শনিবার, ১৫ আগস্ট ২০২০, ২:২২ এএম

পোশাক রপ্তানি কমেছে ৬০০ কোটি ডলার

স্টাফ রিপোর্টার:
প্রকাশিত: ৪:৫৭ অপরাহ্ন, ৫ জুলাই ২০২০, রোববার


পোশাক রপ্তানি কমেছে ৬০০ কোটি ডলার

ফাইল ফটো

করোনা মহামারীর কারণে সৃষ্ট অর্থনৈতিক মন্দার প্রভাবে তৈরি পোশাক রপ্তানি কমেছে। গত অর্থবছরের তুলনায় সদ্য বিদায়ী ২০১৯-২০ অর্থবছরে এ খাতে রপ্তানি আয় কমেছে প্রায় ৬ বিলিয়ন বা ৬০০ কোটি ডলার। অবশ্য ধীরে ধীরে পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে। মে মাসের তুলনায় জুনে রপ্তানি বেড়েছে। এছাড়া বিশ্বব্যাপী চাহিদা বহুগুণ বেড়েছে পিপিই, মাস্ক ও গ্লাভসের মতো সুরক্ষা সামগ্রীর। আগে এসব সামগ্রীর বাজার চীনের দখলে থাকলেও আমদানিকারকরা চীন থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে। বাংলাদেশের সামনে তৈরি পোশাকের পাশাপাশি এসব পণ্য রপ্তানির বিশাল সম্ভাবনা হাতছানি দিচ্ছে।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) থেকে সংগৃহীত তথ্যের ভিত্তিতে বিজিএমইএ জানিয়েছে, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে তৈরি পোশাক খাতে মোট রপ্তানি আয় ছিল তিন হাজার ৪১৩ কোটি ৩২ লাখ ডলারের ও ২০১৯-২০ অর্থবছরে দুই হাজার ৭৮৩ কোটি ৪০ লাখ ডলারের। এ হিসাবে সদ্যসমাপ্ত অর্থবছরে এ খাতে রপ্তানি কমেছে ১৮ দশমিক ৪৫ শতাংশ।

তথ্য অনুযায়ী, সদ্যসমাপ্ত অর্থবছরে এ খাতে রপ্তানি আয়ের লক্ষ্য ছিল সাড়ে তিন হাজার কোটি ডলার। সে অনুযায়ী রপ্তানিও হচ্ছিল। কিন্তু করোনা মহামারী সব হিসাব বদলে দিয়েছে। খাদ্যপণ্য ও জরুরি ওষুধ ছাড়া অন্য সব খাতে ভোগ ব্যয় একেবারেই কমে যায়। ভয়াবহ অবস্থায় পড়ে পোশাকের বাজারে। কয়েকটি বড় ক্রেতা প্রতিষ্ঠান নিজেদের দেউলিয়া ঘোষণা করে এবং বাকি ব্র্যান্ডগুলো টিকে থাকতে দোকানপাট বন্ধ রাখে। এতে করে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানিতে নেতিবাচক ধারা শুরু হয়। শুধু এপ্রিল মাসেই গত অর্থবছরের তুলনায় রপ্তানি কমে ২২০ কোটি ডলারের মতো। গত এপ্রিলে যেখানে রপ্তানি হয়েছিল ২৫৪ কোটি ডলারের পণ্য, সেখানে সদ্যবিদায়ী অর্থবছরের এপ্রিলে রপ্তানি হয় মাত্র ৩৭ কোটি ডলারের পণ্য।

অবশ্য আশার কথা হচ্ছে, বিশ্বের বিভিন্ন দেশ লকডাউন (অবরুদ্ধ অবস্থা) তুলে দেয়ায় পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে। তাই পোশাক রপ্তানিও মে ও জুন মাসে বেড়েছে। মে মাস থেকে রপ্তানি পরিস্থিতির উন্নতি শুরু হয়, যার ধারাবাহিকতা জুনেও অব্যাহত ছিল। মে মাসে রপ্তানি হয়েছে ১২৩ কোটি ডলারের পণ্য। আর জুনে তা বেড়ে দাঁড়ায় ২১২ কোটি ডলারে।

দেশে করোনা প্রকোপের শুরুর দিকে বিজিএমইএ জানায়, করোনার কারণে প্রায় সোয়া তিনশ’ কোটি ডলরের রপ্তানি আদেশ বাতিল বা স্থগিত হয়েছে। এসব কারণে কম পুঁজির কিছু কারখানা ইতোমধ্যে বন্ধও হয়ে গেছে। পরিস্থিতির উন্নতি না হলে আগামীতে আরো বেশ কিছু কারখানা বন্ধ হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।

গার্মেন্ট মালিকরা বলছেন, পোশাকের বৈশ্বিক বিক্রির পরিস্থিতি সম্পূর্ণভাবে পুনরুদ্ধারের কোনো ইঙ্গিত নেই। পশ্চিমের অনেক দেশ এখনো লকডাউন। তারা অর্থনীতি পুনরায় সচল হওয়া নিয়ে লড়াই করছে। জুনে যেসব পণ্য রপ্তানি হয়েছে, সেগুলো আগের অর্ডারের। নতুন করে ক্রেতারা অর্ডার দিচ্ছে না। আর দিলেও আগের তুলনায় ৪০ শতাংশ। অর্থাৎ ক্রেতারা অর্ডার কমিয়ে দিচ্ছে। এ অবস্থায় সামনের দিনগুলোতে কী হবে তা আন্দাজ করা মুশকিল।

মন্তব্য করুন

সর্বশেষ নিউজ

আরো পড়ুন