সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২০, ১০:৪৩ এএম

পৃথিবীর আধাঁরে আলো ছড়ানো একজন প্রিয়া ইসলাম ফাতিহা -মাহমুদুল হাসান রতন

:
প্রকাশিত: ১১:৫১ অপরাহ্ন, ২৯ জুন ২০২০, সোমবার


আমি অন্ধকার হয়ে আঁধার ছড়াতে জন্ম গ্রহণ করিনি, আমি আলো হয়ে উজ্জ্বলতা ছড়াতে জন্ম গ্রহণ করেছি বললেন প্রিয়া ইসলাম ফাতিহা। যিনি এযুগের স্বপ্ন সারথী। অন্যকে যেমন স্বপ্ন দেখান তেমনি স্বপ্ন বাস্তবায়নে নিজের হাতটিও বাড়িয়ে দেন মানবিকতার ছোয়ায়ঁ।
আজকের বিশ্বের এনিমেটেড প্রোডাকশন প্রতিষ্ঠান ডিজনির জয়জয়কার। অথচ এ প্রতিষ্ঠানের কর্ণধার ওয়াল্ট ডিজনিকেও প্রথম জীবনে হন্যে হয়ে চাকরি খুঁজতে হয়েছিল।
অসাধারণ সব কাজের স্যাম্পলগুলো দেখিয়েও তাকে শুনতে হয়েছিল- কাজের মান ভালো নয়। অবশেষে এক ছোট কোম্পানিতে তার চাকরি হয়ে গেলে সেখান থেকে অর্জিত কিছু অর্থ নিয়েই তিনি প্রতিষ্ঠা করেন নিজের প্রতিষ্ঠান ওয়াল্ট ডিজনি যার অবস্থান বর্তমান বিশ্বে সবার আগে।
ওয়ারেন বাফেট বর্তমান বিশ্বের শ্রেষ্ঠ ধনীদের একজন। অথচ তার শুরুটা ছিল সামান্য কিছু অর্থ দিয়ে চকলেট, ক্যান্ডি, কোমল পানীয়, খবরের কাগজ কিনে বাড়ি বাড়ি বিক্রি করা।
অতীতের প্রিয়া ঘোষাল, আজকের প্রিয়া ইসলাম ফাতিহা। তার বাবা গত হবার পর সংসারের দুরাবস্থায় একটি রেস্তোরায়ঁ প্লেট পরিষ্কার ও তরকারী কাটার কাজ করতেন তিনি। বেতন পেতেন দিন প্রতি মাইনে সাত টাকা। বয়স ছিলো তখন ১০ কি ১২ বছর। জীবন যাত্রার শুরু সেখান থেকে।
কুড়ি হাজার টাকায় পথ চলা যার শুরু। কেবল মাত্র মাধ্যমিক পার করা মেয়েটি একটি এনজিওতে সাধারণ পোষ্টে চাকরি করতো দুই হাজার টাকা বেতনে। পাশাপাশি বাসায় গিয়ে চারজন ছাত্র-ছাত্রী পড়াতো। তখন লেবুতলায় এক ছাত্রের বাসার পাশে শাড়ীর ছোট একটি কারখানা ছিলো, নাম শ্রীমতী শাড়ী সেন্টার কুড়ি হাজার টাকা জমা করে শ্রীমতি শাড়ী সেন্টারের মহাজন শ্রী সজল বাবুর কাছে গিয়ে বললেন দাদা আমাকে গোটা তিনেক শাড়ীর স্যাম্পল দিবেন। আমি কাপড়ের দোকানে দেখিয়ে বিক্রি করার চেষ্টা করবো। প্রয়োজনে স্যাম্পল গুলো কিনে নিবো। তিনি রাজি হয়ে গেলেন। উনার কাছ থেকে তার পছন্দ মতো কিছু শাড়ী নিয়ে কালীঘাটের কাপড়ের দোকানে চলে গেলেন এবং শাড়ীর স্যাম্পল দেখিয়ে প্রতি শাড়ী পেছনে ত্রিশ টাকা মুনাফায় পাঁচ দোকানে একশত পিছ শাড়ীর অর্ডার পাশ করালেন। ধাপের পর ধাপে আজ তিনি একজন সফল স্বনামধন্য ব্যবসায়ী।
প্রিয়া ইসলাম ফাতিহা অতীতকে মনে রেখে স্মৃতিচারন করে বিভিন্ন সময় ফেসবুকে তার নিজের টাইমলাইনে স্টেটাসে বলেন, কতো রাত না খেয়ে কাটিয়েছি হিসেব নেই, বৃষ্টি নামলে টিনের ছিদ্র দিয়ে জল পড়তো। জীবনের কষ্টগুলো খুব কাছ থেকে দেখেছি এবং উপলদ্ধি করেছি। আজ বয়স ৩৬ এর কোটায় বর্তমান সময়ে কলকাতার তৃতীয় স্বনামধন্য ব্যবসায়ী, ফোমাল গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা, সাথে আইপিএস অফিসার। আজ কোটি টাকার বাড়িতে থাকি, কোটি টাকার গাড়িতে চড়ি। এক সময় অন্যের রেস্তোরাঁয় কাজ করতাম আর আজ পঞ্চাশটি রেস্তোরাঁর মালিক তাও এগুলো সাইড ব্যবসা।
ধনবান কতটা হয়েছি জানিনা তবে আমার তিন পুরুষ ৩শত বছর বসে খেলেও আমার ধনসম্পদ শেষ করতে পারবেনা। এই সাফল্যের পেছনে কারো হক মেরে খাইনি, চুরি চামারি করিনি, অন্যকে খাঁটিয়ে নিজের পকেট ভর্তি করিনি। আমার এক প্রতিষ্ঠানেই কাজ করে পাঁচ হাজার শ্রমিক কিন্তু কোনো শ্রমিক বলতে পারবেনা তাদের মাইনে আটকানো হয়েছে। বর্তমানেও বলতে পারি আমার প্রতিটি শ্রমিক বাড়ীতে ঘুমিয়ে থেকেও মাসিক মাইনে পাচ্ছে। এগুলো বলার উদ্দেশ্য সৎ পথে থেকেও মানুষ বিত্তবান হতে পারে। যদি সৎ মনোভাব থাকে। ১৯৯৯ সালের ডিসেম্বরের শেষের দিকে কুড়ি হাজার টাকা দিয়ে একশত শাড়ী কিনে ব্যবসা শুরু করেছিলেন প্রিয়া।
তিনি বলেন, ২০১৯ থেকে ২০২০ অবধি ৬ কোটি ১৩ হাজার শাড়ী পিছ প্রতি ১০টাকা মুনাফায় শুধু ভারতেই সেল করেছি। এক্সপোর্ট আর বাকী সব ব্যবসা তো বাদ’ই রাখলাম। এটাই হলো সততা এবং মুনাফার জোর। ব্যবসায় ধোকাবাজি করে দেখছেন দিন প্রতি হাজার টাকা লাভ হচ্ছে। কিন্তু সততার সাথে ব্যবসা করে দেখেন বছরে কোটি টাকা মুনাফা দিয়ে গেছে।
ইতিমধ্যে একাধিক প্রজেক্ট পাশ করে রেখেছি কিন্তু করোনার জন্য বাস্তবায়ন করতে পারছিনা। সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ প্রজেক্ট হচ্ছে রিসোর্ট যেটা চলতি বছর পুরোদমে কাজ করার কথা, গতবছর ১৫শ কোটি টাকার জমি কিনেও করোনার জন্য সব কাজ বন্ধ। তাছাড়া আরো একাধিক প্রজেক্টতো রয়েছেই। সব সঠিকভাবে চললে এতো দিনে আরো চার পাঁচটা প্রজেক্ট প্ল্যান করে ফেলতাম। ফার্স্ট মোডে কাজ করা অভ্যেস, স্লো মোডে কাজ করে পূষাচ্ছেনা। ২০১০সালে কেরালার কচিতে প্রতিষ্ঠিত করা হয় ক্যাফে ১৭ কেরালার একটি বিখ্যাত রেস্তোরাঁ। প্রথমে এক সাথে কেরালাতে ১৭রেস্তোরাঁ খোলা হয়, সেই সুবাদে নামকরণ করা হয় “ক্যাফে ১৭”। শ্রীলঙ্কাতেও রয়েছে তার একাধিক ব্যবসাসহ নিজের বাড়ী।
তিনি আরও বলেন, ব্যবসার মূল ফাউন্ডেশন হচ্ছে পরিকল্পনা এবং ধারণা। যদি ধারণার সাথে পরিকল্পনা না করতে পারে তাহলে পরে হাজার কোটি টাকা দিলেও ব্যবসায় উন্নতি করতে পারবেনা। যদি পরিকল্পনার সাথে ধারণা কাজে লাগাতে পারে কুড়ি হাজার টাকায় হাজার কোটি টাকা উপার্জন করতে পারবে এবং ব্যবসায় উন্নতি হবে।
অন্যদিকে পোশাক থেকে কাঁচামাল ইউরোপ থেকে এশিয়া চীনের বিকল্পকে খুঁজে নিচ্ছে ইন্ডিয়াকে। আলহামদুলিল্লাহ, সাম্প্রতিক ফোমাল গ্রুপ আরো চারটি রাষ্ট্রের সাথে রপ্তানী খাতে নতুন করে চুক্তিবদ্ধ হয়েছে। পরবর্তী প্রজেক্ট দর্শনীয় স্থানে রিসোর্ট প্রকল্প। ২০২৫ সালে ভারতের কলকাতা, দার্জিলিং, মুম্বাই, গোয়া, রাজস্থান, নেপালের কাঠমান্ডু এবং লুম্বিনিতে নির্মাণ করা হবে ৮টি অত্যাধুনিক রিসোর্ট। যার জন্য কাজ করছে ১৬টি টিম।
একজন মানবিক প্রিয়া, কিছুদিন আগে কলকাতায় বয়ে যাওয়া ঘর্নিঝড় আম্পানে ক্ষতিগ্রস্তদের সাহায্যে মানবিক মানুষ হিসেবে তার ব্যক্তিগতভাবে একাই এক হাজার কোটি টাকা দিতে ঘোষনা দিয়েছেন তিনি। এবং বলেছেন রাষ্ট্রের প্রধানমন্ত্রী এসে ক্ষতিগ্রস্তদের এক হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়ার ঘোষনা দেন এটা কি ফকিরের ভিক্ষা দিতে এসেছেন, না কি নাটক করতে এসেছেন বলেও উল্লেখ করে বলেন তিনি।
এই ভিক্ষা যদি না নেয়া হয়, দিদিকে আমি একাই দুই হাজার কোটি টাকা দিবো। আমার সব কয়টা আইডি, পেইজ, টুইটারে এমন কি দিদির কাছে খোলা চিঠিও পাঠিয়েছি বলেও জানান তিনি। এছাড়াও সাম্প্রতিক চীনের সাথে ভারতের খন্ডকালীন যুদ্ধে নিহত ভারতের ২০জন সৈনিকের প্রতিটি পরিবারকে দিয়েছেন ২কোটি টাকা করে।
মানবিকতার দৃষ্টান্ত ছড়িয়ে শুরু করেন আরেক কর্মযজ্ঞ। অনাথ এতিমদের তুলে এনে নিজের কাছে আশ্রয় দেন নিজের সন্তান হিসেবে। ইতিমধ্যে পাঁচশত সন্তানের মা হয়েছেন প্রিয়া ইসলাম ফাতিহা।
তিনি বলেন, হয়তো ভবিষ্যতে সন্তানদের সংখ্যা অগনিত হবে। একদিন অফিস থেকে বাড়ি ফিরছি পথিমধ্যে লোকদের হট্টগোল দেখে গাড়ি থামালাম। জানতে পারলাম একটি নবজাতককে কেউ রাস্তার পাশে ফেলে গেছে কিন্তু কার নবজাতক তার খোঁজ মিলছিলোনা আর কেউ সে নবজাতকের দায়িত্ব নিতে চাচ্ছেনা। তারপর আর কি, একে একে পাঁচশত সন্তানের মা হয়ে গেলাম। আমার সন্তানরা ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, পুলিশ, বিজ্ঞানী, পাইলট যার যা ইচ্ছে বড় হয়ে সে সব কর্মে দেশ সেবা করবে। ঠিক এখানেই আমার স্বার্থকতা।
একজন ধর্মানুরাগী প্রিয়া ইসলাম ফাতিহা, ধর্মীয় শিক্ষাকে আধুনিক শিক্ষায় রূপান্তরিত করতে পরিকল্পনা হাতে নিয়েছেন তিনি। তার ধারনা এক শ্রেণীর আলেমদের বেফাঁস কথার জন্য ইসলাম ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। আমাদের পূর্ব জনেরা প্রেমের জন্য তাজমহল নির্মাণ করে গেলেও, ইসলামের জন্য কিছু করে যাননি। তাই এবার তাজ মহল নয়, গড়ে যেতে চাই এমন এক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান যেটা হবে ইসলাম শিক্ষার আধুনিক মাদ্রাসা। একটি আধুনিক ইসলামিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রজেক্ট হাতে নিতে যাচ্ছি। জানিনা জীবনদ্দশায় প্রতিষ্ঠা করে যেতে পারবো কিনা। এটি যেমন চ্যালেঞ্জ তেমন রয়েছে জীবনের ঝুঁকি।
ইসলাম ধর্মের প্রতি অনুগত্য এনে বছর খানেক আগে তিনি ধর্ম গ্রহন করেছেন। প্রিয়া ঘোষাল থেকে হয়েছেন প্রিয়া ইসলাম ফাতিহা।  নিজের ধর্মে ভাবনায় প্রিয়া, প্রতিদিন একজন হিন্দু, এক মুসলিমে জন্য সাহেরী রান্না করে। এবং একজন মুসলিম প্রতিদিন এক হিন্দুর সাথে সাহেরী এবং ইফতার করে। হ্যাঁ এটাই ধর্ম। আর সেই দুজনই আমি এবং আমার মা।
ধর্ম পরিবর্তনের ব্যাপারে বলেন, ২০১৮ সালে আমার দেখা একটি স্বপ্নের কথা বলছি, সেদিন হয়তো দিনটি ছিলো বৃহস্পতিবার নয়তো শুক্রবার দিবাগত রাত। সেদিন কাজের চাপ ছিলো বেশি, তাই অফিস থেকে বাড়ি ফিরতে প্রায় অনেক রাত হয়ে যায় আর ক্লান্তও ছিলাম বেশ। ফ্রেশ হয়ে বিছানায় যেতে যেতে প্রায় রাত ১টা কি ২টা। শুয়ে শুধু এপাশ ওপাশ করছি ঘুম আসছিলোনা, খানিকক্ষণ তন্দ্রাতে তন্দ্রাতে এক সময় ঘুমিয়েও পড়লাম। ঘুমের মধ্যেই কোনো একসময় নিজেকে আবিস্কার করলাম, আমি একটি বালুক চরের মধ্যে বসে আছি আর আমার চারপাশে যতদূর দৃষ্টি যায় ততদূর শুধু জল আর জল। কিন্তু আমি বসা থেকে নড়তে পারছিনা আনমনে বসেই আছি অনেকটা বন্দীর মতো। তারও কিছুক্ষণ পর অনুভব করলাম আমার চারপাশে খুব মিষ্টি একটা সুভাষ বইছে এবং আমার নজরে পড়লো সামনে আবছা দৃশ্যে তিনজন নারীর। উনারা আমায় সালাম দিলেন এবং বললেন চলো আমাদের সাথে। উনাদের কথা শুনে নিজের শরীরে অদ্ভুত রকমের একটা শক্তি অনুভব করলাম৷ আমি বললাম আপনারা কারা? আমি কোথায় যাবো? তখন উনারা নিজ নিজ পরিচয় দিতে লাগলেন, প্রথম জন বললেন- আমি খাদিজা, দ্বিতীয় জন বললেন- আমি আয়েশা এবং তৃতীয় জন বললেন- আমি ফাতিমা। বললেন তুমি আমাদের সাথে জান্নাতে চলো মুহাম্মাদ তোমায় ডাকছেন। উনাদের একজন আমার হাত ধরে টান দিতেই সবাই হাওয়াই মিলিয়ে গেলো এবং আমার তৎক্ষণাত ঘুম ভেঙে গেলো। আমি বুঝতে পারলাম আমি স্বপ্ন দেখেছি, কিন্তু আশ্চর্য হলো তখনো সেই মিষ্টি সুভাষ অনুভব করছিলাম। সেই রাতে আর ঘুমোতে পারলাম না একসময় পাশের মাসজিদ থেকে ফজরের আজান ভেসে আসলো।
তার এক বছর পর আমি ইসলাম গ্রহণ করলাম। যিনি আমায় কলেমা পাঠ করান তিনি হলো উত্তর প্রদেশের বিখ্যাত “মাওলানা ওয়াহিদুদ্দিন খাঁন” আমি উনার কাছে আমার স্বপ্নের বিবরণ বলি, তিনি বললেন হয়তো তুমি এমন কোনো নেক কাজ করেছো যার জন্য উনারা তোমার কাছে এসেছেন এবং আজ ইসলাম গ্রহণের পেছনে সে স্বপ্নের একটি প্রভাব আছে। তিনি আরো বলেন তুমি জীবন দশায় এরকম আরো একটি স্বপ্ন দেখবে, আর অতিতের স্বপ্ন ছিলো প্রথম পার্ট।
যদি আজকের দিনের সাথে সেদিনের স্বপ্নকে মিলাই তবে সে স্বপ্ন ৮০% বাস্তবে রূপ নিয়েছে। কারণ, ইসলাম গ্রহণ করে নিজেকে বন্দী থেকে মুক্ত করলাম এবং নামাজের মাধ্যমে আল্লাহ পাকের ওয়াদা করা জান্নাতের পথে অগ্রসর হচ্ছি বলেও নিজের অনুভূতি প্রকাশ করলেন প্রিয়া ইসলাম ফাতিহা। ইসলাম ধর্ম গ্রহন করার পর একদিন সকালে ডাইনিং টেবিলে বসতেই নজরে পড়লো দেয়ালে ঝোলানো ইসলামিক চিত্র। পরক্ষণেই ভাবলাম এটি মায়ের কাজ। মনে মনে খুব খুশি হলাম কিন্তু বুঝতে দেইনি। আশাকরি অতি সত্তর মাও ইসলাম গ্রহণ করবেন। আমিও সে সময়ের অপেক্ষায় আছি।
রাজনীতিতে আসা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, চাইনা রাজনীতিতে জড়াতে। আমি ব্যবসায়ী মানুষ, ব্যবসা নিয়েই থাকি তার মধ্যে যতটুকু পারি ততটুকু দেশের জন্য তৌফিক অনুযায়ী করে যাই।
কিন্তু বর্তমান রাজনীতি দেখে সহ্য হয়না এরা ধর্ম থেকে শুরু করে মৃত মানুষ নিয়েও নোংরামো শুরু করেছে। নির্বাচন এলে প্রতিদ্বন্ধী করার জন্য আমাদের মতো ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে অর্থ নিয়ে নির্বাচন করে। আমরা কি তাদের মৃত মানুষ নিয়ে রাজনীতি করতে অর্থ দেই? অতঃপর সাবধান ব্যবসায়ীরা যদি রাজনীতির ময়দানে নামে, তাহলে নেতারা না খেয়ে মরে যাবে। ব্যবসায়ীরা নেতাদের দিয়ে চলে না, ব্যবসায়ীদের দিয়ে নেতাদের চলতে হয়। ব্যবসায়ীরা দেশ বিদেশ ব্যবসা করে, দেশ বিদেশের বাজার নিয়ন্ত্রণ করে। আর দেশ সেটা চালানোর জন্য ব্যবসায়ীরা নেতাদের চেয়ে বহু গুণে দক্ষ বলেও জানান একজন সফল শীর্ষ ব্যবসায়ী প্রিয়া।
নিজের জীবনের সফলতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এক ডিম তিন ভাগ করে খেয়েছি, এক ভাগ আমি এবং আমার মা, আর অর্ধেকটা আমার ছোট ভাই। আজ আমি স্বনামধন্য ব্যবসায়ী, এবং ছোট ভাই অস্ট্রেলিয়ার ইডলি ইউনিভার্সিটির হিস্ট্রি লেকচারার। সফলতা এটাকেই বলে আমি মনে করি।
বাবা যে বয়সে তোমরা প্রেমিক হয়ে প্রেমিকার পিছু ছুটতে, সে বয়সে আমি মাথার ঘাম পায়ে ফেলে সফলতার পিছু ছুটতাম। আজ দেখ তুমি এখনো রাস্তার মোড়ে দাঁড়ানো কোন এক দেবদাস বা মজনু বেশে, আর আমি সফলতার শীর্ষে। আজও তোমাদের কলমের কালি খরচ হয় দুলাইন কবিতায় উৎসর্গ প্রেমিকার নামে। আর আমার কলমের কালি খরচ হয় কোটি টাকার চেক বই সই করতে। বাস্তবতা বাবা বাস্তবতা। তরুণ মানে প্রেমিক হয়ে প্রেমিকার পিছু ছুটা নয়, তরুণ মানে দেশ জাতি এবং নিজের পরিচয় মজবুত করে ইতিহাস বদলে দেয়া।
সুভাষচন্দ্র বসু রোডের নাকতলার একটা রেস্তোরাঁয় প্লেট পরিস্কার এবং সবজি কাঁটার কাজ করতাম দিন প্রতি সাত টাকায়। সেই কোমল হাতে কাজের ভাড় তুলে নিয়েছিলাম এখনো কাজটা হাতেই রয়ে গেছে। দিন বদলেছে সময় বদলেছে, বদলেছে জীবনের অনেক কিছু। কতো রাত শুধু জল খেয়ে কাঁটিয়েছি হিসেব নেই। যে রেস্তোরাঁয় দিন প্রতি সাত টাকায় কাজ করতাম আজ সেই রেস্তোরাঁ’সহ আরো ৫০টি রেস্তোরাঁর মালিক তাও এগুলো আমার সাইড ব্যবসা। সে সময় দিনে পেতাম সাত টাকা। কতো রাত না খেয়ে কাঁটিয়েছি আর এখন যদি আমার তিন পুরুষ তিনশো বছরও বসে খায় তবুও তিনশো বছরে আমার অর্থ সম্পদ শেষ করতে পারবেনা। কিন্তু একটা সময় আমার বাবা চিকিৎসার অভাবে মারা গেছেন। মানুষ যদি সততার উপর টিকে থাকে, সফলতা সে মানুষকে খুঁজে আসবে। আর এটাই এযুগের বাস্তবতার আলোর দিশারী একজন প্রিয়া ঘোষাল থেকে হয়ে উঠা একজন প্রিয়া ইসলাম ফাতিহা।
লেখক: সম্পাদক, প্রতিদিনের কাগজ।

মন্তব্য করুন

সর্বশেষ নিউজ

আরো পড়ুন