩, চিলমারী পয়েন্টে ১৫, যমুনা নদীর ফুলছড়ি পয়েন্টে ২৯, সারিয়াকান্দি পয়েন্টে ১৮, বাহাদুরাবাদ পয়েন্টে ৯, গূড় নদীর সিংড়া পয়েন্টে ২০, সুরমা নদীর কানাইঘাট পয়েন্টে ৮০, সিলেট পয়েন্টে ৯, সুনামগঞ্জ পয়েন্টে ৪২ সেন্টিমিটার, সারিগোয়াইন নদীর সারিঘাটে ৬, পুরাতন সুরমা নদীর দিরাই পয়েন্টে ১৬, যাদুকাটা নদীর লড়ের গড় পয়েন্টে ২ এবং সোমেশ্বরী নদীর কলমাকান্দা পয়েন্টে পানি বিপদসীমার ২৮ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের পূর্বাভাসে বলা হয়, ব্রহ্মপুত্র-যমুনা, গঙ্গা-পদ্মা এবং উত্তর-পূর্বাঞ্চলের মেঘনা অববাহিকার প্রধান নদ-নদীগুলোর পানি বাড়ছে। যা আগামী ৭২ ঘণ্টা পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে। আগামী ২৪ ঘণ্টায় যমুনা নদীর কাজিপুর ও সিরাজগঞ্জ পয়েন্ট এবং পদ্মা নদীর গোয়ালন্দ পয়েন্টে পানি বিপদসীমা অতিক্রম করতে পারে। আগামী ২৪ ঘণ্টায় তিস্তা ও ধরলা নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকতে পারে এবং বিপদসীমার ওপরে অবস্থান করতে পারে। আগামী ২৪ ঘণ্টায় দক্ষিণ-পূর্ব পার্বত্য অঞ্চলে ভারী বৃষ্টিপাতের আশঙ্কা রয়েছে। ফলে এ অঞ্চলের সাঙ্গু, হালদা, মুহুরি ও মাতামুহুরি নদীগুলোর পানি বৃদ্ধি পেতে পারে। আগামী ২৪ ঘণ্টায় নীলফামারী, লালমনিরহাট, রংপুর, কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, বগুড়া, জামালপুর, নাটোর, সিলেট, সুনামগঞ্জ ও নেত্রকোনা জেলায় বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে।

আবহাওয়া অধিদফতর জানায়, মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে রংপুর, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম, বরিশাল ও সিলেট বিভাগের অধিকাংশ জায়গায়, ঢাকা, খুলনা ও রাজশাহী বিভাগের অনেক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিও হতে পারে।

রবিবার দেশের সর্বোচ্চ বৃষ্টি হয়েছে চুয়াডাঙ্গায় ১৫৬ মিলিমিটার। এছাড়া ঢাকা বিভাগের মধ্যে নিকলিতে ১৩০, ময়মনসিংহের নেত্রকোনায় ২৪, চট্টগ্রামের ফেনীতে ৯১, সিলেটের শ্রীমঙ্গলে ৯৪, রাজশাহীর ঈশ্বরদীতে ৩৮, রংপুরের তেতুলিয়ায় ১৪o এবং বরিশালের ভোলায় ৬২ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে।

বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের নির্বাহী প্রকৌশলী আরিফুজ্জামান ভুঁইয়া জানান, ১০টি নদীর ১৫ পয়েন্টের পানি এখন বিপদসীমার ওপরে অবস্থান করছে। এখনও পানি বাড়ছে। আমরা আশঙ্কা করছি আগামী ২৪ ঘণ্টায় আরও কিছু পয়েন্টে পানি বিপদসীমার ওপরে চলে যাবে। উত্তরাঞ্চলের বৃষ্টি আর পার্বত্য এলাকায় বৃষ্টি এই বন্যা পরিস্থিতির অবনতি ঘটাতে পারে আরও।

মন্তব্য করুন

সর্বশেষ নিউজ

আরো পড়ুন