সোমবার, ১০ আগস্ট ২০২০, ১১:০০ এএম

নিউ রুম্পা নার্সিং হোমে নবজাতকের মৃত্যু, ৮০ হাজার টাকায় রফাদফা

নিজস্ব প্রতিবেদক:
প্রকাশিত: ১:১০ পূর্বাহ্ন, ১৩ জুলাই ২০২০, সোমবার


ফলোআপ

ময়মনসিংহ শহরে বাঙ্গ্যের ছাতার মত গজিয়ে উঠেছে অসংখ্য ক্লিনিক। কিছু সংখ্যক ক্লিনিকে নাম মাত্র লাইসেন্স দিয়ে ব্যবসা করে আসছে। মাস শেষে সরকারী কিছু অসাধু ব্যক্তিবর্গ এসব ক্লিনিকে বিভিন্ন সময় পদচারনা থাকে। এসব ক্লিনিক মালিক, অসাধু ভূয়া চিকিৎসক ও দালালদের কারণে রোগীদের বিভিন্ন সময় দুর্ঘটনার স্বীকার হতে হয়। এসব অসাধু কিছু ক্লিনিকে গুন্ডা লালন পালন করা হয়। ক্লিনিকে কোন দুর্ঘটনা হলে হুমকি দিয়ে ভয়ভীতি দেখিয়ে সব অপকর্ম ধামাঁচাপা দেওয়ার চেষ্টায় মরিয়া হয়ে উঠে তারা।
এ ব্যাপারে কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও তারা বলে ভিকটিমের বাবা-মা বা পরিবার কোন অভিযোগ করলে ব্যাবস্থা নেওয়া হবে। এখন প্রশ্ন তাদের অভিযোগ ছাড়া কি ব্যাবস্থা নেওয়া যায়না? এই ছোট শিশুটি অবহেলার কারণে দেখতে পারলোনা এই সুন্দর পৃথিবী। শিশুটি তার বাবা-মা লালিত স্বপ্ন হয়ে পৃথীবিতে বেঁচে থাকতে পারলোনা। কিন্তু কেন? এ দায় কে নেবে এমন প্রশ্ন বিরাজ করছে সচেতন মহলের কাছে।
জাহিদুল ইসলাম নামে একজন তার টাইমলাইনে লিখেছেন, এসব ক্লিনিকে বিরুদ্ধে কি আমরা ব্যাবস্থা নিতে পারবো না? পারবোনা কারন ছোট একটা স্টাম্পে হয়তো রফাদফা হয়েছে আমার সন্তান দুর্ঘটনায় বা স্বাভাবিক ভাবে মারা গিয়েছে। আমি মামলা করতে রাজি না। এটি বলে খালাশ হয়ে গেলো সব। এসব থেকে আমরা কবে বের হবো? আজ সত্যি আমরা জিম্মি ওদের কাছে। আর কত ঘটনা ঘটলে ওদের বিচার হবে। এদিকে একাধীক সুত্র থেকে ও এলাকাবাসীর কাছ থেকে জানা যায়, ৮০ হাজার টাকা দিয়ে নবজাতকের মৃত্যু ঘটনা রফাদফা করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, ময়মনসিংহ শহরের একটি প্রাইভেট হাসপাতালে ভুল অপারেশনে নবজাতকের মৃত্যু হয় গত বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সন্ধ্যায় শহরের চামড়া গুদাম এলাকায় নিউ রুম্পা নার্সিং হোম নামক প্রাইভেট হাসপাতালে সার্জন ডা. দেবাশীষ মন্ডল ও এনেসথেসিয়া ডা. সিদ্দিকুর রহমান দুজনের সমন্বয়ে অপারেশনকালে নবজাতকটির মাথা কেটে ফেলা হয়। এতেই তারা কান্ত না হয়ে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার জন্য কাটা জায়গায় সেলাই করে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরন করলে সেখানেই নবজাতকটির মৃত্যু হয় বলে জানান নবজাতকটির স্বজনরা।
জানা যায়, ডা. দেবাশীষ মন্ডল উপস্থিত থেকে এনেসথেসিয়া ডাক্তার সিদ্দিকুর রহমানকে দিয়ে অপারেশন করায় দেবাশীষ মন্ডল। আর এতেই এমন দূর্ঘটনায় মারা যায় নবজাতকটি। এতে নবজাতকের পরিবার ও স্বজনদের বাকরুদ্ধ করে স্থানীয় প্রভাবশালীদের নিয়ে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার পায়তারাও চালাচ্ছে বলে জানান প্রত্যক্ষদর্শীরা।
জানতে চাইলে নিউ রুম্পা নার্সিং হোমের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বাহার ক্ষুব্দ হয়ে মোবাইল ফোনে জানান, নবজাতকটির মাথায় একটি টিউমার ছিল তার মায়ের গর্ভ থেকে অপারেশনের মাধ্যমে বের করে আনার সময় টিউমারটি ফেটেঁ গিয়ে রক্তক্ষরন হলে সেলাই করা হয়। আর তাছাড়া থানা স্টাফ ও এলাকার গন্যমান্য ব্যাক্তিদের নিয়ে বিষয়টি মীমাংসা করা হয়েছে। এবং এর প্রমানাধিও আমার কাছে আছে আপনি এসে দেখে যান।
এব্যাপারে জানতে চাইলে ডা. দেবাশীষ মন্ডল মোবাইল ফোনে জানান, ব্যাথারত প্রেগনেন্সি মহিলার গর্ভের নবজাতকটি ৩৩ সপ্তাহ হওয়া এবং পানি ভাঙ্গার কারনেই অপারেশন করতে হয়েছে। এবং অপারেশনের সময় নবজাতকটির মাথায় একটি টিউমার ছিল তাকে বাহিরে বের করে আনার সময় টিউমারটি ফেটেঁ গেলে আমরা সেলাই করে দেই।
এনেসথেসিয়া ডা. সিদ্দিকুর রহমানের মোবাইলে ফোনে বারবার কল দিলেও তিনি মোবাইল ফোন রিসিভ করেননি।
এব্যাপারে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের একজন সার্জারী বিভাগের ডাক্তার বলেন, যে কোন অপারেশনের ক্ষেত্রে একটি সার্জিক্যাল টিম প্রয়োজন। এই টিমে কমপক্ষে একজন সার্জন, একজন এনেসথেসিয়া ও একজন সহকারী ডাক্তার বাধ্যতামূলক।
জানতে চাইলে গত শনিবার ময়মনসিংহের সিভিল সার্জন ডা. এবিএম মসিউল আলম জানিয়েছিলেন, নবজাতকের মৃত্যুর ব্যাপারে আমরা কোন অভিযোগ পাইনি। তাই বিষয়টি আমার জানা নেই। আমি আপনার মাধ্যমে বিষয়টি জানলাম আমি দেখে ব্যবস্থা নিব।

মন্তব্য করুন

সর্বশেষ নিউজ

আরো পড়ুন